শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৫:০১:৫৮ পিএম

জাবিতে ভিসিবিরোধী শিক্ষকদের অবরোধ, প্রশাসনিক ভবনে তালা

নুর হাছান নাঈম | শিক্ষাঙ্গন | বুধবার, ১৮ এপ্রিল ২০১৮ | ০২:০৪:২৫ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আ.লীগ পন্থী শিক্ষকদের দুই গ্রুপ (উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম ও সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফ এনামুল কবির) এর শিক্ষকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় দ্বিতীয় দিনের মতো প্রশাসনিক ভবন অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন শরীফ এনামুল কবির পন্থী শিক্ষকরা।

এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তা প্রত্যাখ্যান করে ‘হামলাকারী’ শিক্ষকদের বিচার দাবি ও প্রক্টরিয়াল বডির অপসারন চেয়ে ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ এর ব্যানারে সকাল আটটা থেকে অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেছেন তারা। কর্মসূচি চলবে বেলা ১২ টা পর্যন্ত। তারপর মানববন্ধন করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন শরীফ এনামুল কবিরের অনুসারী শিক্ষকদের সংগঠনের মুখপাত্র ও দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফরিদ আহমেদ বলেন।

দুই প্রশাসনিক ভবন অবরোধ থাকার কারণে প্রশাসনের কোন কর্মকর্তা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। ফলে সকল ধরণের প্রশাসনিক কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে ক্লাস-পরীক্ষা ধর্মঘটের আওতা মুক্ত রয়েছে।

এছাড়া উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষকদের সাথে উপাচার্যের ডাকা আজকের মতবিনিময় সভাও বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

এদিকে শিক্ষকদের হাতাহাতির ঘটনায় গতকাল একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক হারুন অর রশীদ খানকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ এবং ডেপুটি রেজিস্ট্রার (টিচিং) মোহাম্মদ আলী সদস্য সচিব।

এর আগে মঙ্গলবার ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশমাইল এলাকায় পরিবহন ডিপোর সামনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম এবং সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবিরের অনুসারী শিক্ষকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

উপাচার্য ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট-১৯৭৩, স্ট্যাটিউট ও সিন্ডিকেট পরিচালনা বিধি লঙ্গনের অভিযোগ এনে আহুত ধর্মঘটের অংশ হিসেবে ভোর চারটার দিকে শরীফ এনামুল কবিরের অনুসারী ৫ জন শিক্ষক পরিবহণ ডিপোর সামনে অবস্থান নিয়ে তারা ডিপোর ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এসময় ঘটনা জানতে পেরে সাড়ে চারটার দিকে ফারজানা ইসলামের অনুসারী শিক্ষকরা সেখানে উপস্থিত হয়ে তালা খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানালে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তালা খুলতে একপর্যায়ে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন দুপক্ষের শিক্ষকরা।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন