শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ ০৬:৫৯:০৩ পিএম

কাফির বিরুদ্ধে যৌন নীপড়নের অভিযোগের কোন সত্যতা পাইনি-জাবি উপাচার্য

নুর হাছান নাঈম | শিক্ষাঙ্গন | শুক্রবার, ২০ এপ্রিল ২০১৮ | ১১:১৪:২৩ এএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেছেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আবদুল্লাহ হেল কাফীর বিরুদ্ধে বিভাগের এক নারী শিক্ষিকা যেীন নিপীড়নের যে অভিযোগ করেছিল ওই অভিযোগ তদন্তের সত্যাসত্য (ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং) কমিটিতে সদস্য হিসেবে আমি ছিলাম। প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে ওই শিক্ষিকার অভিযোগের কোন ধরনের সত্যতা পায়নি।

গতকাল বৃহষ্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সিনেট কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিক ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাংবাদিক উপাচার্যের কাছে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এসব কথা বলেন।

তবে সাংস্কৃতিক জোটের নেতা-কর্মীরা ওই শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় প্রশাসনের সমালোচনা করে তাকে অপসারনের দাবি জানায়। এই নিয়োগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষকদের একটি অংশ প্রশাসনের সমালোচনা করেন।

তিনি আরো বলেন, কারো বিরুদ্ধে কেউ কোন অভিযোগ করলে অভিযোগকারীর সাথে অভিযুক্ত ব্যক্তির কোন ধরনের ভাল সম্পর্ক থাকে না। কিন্তু অভিযোগ দেওয়ার পরেও ওই নারী শিক্ষিকা ওই শিক্ষকের সঙ্গে চলাফেরা করতেন, ভাল ব্যবহার করতেন এবং ওই শিক্ষকও তার সঙ্গে ভাল ব্যবহার করতেন। ওই শিক্ষকের কাছ থেকে বিভিন্ন সুবিধা নিয়েছেন ও নিজের কাজ করিয়ে নিয়েছেন। ওই শিক্ষিকা ঢাকায় যাওয়ার জন্য ওই শিক্ষকের গাড়িতে করে বিভাগ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে এসে শিক্ষকদের বাসে উঠতেন।

তিনি আরোও বলেন, তদন্ত কমিটি পুলিশ সংস্থা দিয়ে ওই শিক্ষকের ফোন কলের রেকর্ড বের করে এনেছিল। ওই ফোন কলে ওই শিক্ষিকার সঙ্গে শিক্ষকের কোন ধরনের নেতিবাচক কথাবার্তা পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, আমরা তদন্তে অভিযোগের কোন সত্যতা ও তথ্য প্রমান না পেলেও তৎকালীন প্রশাসন তাকে কেন পদাবনতি দিয়েছেন তা আমার জানা নেই।
তিনি আরোও বলেন, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেনের সময়ে তিনি সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান।

জানা যায়, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবীরের প্রশাসনে ২০১০ সালে ১লা এপ্রিল আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের তৎকালীন সভাপতি আব্দুল্লাহ হেল কাফির বিরুদ্ধে একই বিভাগের এক শিক্ষিকা যৌন নীপড়নের অভিযোগ করেন। অভিযোগ তদন্তে ৬ জন নারী ও একজন পুরুষ সদস্যের সমন্বয়ে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি কাজ করে। ওই তদন্ত কমিটিতে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ফারাজানা ইসলামও ছিলেন। তবে কমিটি অভিযোগের কোন সত্যতা পায়নি।

তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সিন্ডিকেট তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা না থাকায় ওই শিক্ষককে পদাবনিতর সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু তৎকালীন তিন সিন্ডিকেট সদস্য এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লিখিত আপত্তি (নোট অব ডিসেন্ট) প্রদান করেন। এরা হলেন- সিন্ডিকেট সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, জনাব ফয়েজ হোসেন ও তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন