বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১২:৪৮:৫২ পিএম

কোটা সংস্কার না বাতিল?

জাতীয় | বৃহস্পতিবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৮ | ১০:৩৯:১৮ এএম

শীর্ষকাগজের সৌজন্য: সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ সংরক্ষিত কোটা সংস্কারের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে দেশের মেধাবী ও বঞ্চিত তরুণরা আন্দোলন করেছেন। কেউ কোটা ব্যবস্থা বাতিলের দাবি করেননি। কেননা, দেশের সংবিধানেও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য সমতা নিশ্চিত করতে সরকারকে কোটা সংরক্ষণের অধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানের সঙ্গে তাদের নাতি-পুতিকে ৩০ শতাংশ কোটা সুবিধার আওতায় আনার পরই আন্দোলনের শুরু। বিশেষ করে ২০১৩ সাল থেকে এই আন্দোলন জোরদার হয়। যা মাঝে ঝিমিয়ে পড়লেও চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি আবারও চাঙ্গা হয়। আর বিস্ফোরণ ঘটে গত ৮ এপ্রিল। চলে ১১ তারিখ পর্যন্ত। সারা দেশের সব পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ এমনকি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও কোটা সংস্কারের দাবি নিয়ে রাজপথে নামেন। অবাক ব্যাপার হলো নারীদের জন্য ১০ শতাংশ ও ১০ শতাংশ জেলা কোটার সুবিধাপ্রাপ্তরাও কোটা সংস্কারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন। আন্দোলন শুধু ঢাকায় নয় জেলায় জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। কারণ, সংরক্ষিত নারী ও জেলা কোটার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এতে কে কোটায় আর কে মেধায় নিয়োগ পান তাও বুঝা যায় না। বরং ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে এসব কোটা দীর্ঘদিন ধরে অপব্যবহার হওয়ায় এই আন্দোলনে অংশ নেন নারীরাও। জেলাগুলোতে আন্দোলনে সারা দেশের মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। লাখ লাখ তরুণ-তরুণী সর্বমোট কোটা ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি তোলায় অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানরাও বিদ্যমান কোটা সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নেন। কোটার মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমানিত এবং তরুণ প্রজন্মের বিপক্ষে তাদেরকে দাঁড় করানোর অভিযোগও তোলেন তারা। তবে সাংবিধানিক বাধ্য-বাধকতায় প্রতিবন্ধীসহ পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা বহাল রাখার পক্ষে ছিলেন সবাই। শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কারের এ দাবিকে যৌক্তিক বলে মত দেন সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিষয়টি সমাধানে সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বৈঠক হয়। কিন্তু এর পরই সংসদে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে গালি দেন। পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, ‘কোটার দরকার নেই, কোনো কোটাই থাকবে না’। কিন্তু বাস্তবে কি কোটা একেবারে তুলে দেয়া সম্ভব? তাছাড়া আন্দোলনকারীরা কোটা বাতিলের দাবি না করলেও প্রধানমন্ত্রী কেন বাতিলের ঘোষণা দিলেন? এ নিয়ে তৈরি হয় নতুন বিতর্ক, আলোচনা-পর্যালোচনা। তবে সবার দৃষ্টি প্রজ্ঞাপন জারির দিকে। কারণ, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর বিষয়টি সরকার কীভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়- তার উপরই নির্ভর করবে পরবর্তী পরিস্থিতি।

যে ৫ দফা দাবি ছিল শিক্ষার্থীদের

নতুন বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার আন্দোলন পরিষদের ব্যানারে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। যার সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের দাবি ছিল, কোটা বাতিল নয়, সংস্কার চাই। এ জন্য তারা ৫ দফা দাবি ঘোষণা করেন। দাবিগুলো হলো: ১. কোটার পরিমাণ ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা। ২. কোটার যোগ্যপ্রার্থী না পেলে শূন্যপদে মেধায় নিয়োগ। ৩. বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা না নেওয়া। ৪. সকলের জন্য অভিন্ন বয়সসীমা নির্ধারণ এবং ৫. চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহারের সুযোগ না দেওয়া।

বিদ্যমান কোটায় যা আছে

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থায় মাত্র ২.৬৩ শতাংশ নাগরিকের জন্য রয়েছে ৩৬ শতাংশ কোটা। এর মধ্যে ১.২ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য ৫ শতাংশ, ১.৪০ শতাংশ প্রতিবন্ধীর জন্য ১ ভাগ, ০.১৩ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের নাতি-পুতিদের জন্য শতকরা ৩০ ভাগ কোটা। এছাড়া ১০ ভাগ নারী এবং ১০ ভাগ জেলা কোটাসহ সরকারি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটার পরিমাণ ৫৬ ভাগ। বাকি মাত্র ৪৪ শতাংশ পদের জন্য লড়াই করতে হয় লাখ লাখ মেধাবী চাকরি প্রত্যাশীকে। নন-ক্যাডার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরির ক্ষেত্রেও একই কোটা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। এক্ষেত্রে জেলা ও নারী কোটায় নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি হয়। কে মেধায় আর কে কোটায় চাকরি পান তা স্পষ্ট নয়। বরং কোটা থাকায় মেধাবী নারীরা চাকরিতে প্রবেশের পর নিজেদেরকে অপমানিত বোধ করেন। এদিকে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে এই কোটার পরিমাণ আরও ভয়াবহ। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, এই দুই শ্রেণির চাকরিতে কোটার পরিমাণ প্রায় ৭০ শতাংশ। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রেও এ ধরনের কোটা ব্যবস্থা রয়েছে। এতে শিক্ষার ক্ষেত্রেও মেধাবীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

২০১০ সালের ৫ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত পরিপত্রে বলা হয়, ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তান/নাতি-নাতনি, নারী কোটা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র জেলা কোটা ১০ শতাংশ, নৃ-গোষ্ঠীর জন্য ৫ শতাংশ। প্রথমে জনসংখ্যা ভিত্তিক জেলা কোটা (১০ শতাংশ) অনুযায়ী উপযুক্ত প্রার্থীদের মাধ্যমে পূরণ করতে হবে। জেলা কোটার সব পদ প্রার্থীদের দিয়ে পূরণ সম্ভব না হলে জেলা কোটার শূন্য পদ জাতীয় মেধা তালিকা থেকে তা পূরণ করতে হবে। বিভিন্ন জেলার জন্য বিতরণ করা কোটায় যোগ্যপ্রার্থী বিবেচিত না হলে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বিশেষ কোটার প্রার্থীদের দিয়ে বিশেষ কোটাভিত্তিক মুক্তিযোদ্ধা, নারী ও উপজাতীয়দের জন্য জাতীয়ভিত্তিক মেধা তালিকা প্রণয়ন করতে হবে। এরপর বিশেষ কোটার অধীন জাতীয় ভিত্তিক স্ব স্ব কোটার প্রার্থীদের জাতীয় তালিকা থেকে পূরণ করতে হবে। ২০১৩ সালের পরিপত্রে বলা হয়, শান্তিচুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী অধিবাসীদের জন্য সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে। যদি যোগ্যপ্রার্থী না পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে প্রেষণে ও নির্দিষ্ট মেয়াদে ওই পদে নিয়োগ দেওয়া যাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, মুক্তিযোদ্ধা কোটাকে নাতি-পুতি পর্যন্ত টেনে নেয়ায় এর বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়। যা চূড়ান্ত রূপ নেয় ২০১৮ তে এসে। যারা মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানের কোটার পক্ষে তারাও নাতি-পুতির বিরোধী। তাছাড়া, এর মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমানিত করা হয়েছে বলেও বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদসহ সমাজের বিশিষ্টজনদের অভিমত। এমনকি মুক্তিযোদ্ধারাও এমন কোটায় নিজেরা অপমানবোধ করছেন। বিশেষ করে সম্প্রতি সারা দেশে শিক্ষার্থীদের বিদ্যমান কোটা সংস্কারে গণজোয়ারে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানরাও প্রচলিত কোটার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। সবাই দাবি তোলেন কোটাকে একটি যৌক্তিক পর্যায় নিয়ে আসার। তবে কেউ-ই কোটা বাতিলের পক্ষে নন।
কোটা সংস্কারের দাবিতে সবশেষ যা ঘটলো

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের শুরু হয়। ১৪ মার্চ হাইকোর্ট মোড়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি হামলা ও দেড়শতাধিক মেধাবী চাকরিপ্রার্থীকে গ্রেফতার করে। পরে আন্দোলনকারীদের ৮০০ জনকে আসামি করে শাহবাগ থানা পুলিশ মামলা করে। এর পর ৮ এপ্রিল সারা দেশে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে এক নতুন মাত্রা যোগ করে। যা সরকারের উচ্চ মহলকেও বেশ ভাবিয়ে তুলেছে। তবে ৮ এপ্রিল গভীর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৪টি মামলা হয়েছে। এতে কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি।

কোটা সংস্কার চান মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরাও

সর্বশেষ কোটা সংস্কারের আন্দোলনে ছিলেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরাও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলা আন্দোলনে তারা একাত্মতা পোষণ করে আন্দোলন করেছেন। তাদের একজন আফসানা সাবা। আফসানা সাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি দলের হয়ে সচিবালয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন সাবা। ওই বৈঠকে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে বৈষম্যমূলক কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করছি।’ এছাড়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ ক’জন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানও এ আন্দোলনে যোগ দেন। এ অপরাধে পরে ছাত্রলীগ তাদেরকে হল থেকে বের করে দেয়।

আন্দোলনের সমর্থনে ছাত্রলীগ নেতাদের পদত্যাগ

চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের পদধারী একাধিক নেতা। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তারা নিয়মিত কর্মসূচিতে অংশ নেন। ৮ এপ্রিল শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ নেতাদের হামলার ঘটনায় তাদের বেশ ক’জন পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া ছাত্রলীগ নেতারা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস অনুষদের ট্যুরিজম বিভাগ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল্লাহ সাইফ, শহীদ সার্জেন্ট জহরুল হক শাখা ছাত্রলীগের উপ-আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক অছিবুর রহমান, ফলিত পরিসংখ্যান বিভাগ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শরীফ হাসান সুজন প্রমুখ। এছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৭ জন নেতাকর্মীও কোটা সংস্কার ইস্যুতে ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করেন।

সংবিধানে যা আছে

সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে সুযোগের সমতা অংশের ১৯-এর (৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন।’ একইভাবে সংবিধানের তৃতীয় ভাগে সরকারি নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতা অংশের ২৯-এর (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সমতা থাকিবে।’ অনুচ্ছেদ (২)-এ বলা হয়েছে, ‘কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের অযোগ্য হইবেন না কিংবা সেই ক্ষেত্রে তাঁহার প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করা যাইবে না।’ অনুচ্ছেদ (৩)-এ ‘এই অনুচ্ছেদের কোন কিছু-(ক) নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশ যাহাতে প্রজাতন্ত্রের কর্মে উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব লাভ করিতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যে তাঁহাদের অনুকূলে বিশেষ বিধান প্রণয়ন করা হইতে, (খ) কোন ধর্মীয় বা উপ-সম্প্রদায়গত প্রতিষ্ঠানে উক্ত ধর্মালম্বী বা উপ-সম্প্রদায়ভুক্ত ব্যক্তিদের জন্য নিয়োগ সংরক্ষণের বিধানসংবলিত যে কোন আইন কার্যকরা করা হইতে, (গ) যে শ্রেণীর কর্মের বিশেষ প্রকৃতির জন্য তাহা নারী বা পুরুষের পক্ষে অনুপযোগী বিবেচিত হয়, সেইরূপ যে কোন শ্রেণীর নিয়োগ বা পদ যথাক্রমে পুরুষ বা নারীর জন্য সংরক্ষণ করা হইতে, রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।’ এছাড়া সংবিধানের ৭-এর (২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সহিত অসামঞ্জস্য হয়, তা হইলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ ততখানি বাতিল হইবে।’

এসব বিধান বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশেষ ক্ষেত্রে কোটা সংরক্ষণের ক্ষমতা সংবিধানে অনুমোদন করে। তবে সেটা ঢালাওভাবে সব ক্ষেত্রে এবং স্থায়ীভাবে করা সংবিধান পরিপন্থী। আর কত শতাংশ হারে সেটি করা হবে- সে বিষয়ে বিশেষ বিধান করে নির্ধারণ করতে পারে সরকার। অর্থাৎ সময় ও পরিস্থিতির আলোকে বাড়ানো বা কমানোর সুযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, সংবিধানে সব নাগরিকের সমতা নিশ্চিতের জন্য বলা হয়েছে। তিনি সংবিধানের ৭-এর (২) অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে বলেন, কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত সংবিধানে বিশেষ ব্যবস্থা রাখার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে কোটা যদি শূন্য হয়ে যায়, তাহলে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর সমতা লাভের যে সুযোগ, সেটা থেকে তারা বঞ্চিত হতে পারে। কাজেই সংবিধানের সমতার ধারনার সঙ্গে কোটা পদ্ধতি বাতিল অসামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে।’

কোটার সুবিধাভোগীরা কী বলছেন?

জাতীয় আদিবাসী পরিষদের (উপজাতি) সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর আমরা অপেক্ষা করছি বিষয়টি কোন দিকে যায়। সরকারি চাকরিতে উপজাতি বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য ৫ ভাগ কোটা সংরক্ষণ করা হয়েছে। এটা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী এই অধিকার খর্ব অর্থাৎ যদি কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হয়, তাহলে অবশ্যই আমরা আদালতের দ্বারস্থ হব।’ জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় কমিটির মহাসচিব আনোয়ার হোসেন পাহাড়ী বলেন, এক শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীর দাবির মুখে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী সব কোটা প্রথা বাতিল করেছেন। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযোদ্ধাদের শতকরা ৩০ ভাগ কোটা বহাল করেন। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনো আপত্তি নেই। শেষ পর্যন্ত এটা বাতিল করা হলে আমরা উচ্চ আদালতে যাব।’

কৃষিমন্ত্রীকে বরখাস্তে বঙ্গবীরের আল্টিমেটাম

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম বলেছেন, ‘আমার ছাত্ররা দাবি করলো কোটা সংস্কারের। আর আপনি (প্রধানমন্ত্রী) সংসদে বললেন, এরকম বারবার আন্দোলন হবে তাই কোটা না থাকলেই চলে। ছাত্ররা চাইলো সংস্কার আপনি করলেন বাতিল। আপনি কেন, এই কোটা বাতিল করার ক্ষমতা কারো নেই।’
১৩ এপ্রিল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আপনি কোটা বাতিল করতে পারবেন না, এই ক্ষমতা আপনার নেই। সংসদে উপস্থাপন করেছেন কিন্তু এর জন্য কোনো আইন পাস হয়নি। শুধু সংসদে বললেই হয় না, তার জন্য আইন লাগে।’ তিনি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যে মন্ত্রী (কৃষিমন্ত্রী) আমার সন্তানদের রাজাকারের বাচ্চা বলে মন্তব্য করেছেন, আমি মনে করি এটি বাঙালি জাতিকে বলেছে, স্বাধীনতাকে বলেছে। যদি আগামী এক মাসের মধ্যে আপনি এই মন্ত্রীকে (মতিয়াকে) মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত না করেন, তাহলে এ দেশের জনগণ আপনার মন্ত্রিসভাকে বরখাস্ত করে দিবে।’

ইশার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার, ঢাবিতে হলে হলে আতঙ্ক

নানা চাপ, হুমকি, আতঙ্কে রয়েছে কোটা সংস্কার আন্দোলনে জড়িত সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এরই মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী হল ছেড়েছেন। কবি সুফিয়া কামাল হলে ছাত্রীর পায়ের রগ কেটে দেয়ার দায়ে বহিষ্কৃত হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইফফাত জাহান ইশাকে স্বপদে ফিরিয়েছে ছাত্রলীগ। ১৩ এপ্রিল সংগঠনটির সভাপতি মো. সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইশার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের এ তথ্য জানানো হয়। এরপর দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান ছাত্রলীগ নেত্রী ইশাকে ছাত্রত্ব ফিরে দেয়ার কথা জানান একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে। এর আগে ১২ এপ্রিল রাতে ছাত্রলীগ নেত্রী ইশা হলে ফিরছেন এমন আতঙ্কে রাতেই হল ছেড়েছেন অন্তত ২৮ জন সাধারণ ছাত্রী। পরের দিন সকালে আরও বেশ ক’জন ছাত্রী হল ছেড়েছেন বলে জানা গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য হলেও কোটা সংস্কার আন্দোলনে যাওয়া শিক্ষার্থীদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন ধরনের হুমকি, হয়রানি ও ব্লেমগেইম চলছে আন্দোলনকারী কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের বিরুদ্ধেও। অন্যদিকে আন্দোলনকারী কোনো শিক্ষার্থী বা কেন্দ্রীয় কমিটির কাউকে কোনো ধরনের হয়রানি হলে দাঁত-ভাঙা জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। হয়রানি না করতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতারা কথা বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে।

এদিকে ইশাকে ছাত্রত্ব ফিরে দেওয়ার বিষয়ে ভিসির বক্তব্যের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত আমি জানি না। ছাত্রত্ব ফিরে দেয়ার বিষয়ে কেউ আমার সঙ্গে আলোচনাও করেনি। আমি জানিও না।’ হলটির একাধিক ছাত্রী জানান, ইশা হলটির নেতৃত্বে আসার পর থেকে সাধারণ ছাত্রীদের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন করে থাকেন। বিভিন্ন সময় মারধরও করা হয়েছে অনেককে। কোটা সংস্কার আন্দোলনে যারা সক্রিয় তাদের নানা ধরনের হুমকি দিয়েছেন তিনি। কিন্তু এত দিন কেউ ভয়ে মুখ খুলেননি। সর্বশেষ তিনি আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক ছাত্রীর পায়ের রগ কেটে দেন গত ১০ এপ্রিল রাতে। ঘটনার পর অনেকে ইশার নানা ধরনের অনিয়মের বিষয়ে মুখ খুলেছেন। এখন ইশা হলে ফিরলে আগের চেয়েও বেশি নির্যাতন শুরু হবে সাধারণ ছাত্রীদের ওপর। তাই আমরা হলে এখন অনিরাপদ বোধ করছি। ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় হল ছাড়ার সময় এক ছাত্রী বলেন, ‘হলের সভাপতি হলে আসছেন শুনে আমরা হল ছাড়ছি। তিনি আমাদের মারধর করেন। সেদিন এক ছাত্রীর পায়ের রগ কেটে দেয়ায় আমরা তার প্রতিবাদ করি। তিনি হলে আসলে আমরা আবারো নির্যাতিত হবো। তাই চলে যাচ্ছি।’ অন্য এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘তিনি আমাকে মারধর করেছেন। গেস্টরুমে নির্যাতন করতেন। তিনি হলে আসলে আবারো এই কাজ করবেন বলে আমি হল ছাড়ছি।’ তবে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিতা রেজওয়ানা রহমান বলেন, ‘সে বহিষ্কৃত। তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত হলে উঠতে পারবে না। আর যেসব মেয়েরা হল ছাড়ছে তাদের বিষয়ে আমি অবগত নই।’

এদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনে সক্রিয় থাকা অন্যান্য হলের ছাত্র-ছাত্রীদেরও নানা ধরনের হুমকি দিচ্ছে ছাত্রলীগ- এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিরোধী দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করা হচ্ছে কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। ফেসবুকে ছড়ানো হচ্ছে বিভিন্ন ‘অপপ্রচার’। ইতিমধ্যে হল ছেড়েছে অনেকে। ১৩ এপ্রিল দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচার চালানোর প্রতিবাদ ও হয়রানির অভিযোগ করে আন্দোলনকারীদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান কোটা সংস্কার আন্দোলনের ফেসবুক গ্রুপ থেকে লাইভে বক্তব্য রাখেন। এ সময় রাশেদ তার বক্তব্যে নিজের ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমাকে বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃৃক্ত ও ভিসি স্যারের বাসায় হামলাকারী বলে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। আমি বলতে চাই, আমি এসবের কিছুর সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। যদি সম্পৃক্ত থাকতাম তাহলে গত দুই মাস যাবৎ গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা আমার পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব খোঁজাখুঁজি করেও কিছু পায়নি কেন?’ এ সময় রাশেদ বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে সত্যের পক্ষে ছিলাম। এখনো আছি। আর আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটি ও আন্দোলনকারীদের ওপর যাতে কোনো ধরনের হয়রানি না হয় সে বিষয়ে সবাই সজাগ থাকবেন।’ যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর বলেন, ‘নতুন নাটক তৈরি করে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বোকা বানাতে চেষ্টা করবেন না। শিক্ষার্থীরা আবার রাজপথে নামলে কিন্তু পালাবার পথ পাবেন না।’

দেশে ৪ কোটি ৫৫ লাখ তরুণ বেকার

চলতি বছরের গত ২০ মার্চ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর শ্রমশক্তির হিসাবে বর্তমানে বেকারের সংখ্যা ৪ দশমিক ২ শতাংশ। আগের বছরও ৪ দশমিক ২ শতাংশ ছিল। এদিকে বেকারত্বের হিসাব নিয়ে সরকারি এই প্রতিবেদনকে অস্বাভাবিক বলা হচ্ছে। কারণ, এতে দেশে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ৮০ হাজার দেখানো হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত বেকার বা চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা এর তুলনায় অনেক বেশি।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর শ্রম জরিপের রিপোর্টে দেখা যায়, কাজের ধরণ অনুযায়ী, বাংলাদেশে কর্মক্ষম মানুষ ১০ কোটি ৯১ লাখ। অবশ্য কর্মক্ষম ১০ কোটি ৯১ লাখ হলেও জরিপে শ্রমশক্তি ৬ কোটি ৩৬ লাখ দেখানো হয়েছে। পরিসংখান ব্যুরোর দাবি, বাকিরা পড়াশোনা করছে অথবা তারা চাকরি খুঁজছে না। সেই হিসাবে চাকরি চেয়েও পাচ্ছে না ৪.২ শতাংশ। এদের সংখ্যা দেখানো হয়েছে ২৬ লাখ ৮০ হাজার। তবে যারা চাকরি খুঁজছে না- তাদেরসহ দেশে বর্তমানে বেকার যুবক-যুবতীদের সংখ্যা ৪ কোটি ৫৫ লাখ। আর ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষকে এ তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হলে বেকারত্বের এ সংখ্যা কমপক্ষে দ্বিগুণ হবে।

আন্দোলনকারীরা বিস্মিত কিছুটা বিভ্রান্ত

আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল, চাকরিতে কোটার পরিমাণ কমিয়ে ১০ শতাংশে আনা হোক। কিন্তু কয়েকদিনের ছাত্র আন্দোলনের মুখে ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে সরকারি চাকরিতে সব ধরনের কোটা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন। এতে আন্দোলনকারীসহ বিভিন্ন মহল বিস্মিত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় কিছুটা বিভ্রান্তও অনেকে। কারণ, ‘কোটা থাকবে না, কোটার দরকার নাই’ এ কথার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী এও বলেছেন যে, প্রয়োজন হলে ‘কেবিনেট সেক্রেটারি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবেন’। আর ‘প্রতিবন্ধী ও নৃগোষ্ঠীকে আমরা অন্যভাবে চাকরির ব্যবস্থা করতে পারবো।’ এতে আসলেই কি কোটা সম্পূর্ণ বাতিল হচ্ছে নাকি আন্দোলন থামানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী ‘একটু ক্ষিপ্ত’ হয়ে কৌশলী বক্তব্য দিয়েছেন- এ নিয়ে সন্দিহান অনেকে। তাছাড়া সম্পূর্ণ কোটা বাতিল সংবিধানের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। সুতরাং প্রধানমন্ত্রী পিছিয়ে থাকা মানুষের সাংবিধানিক সমতার অধিকার হরণ করতে পারেন না। যেমনটা বলেছেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। সঙ্গত কারণেই, বিশ্লেষকরা এটাকে প্রধানমন্ত্রীর কৌশলী বক্তব্য হিসেবেই দেখছেন। তবে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত আসলে কী হতে যাচ্ছে তা নিয়ে অস্পষ্টতাই থেকে যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। একই সাথে আন্দোলনকারীরা বিস্মিত এবং কিছু বিভ্রান্তির মধ্যেও পড়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বিশ্লেষণ করে তারা বলছেন, একদিকে সকল নাগরিকদের মধ্যে সমতা আবার অনগ্রসরদের জন্য ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে। সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য ভিন্ন ব্যবস্থার কথা বলেছেন। এখন দেখার বিষয় সরকার কীভাবে সেটি বাস্তবায়ন করে। তবে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আন্দোলনকারীদের একজন জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা কোটা বাতিলের জন্য আন্দোলন করিনি, আমরা করেছি কোটা সংস্কারের জন্য।’ আরেকজন নারী শিক্ষার্থী বলেন, ‘কোটা বিলুপ্তির দাবি আমরা কখনোই করিনি।’

(সাপ্তাহকি শীর্ষকাগজে ১৬ এপ্রিল ২০১৮ প্রকাশতি)

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন