মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮ ১০:০১:১১ পিএম

বাউফলে নিজ গ্রামে রাজীবের দাফন

শিক্ষাঙ্গন | মঙ্গলবার, ১৭ এপ্রিল ২০১৮ | ০৪:৩১:০১ পিএম

রাজধানীর কারওয়ানবাজারে সার্ক ফোয়ার সামনে দুই বাসের চাপায় হাত হারানো তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী রাজীব হোসেনের দাফন পটুয়াখালীর বাউফলে নিজ গ্রামে সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।

সোমবার দিনগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকাকালীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজীবের মৃত্যুর খবর তার স্বজনদের জানান। খবর পেয়ে রাতেই নিহতের মামা ও চাচা হাসপাতালে উপস্থিত হন। রাজীবের মরদেহ ঢাকা মেডিকেলের মর্গে রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার ময়নাতদন্তের পর সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে তার মরদেহ পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নিজ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানেই রাজীবের দাফন সম্পন্ন হবে।

গেলো তিন এপ্রিল রাজধানীর বাংলামটরের দিক থেকে ফার্মগেটমুখী বিআরটিসির একটি দোতলা বাসের পেছনের ফটকে দাঁড়িয়ে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতকের (বাণিজ্য) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেন। হাতটি বেরিয়েছিল সামান্য বাইরে। হঠাৎই পেছন থেকে স্বজন পরিবহনের একটি বাস বিআরটিসির বাসটিকে ওভারটেক করার জন্য বাঁ দিক গা ঘেঁষে পড়ে। দুই বাসের প্রবল চাপে রাজীবের হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

পরে তাকে রাজধানীর শমরিতা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন বুধবার তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাজীবের সুচিকিৎসার জন্য সাত সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। চিকিৎসার সমস্ত খরচ বহন করে সরকার।

সেখানে সাময়িক উন্নতির পর গত সোমবার থেকে তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। রাজীবের মস্তিষ্ক অসাড় হয়ে যায়। সে থেকে আর জ্ঞান ফেরেনি তার।

রাজীবের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফলে। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় মা এবং অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবাকে হারান। রাজীব ও তার ছোট দুই ভাই পটুয়াখালীর বাউফলে নানার বাড়িতে ছিলেন। ঢাকার মতিঝিলে খালার বাসায় থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন স্নাতকে।

নিজের পায়ে দাঁড়াতে কম্পিউটার কম্পোজ, গ্রাফিকস ডিজাইনের কাজ শিখছিলেন। ছাত্র পড়াতেন। দম ফেলার ফুরসত পাননি। লক্ষ্য ছিল একটাই, নিজের পায়ে দাঁড়ানো, ভাই দুটির দায়িত্ব নেয়া। কিন্তু আজ সবাইকে রেখে রাজীব চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন