শুক্রবার, ২০ জুলাই ২০১৮ ০৮:২৮:০৪ এএম

স্থগিতের দেড় মাসেও চূড়ান্ত হয়নি রাবির সমাবর্তনের তারিখ

মো: নুরুজ্জামান খান | শিক্ষাঙ্গন | শনিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৮ | ০৮:২২:৪৮ পিএম

তিনবার সমাবর্তনের তারিখ ঠিক করেও হয় নি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দশম সমাবর্তন। দুইবার তারিখ পিছিয়ে সর্বশেষ ২৪ মার্চ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষামন্ত্রীর অসুস্থতার কারণে ১০ দিন পূর্বে ১৩ মার্চ সমাবর্তন স্থগিত করা হয়। এর আগে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর ও ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে সমাবর্তন তারিখ চূড়ান্ত করেও তা আয়োজন সম্ভব হয় নি।

এ বছরে সমাবর্তনের কথা থাকলেও তা শিক্ষামন্ত্রীর অসুস্থতার কারণে স্থগিত করা হয়। স্থগিতের দেড় মাস অতিবাহিতের পরও সমাবর্তন তারিখ চূড়ান্ত না হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নিবন্ধনকৃত গ্রাজুয়েটরা। অনেকে আদৌ সমাবর্তন হবে কিনা সে ব্যাপারেও সন্দিহান। তাদের দাবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে শীঘ্রই সমাবর্তন সম্ভব। তবে প্রশাসন বলছে- সমাবর্তনের ব্যাপারে সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, এর আগে ২০১৬ সালে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মিজানউদ্দিনের সময় দশম সমাবর্তনের নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয়।

সে বছর ২৪ ডিসেম্বর সমাবর্তনের কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়। চলতি বছরে ২৩ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নিবন্ধনের সময়সীমা বাড়ায় বর্তমান প্রশাসন। এতে ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময়ে ¯œাতকোত্তর, এমফিল, পিএইচডি, এমবিবিএস, বিডিএস ডিগ্রি সম্পন্নকারী মোট ছয় হাজার নয়জন নিবন্ধন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করবেন আচার্য। তার অনুপস্থিতিতে সভাপতিত্ব করবেন উপাচার্য।

কিন্তু ২৪ মার্চের দশম সমাবর্তনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সভাপতিত্ব করবেন বলে ঠিক করা হয়। শিক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্ব করা নিয়ে বেশ সমালোচনা করেন গ্রাজুয়েটরা। একটু দেরিতে হলেও তারা রাষ্ট্রপতিকেই চান। এরপর হঠাৎই মন্ত্রী সমাবর্তনে থাকবেন না জানালে গত ১৩ মার্চ প্রশাসন সমাবর্তন স্থগিত করে। শান্ত সিয়াম নামের একটি ফেসবুক আইডি-তে পোস্ট করা হয়- ‘সত্যি, চরম বিরক্ত এই নতুন প্রহসন দেখে। রেজিস্ট্রেশন ফি নিয়ে এক প্রহসন, ডেট নিয়ে আরেক প্রহসন শুরু হলো। না জানি আরো কত ভেল্কিবাজি অপেক্ষা করছে।’ এ ছাড়াও বিভিন্ন আইডি-তে প্রশাসনের সমালোচনা করে ‘ব্যর্থ প্রশাসন’, ‘রেজিস্ট্রেশনের টাকা ফেরত চাই’ বলেও কমেন্ট করা হয়। এদিকে, সমার্বতন স্থগিত হওয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন গ্রাজুয়েটরা।

একপক্ষের দাবি, অনেকেই প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, অনুষ্ঠান হলেই ভাল হতো। পরে আবার কবে হবে নাকি হবেই না তা নিয়ে সন্দেহ আছে। আরেক পক্ষ বলছে, সমাবর্তনের তারিখ স্থগিত হওয়ায় রাষ্ট্রপতির হাত থেকে সনদ পাওয়ার একটি সুযোগ তৈরি হলো। নিবন্ধনকৃত একজন গ্রাজুয়েট বলেন, ‘ঢাকার বিভিন্ন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি থাকেন। সেই হিসেবে রাবির সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতির না থাকা আমাদের জন্য খুবই হতাশাজনক।’

আর এক গ্রাজুয়েট বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতির হাত থেকে সনদ গ্রহণ করবো এটা আসলে আমাদের নিকট খুবই আবেগের বিষয়। কিন্তু যদি সমাবর্তনটা না হয় তাহলে আমাদের জন্য এটা যে কত হতাশার তা বলে প্রকাশ করা যাবে না।’ সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে রাবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা একুশে টিভিকে বলেন, ‘সমাবর্তনের ব্যাপারে আমরা সরকারের নিকট চিঠি দিয়েছি। তিনি এ ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত দেন নি। সিদ্ধান্ত পেলেই তারিখ ঘোষণা করবো। এর বাইরে আমি কিছু জানি না’

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন