শুক্রবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৮ ০২:৫২:৫৯ পিএম

জিডিপির সরকারি হিসাবই সঠিক : পরিকল্পনামন্ত্রী

জাতীয় | বুধবার, ১১ এপ্রিল ২০১৮ | ০৬:২৫:০৮ পিএম

চলতি অর্থবছরের জিডিপির প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন নিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের প্রশ্নের জবাব দিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে এ কথা তিনি।

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, বিশ্ব ব্যাংককে মে মাস পর্যন্ত সময় দিচ্ছি। তারা এ সময়ের মধ্যে যেসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন ও সংশয় প্রকাশ করেছে, তা নিয়ে আলোচনা করবে। এরপর নিজেদের রিপোর্ট আবার রিভিউ করবে।

বিশ্ব ব্যাংকের উদ্দেশ্যে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, জিডিপি নিয়ে আমরা যে ফিগার দিয়েছি (৭.৬৫) এটাই সঠিক। আমাদের ফিগার সঠিক। চলতি অর্থবছর শেষে প্রবৃদ্ধি এর চেয়েও বেশি হবে। আমরা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বুরোর (বিবিএস) সহায়তায় এ ফিগার দিয়েছি। এখানে নয় মাসের তথ্য রয়েছে। আর বিশ্ব ব্যাংক দিয়েছে ৫ মাসের তথ্য দিয়ে।

এর আগে গত সোমবার এক প্রতিবেদনে বিশ্ব ব্যাংক জানায়, চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছর শেষে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। একই সঙ্গে সরকারের ঘোষিত প্রবৃদ্ধি ৭.৬৫ কীভাবে হয়, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলে। সরকারের এ তথ্যের অনেক কিছুই আবারও বিশ্লেষণের প্রয়োজন আছে বলে মনে করে বিশ্ব ব্যাংক।

এছাড়া বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে চলতি অর্থবছর শেষে প্রবৃদ্ধি সাত শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

মুস্তফা কামাল বলেন, বিশ্ব ব্যাংক ছাড়া আর কেউ আমাদের তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেনি। বিশ্ব ব্যাংক সব সময় এ কাজটি করে। বছরের প্রথম দিকে প্রবৃদ্ধি নিযে তারা দ্বিমত পোষণ করে, বছর শেষে আবার সেটা মেনে নেয়। এটা কেন? প্রশ্ন রাখেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিবিএস হচ্ছে ফাইনাল অথরিটি, এটা তাদের মানতে হবে। কারো কোনো বিষয়ে সংশয় থাকলে বিবিএসে যান, আলোচনা করেন। বিশ্ব ব্যাংককে বলবো আপনারা বিবিএসের নিকট বসুন, তারপরে তথ্য দিন। আমি বিশ্বাস করি আমাদের তথ্যের ফিগার সঠিক। তাদেরও উচিত এগুলো বিশ্বাস করা।

তিনি আরো বলেন, আমাদের হিসেব অনুযায়ী ৭ দশমিক ৬৫ প্রবৃদ্ধি হবে। এ নিয়ে বিশ্ব ব্যাংক ও এডিবি কথা বলেছে। আরো অনেকে বলছেন এবং বলবেন।

মন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরের ৯ মাসের হিসাবে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ হয়েছে। অর্থবছর শেষে ১২ মাসের হিসাবে চূড়ান্ত প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। কারণ সামষ্টিক অর্থনীতির গতিধারা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় আছে।

প্রবৃদ্ধির হিসাব নিয়ে বিশ্ব ব্যাংক যেসব প্রশ্ন তুলেছে সেগুলোকে স্বাগত জানিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী আরো বলেন, তারা আমাদের প্রবৃদ্ধির হিসাব প্রত্যাখ্যান করেনি, কিছু প্রশ্ন তুলেছে। এগুলোর উত্তরও আছে। প্রবৃদ্ধির হিসাব ছাড়া বিশ্ব ব্যাংক তাদের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতির অগ্রগতির ব্যাপক প্রশংসা করেছে। অর্থনীতির উন্নতির জন্য তারা কিছু সুপারিশও করেছে যেগুলোর বেশিরভাগের সঙ্গে আমিও একমত। তবে বিশ্ব ব্যাংক বলেছে অনুন্নয়ন প্রকল্প বাদ দিতে হবে। তবে তাদের এ পরামর্শের সঙ্গে আমি একমত নই। কেননা আমাদের সব প্রকল্পই বিনিয়োগ প্রকল্প। এগুলো নেওয়ার সময় নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই হাতে নেওয়া হয়। যেসব প্রকল্প বিশ্ব ব্যাংকের কাছে অনুন্নয়ন মনে হয়েছে সেগুলো আমাদের দেশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প।

পরিকল্পনামন্ত্রী আরো বলেন, বিবিএস একটি বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠিত ও সুনির্দিষ্ট রীতি নীতি মেনেই তারা প্রবৃদ্ধির হিসাব করে। এবার প্রবৃদ্ধির যে প্রাক্কলন করা হয়েছে, সেটি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করা হয়েছে। কোনো কোনো খাতের আট মাসের তথ্যও ব্যবহার করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) পর্যন্ত সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) বাস্তবায়িত হয়েছে ৪৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এ সময়ে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো ব্যয় করেছে ৭১ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা। অন্যদিকে গত অর্থবছরের একই সময়ে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছিল ৪৫ দশামক ১৫ শতাংশ। ওই সময়ে ব্যয় হয়েছিল ৫৩ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা। আশা করছি অর্থবছর শেষে শতভাগ সংশোধিত এডিপিই বাস্তবায়ন হবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, আইএমএফ এর হিসেবে আমরা ২০১০ সালে ৫৮ তম অর্থনীতির দেশ ছিলাম। পরবর্তীতে ৪৩ তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হই। বর্তমানে অর্থাৎ ২০১৮ সালে ৪২তম অর্থনীতির দেশের তালিকায় রয়েছি। এর মধ্যে ভেনিজুয়েলাকে পেছনে ফেলেছি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ২০তম অর্থনীতির দেশে যাওয়া।

মিট দ্য প্রেসে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা সচিব জিয়াউল ইসলাম, আইএমইডি সচিব মফিজুল ইসলাম, বিবিএস সচিব সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী প্রমুখ।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন