সোমবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৮ ১১:৪৩:১৫ পিএম

‘বাস খালি করে আমাদের মুখ চেপে ধরে দুটা লোক’

নগর জীবন | বৃহস্পতিবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৮ | ০৫:০৩:২৯ পিএম

ঢাকায় বাসে আবারো যৌন হেনস্থার শিকারের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার ফারহানা তাসনীম নামে এক নারী তার ফেসবুকে এ বিষয়ে স্ট্যাটাস দেন। তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

‘আজ বিকেল ৫ -৫.১৫, শ্যামলী থেকে আমি আর আমার এক বান্ধবী লাব্বাইক বাসে উঠলাম কমলাপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে। প্রায় দু-চারদিন পরপরই এই রুটে যাতায়াত হয় আমার।’

‘বাসে কমপক্ষে ২০-২৫ জন লোক ছিল। উঠার পরপরই কন্ডাকটর আসে ভাড়া নেয়ার জন্য - বললাম ভাইয়া একটু পরে দেই সায়েদাবাদ যাবো আমরা। সিট না থাকায় পিছনে গিয়ে বসতে হয় আমাদের। আমরা দুই জন কিছুক্ষণ গল্প করে পরে জ্যামে বোরিং লাগায় হেডফোনে গান শুনতে থাকি। তখন সবে আমরা মানিকনগর।’

‘ফার্মগেট পার হবার পর কন্ডাকটর আবার আমাদের কাছে ভাড়া নেয়ার জন্য আসে, ভাড়া নিতে নিতে কন্ডাকটর হাসিমুখে জিজ্ঞেস করল আপারা সায়েদাবাদ কই যাইবেন প্রথমে বলতে গিয়েও পরে বললাম - আপনার জানা লাগবে না মামা, আপনি সায়েদাবাদের ভাড়া রাখেন দুইজনের। আমরা আবার হেডফোন লাগিয়ে গান শুনতে থাকি।’

‘বাংলামোটর পার হয়ে মালিবাগ ক্রস করে খিলগাঁও পুলিশ ফাঁড়ি পার হতে হতে দেখলাম আস্তে আস্তে পুরো বাস খালি হয়ে যাচ্ছে মানুষজন নেমে যাচ্ছে। আমরাও ব্যাপারটা নরমালি নেই।’

‘খিলগাঁও ফ্লাইওভারে যখন বাস উঠে মাত্র আমরাসহ চারজন লোক ছিলো বাসে, বাসাবোতেও বাসটা আর থামলোনা, মানুষ থাকা সত্বেও বাসে লোক উঠায়নি কন্ডাকটর। বৌদ্ধমন্দির পার হবার পর আমরা যখন ফোন ব্যাগে ঢুকাচ্ছি নামার জন্য রেডি হব হঠাৎ পিছন থেকে আমাদের দুইজনকে দুইটা লোক হাত দিয়ে মুখ চোখ চেপে ধরে।’

‘বাসটা হঠাৎ জোরে টানা শুরু করলো, আমি চোখে অন্ধকার দেখছিলাম, পরে আরেকটা লোক আমার পা বাঁধা শুরু করলো, বুঝতে পেরে শরীরের শক্তি দিয়ে তাকে লাথি মারি আমার মুখে রুমাল চেপে ধরায় চিৎকারও দিতে পারছিলাম না, ভয়ে আতঙ্কে শরীরের প্রতিটা নার্ভ আমার জমে গিয়েছিলো যা ভাষায় প্রকাশ করার মত না। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে বুঝতে পারলাম আমি একদম গেটের সামনে এসে পড়ছি এবং ধাক্কা খেয়ে দেখলাম আমার বান্ধবী আমার ঠিক পাশে।’

‘হাত দিয়ে যত জোরে পারি নিজের শক্তি দিয়ে লোকটার বুকে আঘাত করি, সাথে সাথে উনি আমাকে ছেড়ে দিলে আমি আরেকটা লাথি মারি পেট বরাবর। কিছু না ভেবেই আমার পায়ের জুতা খুলে আমার বান্ধবীকে যে লোকটা ধরে রেখেছে তার মাথায় মারি, ওই লোকটা ড্রাইভারের পাশে পড়ে যায়, তৎক্ষণাৎ আমরা গেইট খুলে বাস থেকে লাফ দিয়ে ছিটকে পড়ি। কোনমতে রাস্তা পার হয়ে দেখি বাসটা সোজা চলে গেছে।’

‘একজন ট্রাফিকপুলিশকে বললাম উনি দেখি বলে বাইক নিয়ে সোজা চলে গেলো আর দেখতে পেলামনা উনাকে। বুঁকফেটে, রাগে,দুঃখে ভয়ে শুধু চোখ দিয়ে পানি ঝরছে আমাদের। রিকসা নিয়ে বাসায় এসে পড়ি।’

‘এখনও রাগে - ভয়ে কাঁপছি। কাকে কি বলবো? বলে কি লাভ? কে পাবে তাদের? কার কাছেই বা বিচার চাবো।’

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন