শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১২:০৩:৪১ এএম

কোটা সংস্কার : আন্দোলনকারীরা দ্বিধাবিভক্ত

জাতীয় | মঙ্গলবার, ১০ এপ্রিল ২০১৮ | ০৭:২৭:২৪ পিএম

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। এ আন্দোলনের সংগঠক ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ এর বাইরে একাধিক গ্রুপ হয়েছে। মঙ্গলবার মূল কমিটির বাইরে একটি কমিটির সমর্থকদের আন্দোলনে দেখা গেছে।

মূলত কোটা সংস্কারে মূল কমিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের প্রতিনিধিদের বৈঠকের পর নতুন গ্রুপ হয়েছে। আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করার পর মূল কমিটিকে সরকারের দালাল আখ্যা দিয়েছে বিদ্রোহী গ্রুপ। সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে এই গ্রুপ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

একে অপরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে প্রতিরোধ করার হুমকি দিচ্ছে গ্রুপগুলো।

মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারীদের মধ্যে ফের উত্তেজনা শুরু হয়। সংসদের মতিয়া চৌধুরীর বক্তব্য, হলে হামলা, পুলিশি হামলার প্রতিবাদে একটা গ্রুপ রাজু ভাস্কর্যের সামনে অস্থান নেয়। তারা সরকারের কাছ থেকে কোটা সংস্কারে তিন দিনের মধ্যে লিখিত প্রতিশ্রুতির দাবি জানিয়েছে। সকালে একটি গ্রুপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রথমে মানবন্ধন করে। পরে তারা রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।

একটি গ্রুপের আন্দোলনকারী সৈয়দ জোবায়ের উদ্দিন বলেন, ‘আমরা কোটা সংস্কারের আন্দোলনের মূল কমিটির সঙ্গে একমত। তবে আমরা সরকারের মুখের কথা বিশ্বাস করি না। তিন দিনের মধ্যে সংস্কারের বিষয় লিখিত দিতে হবে। আমাদের অনেক শিক্ষার্থী আন্দোলনের সময় সন্ত্রাসী ও পুলিশি হামলার শিকার হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। হামলার বিচার করতে হবে। হলের ভেতর পুলিশ হামলার বিচার করতে হবে। এজন্য আমরা এই আন্দোলন করছি।’

তিনি বলেন, ‘অবিলম্বে কোটা সংস্কার করে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে। এর বেশি কোটা রাখা যাবে না।’

এদিকে আরেকটি গ্রুপ বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছিল গতকাল। কোটা সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। তবে তারা মঙ্গলবার আবার কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে কথা বলে তাদের আগের জায়গা থেকে সরে এসে কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত মেনে নেয়।

এই গ্রুপের কর্মী বিপাশা চৌধুরী বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) আমাদের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে ওই কথাগুলো বলা হয়। আমাকে কথাগুলো বলানো হয়েছিল। তবে আমি গতকালের বক্তব্য প্রত্যাহার করছি। আমি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গেই আছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি তখন বুঝতে পারিনি। আমি কোনো আলাদা গ্রুপের না, আমি মূল কমিটির সঙ্গেই আছি। আমাকে উম্মে হাবীবা বেনজীর নামে এক কর্মী ওই কথাগুলো বলতে বলেছিলেন।’

এই গ্রুপের উম্মে হাবীবা বেনজীর বলেন, ‘মূল কমিটির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমারা গতকাল যে কর্মসূচি দিয়েছিলাম, তা প্রত্যাহার করছি। আমাদের কোনো কর্মসূচি নেই। আজ যারা ক্যাম্পাসে কর্মসূচি পালন করছেন, তারা সাধারণ শিক্ষার্থী। আমাদের কোনো গ্রুপ নেই।’

এদিকে মূল কমিটিকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করার বিষয়ে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেছেন, ‘আমাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা খুবই দুঃখজনক। আমাদের হাত দিয়েই এই আন্দোলন শুরু হয়েছে। যারা আমাদের কমিটিকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছে, তারা আমাদের কমিটির কেউ নয়।’

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন