শুক্রবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৮ ০২:৪৯:৩৫ পিএম

পরীক্ষায় জালিয়াতি : কৃষি ব্যাংকের অফিসারসহ তিনজনের জবানবন্দি

আইন আদালত | মঙ্গলবার, ১০ এপ্রিল ২০১৮ | ০৯:৪৩:১৩ পিএম

বিশেষ ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে সরকারি ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গ্রেফতার বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রবেশনারি অফিসার সোহেল আকন্দসহ তিনজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিন দিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। তারা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেবেন বলে আদালতকে জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা।

আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম আমিরুল হায়দার চৌধুরী বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রবেশনারি অফিসার সোহেল আকন্দের, ঢাকা মহানগর হাকিম কাজী কামরুল ইসলাম আসামি জহিরুল ইসলামের এবং ঢাকা মহানগর হাকিম রায়হানুল ইমলাম আসামি আরিফুর রহমান ওরফে শাহিনের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

অপরদিকে রিমান্ড ফেরত বাকি সাতজনকে মামলার তদন্ত শেষে না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে শনিবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত বিশেষ ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে সরকারি ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গ্রেফতার ১০ জনের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আসামিরা হলেন, সোনালী ব্যাংকের আইটি অফিসার অসিম কুমার দাস, পূবালী ব্যাংকের প্রবেশনারি অফিসার মো. মনিরুল ইসলাম ওরফে সুমন এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রবেশনারি অফিসার মো. সোহেল আকন্দ, মো. জহিরুল ইসলাম, সাদ্দাতুর রহমান ওরফে সোহান, নাদিমুল ইসলাম, মো. এনামুল হক ওরফে শিশির, শেখ তারিকুজ্জামান, অর্ণব চক্রবর্তী ও আরিফুর রহমান ওরফে শাহিন।

শুক্রবার রাতে রাজধানীর মিরপুর, নিউমার্কেট ও ফার্মগেট এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ক্ষুদে ব্যাটারি, ইয়ার ফোন, মোবাইল ফোনের ন্যায় কথা বলার সিমযুক্ত মাস্টারকার্ড জব্দ করা হয়।

শনিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, বিসিএস মেডিকেল ও ব্যাংক পরীক্ষাসহ সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় ডিভাইস ব্যবহার করছে জালিয়াত চক্র। পরীক্ষার দিনে তারা চুক্তিবদ্ধদের ডিভাইস সরবরাহ করে। পরীক্ষা শুরুর ৫ মিনিটের মধ্যে ওই ডিভাইসের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র বাইরে ফাঁস করে দেয়া হয়। এরপর বাইরে থাকা প্রশ্ন এক্সপার্টদের মাধ্যমে ডিভাইসের সঙ্গে সংযুক্ত কানে লাগানো ক্ষুদে হেডফোনে এমসিকিউ বৃত্ত ভরাট করেন চুক্তিবদ্ধ পরীক্ষার্থীরা।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন