শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৩:৪৮:০৫ পিএম

‘ওইদিন হলেই ছিলাম না, ছাত্রলীগ আমাকে বহিষ্কার করলো কেন?’

শিক্ষাঙ্গন | শুক্রবার, ২০ এপ্রিল ২০১৮ | ০৭:৫৮:১৮ এএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হলের ঘটনায় ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল ২৪ জন নেতাকর্মীকে। এর মধ্যে দলটির কেন্দ্রীয় সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক খালেদা হোসাইন মুনও অন্যতম। তবে ওইদিনের ঘটনায় তিনি জড়িত নন দাবি করে বলেছেন, আমার সম্মান আমাকে ফেরত দেওয়া হোক।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি কার্যালয়ে খালেদা হাসান মুনকে বহিষ্কারের প্রতিবাদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের তিনি এই কথা বলেন।

খালেদা হোসাইন মুন বলেন, 'আমার বহিষ্কারের ব্যাপারে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার সহযোগিতা কামনা করছি। আমি অত্যন্ত সুনামের সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া সম্পন্ন করেছি। এখন গবেষণার কাজ করছি। আমি চাচ্ছি, আমার সম্মান আমাকে ফেরত দেয়া হোক।'

গেলো সোমবার ওই ঘটনায় মুন ছাড়াও হল ছাত্রলীগের সহ সভাপতি মুর্শেদা খানমসহ ২৪ নেতাকর্মীকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

গেলো ৮ এপ্রিল থেকে কোটা সংস্কারের দাবি টানা আন্দোলন শুরু হয়। চতুর্থদিনের মাথায় সুফিয়া কামাল হলে গভীর রাতে কোটা সংস্কারের আন্দোলনে যাওয়ায় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের খবর ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, হল ছাত্রলীগ সভাপতি ইশরাত জাহান এশা কয়েকজনকে নির্যাতন করে আহত করেছেন।
নির্যাতিতরা জানান, তারা সকলেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। এ সময় হল ছাত্রলীগের সহ সভাপতি মুর্শেদা খানমের পা কেটে যাওয়া ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হলে মুহূর্তেই অন্যান্য হল থেকে সুফিয়া কামাল হলে জড়ো হন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। তারা হল সভাপতি এশার বিচার দাবি করেন।

পরে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কার করা হয় হল ছাত্রলীগ সভাপতি ইশরাত জাহান এশাকে। তবে বহিষ্কার করার তিন দিনের মাথায় এশাকে নির্দোষ দাবি করা হয়। স্বপদে ফেরায় ছাত্রলীগ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বহিষ্কৃত এক শিক্ষার্থীর দাবি, সোমবারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মুর্শেদা খানম ছাড়াও সহ সভাপতি আতিকা হক স্বর্ণা, মিরা, সাংগঠনিক সম্পাদক সুমি, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক শারমিন আক্তার, সহ সম্পাদক শ্রাবণীসহ যে ২৪ নেতাকর্মীর নাম প্রকাশ হয়েছে, তাদের সবাই ওইদিন রাতে এশার নির্যাতনের প্রতিবাদ করেছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে খালেদা হোসাইন মুন বলেন, 'সুনামের সাথে আমি দীর্ঘ নয় বছর যাবৎ আমি ছাত্রলীগ করে আসছি। সেই ছাত্রলীগই একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায়, আমাকে বহিষ্কার করে। ওই ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। তারপরেও আমাকে অগণতান্ত্রিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। যে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট এর ভিত্তিতে আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে, সে তদন্ত কমিটি তদন্তকালীন সময়ে আমার সাথে কোনো যোগাযোগ করেনি বা আমার কোনো বক্তব্যও নেয়নি। আমি কী দোষ করেছি তা নিয়ে এখনো অন্ধকারে রয়েছি। আপনারা জানেন আমি গেলো ১ বছর হলেই থাকি না। ওইদিন হলেই ছিলাম না! ছাত্রলীগ আমাকে বহিষ্কার করলো কেন?।'

তিনি বলেন, 'যাদের বহিষ্কার করা হয়েছে তাদের মধ্যে একজন ঘটনার আগ থেকেই ইন্ডিয়ায় আছে। আয়েশা সিদ্দিকা আশা নামের আরেকজন আছে। তার ৩১ মার্চ থেকে হাতের লিগামেন্ট ছিড়ে যায়। ডাক্তার তাকে দুই সপ্তাহ বেড রেস্টে থাকার কথা বলেছে এবং হাতে স্লিমব্যাগ পড়ে থাকতে বলেছে। সেই রাতে, লিগামেন্ট ছিড়ে যাওয়ার ১০ দিন পড়ে কিভাবে নিচে নেমে ওই মারামারিতে অংশগ্রহণ করল, সেটা নিয়ে প্রশ্ন জাগে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে খালেদা হোসাইন মুন বলেন, 'এশা আমার খুব কাছের ছোট বোন। তার সাথে আমার কোনো দূরত্ব নেই। এশা আমার সাথে ৪ বছর রাজনীতি করেছে। ৪ বছর খুব ভালভাবে রাজনীতি করেছে। এশার সাথে আমার কোনো দ্বন্দ্ব ছিল না।'

ছাত্রলীগের এই তদন্ত কমিটির ওপর তার কোন আস্থা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, 'পুনরায় তদন্ত করে যারা প্রকৃত দোষী, যারা ষড়যন্ত্রকারী তাদেরকে শাস্তি দেওয়া হোক। যদি সেই তদন্তে আমি দোষী হই তাহলে আমাকেও শাস্তি দেওয়া হোক।'

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন