বুধবার, ১৮ জুলাই ২০১৮ ০৮:০৪:৩৮ পিএম

৪ বছর পর ইসলামি রীতিতে দাফনের নির্দেশ পেল হিন্দু থেকে মুসলিম হওয়া নিপা রাণীর লাশ !

আইন আদালত | বৃহস্পতিবার, ১২ এপ্রিল ২০১৮ | ০৬:১৯:১৯ পিএম

আইনি জটিলতায় চার বছরের অধিক সময় ধরে মর্গে থাকা ধর্মান্তরিত হওয়া নীলফামারীর হোসনে আরা লাইজুর (নিপা রানী) মরদেহ ইসলামি ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। রায়ের কপি পাওয়ার পর তিন দিনের মধ্যে মরদেহ দাফন করতে হবে। নীলফামারীর জেলা প্রশাসককে এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে দাফন কাজ স¤পন্ন করতে হবে। দাফনের আগে হোসনে আরা (নিপা রানীর) লাশ তার বাবার পরিবারকে দেখার সুযোগ দিতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ এপ্রিল) বিচারপতি মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরীর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার বামনিয়া ইউনিয়নের অক্ষয় কুমার রায়ের মেয়ে নিপা রানী রায়। তার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের ওয়ার্ড মেম্বার জহুরুল ইসলামের ছেলে হুমায়ুন কবির রাজুর প্রেম ছিল। তারা ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ধর্মান্তরিত হবার পর নিপার নতুন নাম হয় হোসনে আরা লাইজু। সুখেই কাটছিল তাদের দিন। কিন্তু বাধঁসাধে নিপার পরিবার। বিয়ের পর মেয়ের বাবার অভিযোগে ছেলে-মেয়ে দুজনকেই জেলহাজতে নেওয়া হয়। পরে তারা মুক্তি পান। কিছুদিন পর নিপা বিষপানে আত্মহত্যা করেন। এর ৫৪ দিন পর স্ত্রী হারানোর শোকে হুমায়ুন কবির রাজু বিষপানে আত্মহত্যা করেন। নিপা রানীর লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে আনা হলে ২০১৪ সালের ১০ মার্চ থেকে লাশটি হিমঘরে পড়ে আছে। লাশটি নিজের মেয়ের বলে দাবি করেন হিন্দু বাবা, আর পুত্রবধূ হিসেবে দাবি করেন মুসলমান শ্বশুর। ভালোবেসে ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে করার কারণে মরদেহ নিয়ে এমন আইনি লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েন ছেলে ও মেয়ের পরিবার। মেয়ের বাবা অক্ষয় কুমার মাস্টার নীলফামারী সদর কোর্টে মেয়ের লাশ চেয়ে মামলা করেন। কিন্তু মামলার রায়ে অক্ষয় হেরে যান। পরে তিনি সাবজজ আদালতে আপিল করেন। সেখানে ছেলের বাবা জহুরুল ইসলাম হেরে যান। এর পর ছেলের বাবা হাইকোর্টে আপিল করেন। দুজন দাবিদার হওয়ায় সেখানেও সৃষ্টি হয় আইনি জটিলতা। মামলাটি বিচারিক আদালত ঘুরে দীর্ঘদিন ধরে হাইকোর্টে আসে। রংপুর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে মরদেহ হস্তান্তর করতে পারেনি। আজ উচ্চ আদালত থেকে সিদ্ধান্ত আসে হোসনে আরার (নিপা রানী) মরদেহ ইসলামি ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন করার। আদালতে মেয়ের বাবার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সমীর মজুমদার। ছেলের বাবার পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এ কে এম বদরুদ্দোজা।

রাজুর বাবা জহুরুল ইসলাম হাইকোর্টের এ রায়ে পুত্রবধূর লাশ দাফনের অনুমতি পেয়ে জানান, তার ছেলে ভালোবেসে নীলফামারী আদালতে এফিডেভিট করে নিপাকে বিয়ে করেছিল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, ছেলে-মেয়ে দুজনই মারা গেছে। তিনি বলেন, আমার ছেলে যার সাথে একসাথে থাকতে না পেরে পৃথিবী ছেড়েই চলে গেছে অন্তত তাকে আমার ছেলের কবরের পাশে দাফন করে আবার তাদের এক করে দিতে পারবো। এতেই আমার শান্তি।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন