বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০১:০২:৩১ পিএম

শুধু অন্যদেরই উৎসব পালন দেখে তারা

জাতীয় | শুক্রবার, ১৩ এপ্রিল ২০১৮ | ০৭:৪৫:০৫ পিএম

আব্দুল খা‌লেক। বয়স সত্তরের উপরে। বা‌ড়ি ময়মন‌সিংহের মুক্তাগাছা লাইনে কল্যাণপুর গ্রা‌মে। দুই মে‌য়ে। দুজনকেই বি‌য়ে দি‌য়ে‌ছেন। তা‌দের স্বামী সিএন‌জি চালায়। আব্দুল খা‌লেকের স্ত্রী অসুস্থ। গ্রা‌মেই থা‌কেন। আর তি‌নি রাজধানী ঢাকার বি‌ভিন্ন স্থানে ভিক্ষা ক‌রেন। যা পান তা দিয়ে নি‌জে চলেন আর স্ত্রীর জন্য ওষুধ কিন‌তে টাকা পাঠান।

আজ চৈত্র সংক্রান্তি। আর রাত পোহালেই বৈশাখ। এই মানুষটির নেই বৈশাখী প্রস্তুতি। তবে আছে ভিন্ন পরিকল্পনা। আর বিত্তবানদের বৈশাখের দিনটি শুরু হয় ইলিশ-পান্তা খেয়ে। এরপর এক দিনের জন্য বাঙালিয়ানার সাজে সেজে দর্শনীয় ও পছন্দের স্থানে ঘোরা, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করা। বন্ধুদের সঙ্গে চুটিয়ে আড্ডা দেওয়া, সিনেমা দেখতে যাওয়া। কিন্তু আব্দুল খা‌লেকের মতো ভাসমান মানুষদের বৈশাখ তেমন নয়। না থাকে নতুন পোশাক, না হয় ইলিশ-পান্তা খাওয়া, না হয় বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া আর না হয় পছন্দের স্থানে ঘোরা। বছরের আর সব দিনের মতোই দিনটি কাটে তাদের।

রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে কথা হয় সেইসব মানুষের সঙ্গে। জানা যায়, পহেলা বৈশাখ পালনের জন্য নেই কোনো বাড়তি প্রস্তুতি।

রাজধানীর ফার্ম‌গেট, হাইকোর্ট এলাকা, কমলাপুর রেলস্টেশন, ধানমন্ডি লেকপাড়, মোহাম্মাদপুর ও মহাখালীর বাসস্ট্যান্ডে এমন অনেক পরিবার ও শিশুর দেখা মিলে যাদের কাছে বৈশাখের কোনো মানে নেই। পহেলা বৈশাখও যেমন, অন্যদিনগুলোও তেমন। অন্য দিনেও যেমন থাকে দুমুঠো খাওয়ার জন্য আয়ের চিন্তা, বৈশাখের দিনেও থাকে একই রকম চিন্তা।

আব্দুল খালেকের সাথে কথা হয় রাজধানীর মৎস্য ভবন এলাকায়। তিনি জানান, এক সময় শরীরে শক্তি ছিল, ‌রিকশা চালাতেন, কাজ করতেন। সু‌খেই ছিলেন। আর এখন গায়ে শক্তি নেই। তাই বাঁচার জন্য ভিক্ষা করেন। বৈশাখের দিনে একটু বেশি ভিক্ষা পেলে অসুস্থ বউয়ের জন্য একটু বেশি টাকা পাঠাবেন- এটাই তার ভিন্ন পরিকল্পনা।

বৈশাখ উদযাপন প্রসঙ্গে তি‌নি ব‌লেন, ঈদেই ভা‌লো খাবার খেতে পারি না, জামাকাপড় কিনতে পারি না, আর তো বৈশাখ! যত দিন বেঁ‌চে আ‌ছি দু‌বেলা খে‌তে পার‌লেই হয়। মে‌য়েরা কোনোপ্রকার সহযোগিতা করে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তা‌দেরই সংসার চলে টানেমানে। আমা‌কে দেবে কীভাবে?

কথা হয় স‌কিনা বেগমের সঙ্গে। তিনি রাস্তায় ভাত বি‌ক্রি ক‌রেন। তার স্বামী অসুস্থ। তাই সংসারের হাল তাকেই ধরতে হয়েছে। দুই মে‌য়ে। তারা ফুল বি‌ক্রি ক‌রে। শুধু ভাত বি‌ক্রি ক‌রে স্বামীর ওষুধ ও সংসার চ‌লে না ব‌লে মে‌য়েদের দি‌য়ে ফুল বি‌ক্রি করান। ‌তি‌নি ব‌লেন, আমা‌দের মতো মান‌ু‌ষের আবার বৈশাখী উৎসব! দু‌বেলা খে‌তে পার‌লেই আমরা সু‌খি।

দরিদ্র ও ছিন্নমূল পরিবারে জন্ম নেওয়া শিশুরাও জানে না প‌হেলা বৈশা‌খের আনন্দ আসলে কী। বাবা-মায়ের অভাবের মধ্যেও এসব সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা শুধু অন্যদেরই উৎসব পালন দেখে থাকে। আর কিছু রোজগারও করতে পারে। কারো ফুল বিক্রি করে রোজগার হয় আর কারো খালি বোতল কুড়িয়ে।

শুধু রাজধানী ঢাকা নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে দিনমজুর, খেটে খাওয়া মানুষ যারা আছেন, তাদের কাছে বৈশাখ অন্যান্য দিনের মতো।


খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন