শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৫:৫৯:২১ পিএম

রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় আহতদের ৪৮ শতাংশ কাজে অক্ষম

জাতীয় | মঙ্গলবার, ১৭ এপ্রিল ২০১৮ | ১০:৫২:১৭ পিএম

সাভারের রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকদের ৪৮ শতাংশ কাজ করতে পারেন না বলে অ্যাকশন এইডের এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দুর্ঘটনার পাঁচ বছর পার হলেও আহতদের শারীরিক ও মানসিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।

এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও পোশাক খাতের উন্নয়নে সরকার, মালিক ও ক্রেতারা যে উদ্যোগ নিয়েছিল তার যথাযথ বস্তাবায়ন হয়নি। পাশাপাশি শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন, মজুরি, কারখানার ভবন নির্মাণ ও এ খাতের আইন প্রণয়নে উদ্যোগের অভাব রয়েছে।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে রানা প্লাজা ধসে পড়ে। এতে ১ হাজারের বেশি শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটে। বিষয়টি নিয়ে সারা বিশ্বে তুমুল আলোচনা হয়। শ্রমিক নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অনকে ক্রেতা বাংলাদেশবিমুখ হন বলে গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশিত হয়।

অ্যাকশন এইড তাদের গবেষণায় আহত ২০০ শ্রমিকের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ১২ শতাংশ আহত শ্রমিকের শারীরিক অবস্থা আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে। ২২ শতাংশ শ্রমিক এখনো মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ শ্রমিক এখন কোনো কাজ করতে পারেন না।

স্মরণকালের বৃহৎ এ দুর্ঘটনায় আহত ২২ শতাংশ শ্রমিক পোশাক কারখানায় যোগ দিয়েছেন বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার ঢাকার ব্র্যাক-ইন সেন্টারে গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে অ্যাকশন এইড। গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরেন অ্যাকশন এইড, বাংলাদেশের ম্যানেজার নুজহাত জেবিন। অনুষ্ঠানে সরকার, মালিক, বিদেশী ক্রেতাসহ শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে এ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর শ্রমিকরা প্রথমদিকে কিছুটা ক্ষতিপূরণ পেলেও তারা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারছেন না।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান বলেন, সাভার দুর্ঘটনার পরও অনেকের টনক নড়েনি। ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে বিধিমালা মানা হচ্ছে না। ওই দুর্ঘটনার পর ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করা হলেও তা ভাঙা হয়নি। এ বিষয়ে জবাবদিহিতাও নেই।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন