শনিবার, ২৬ মে ২০১৮ ০৪:৩৫:২৬ এএম

ফেসবুকে উস্কানিমূলক পোস্ট, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা

শিক্ষাঙ্গন | শনিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৮ | ০৯:৫৬:২৫ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হল থেকে মধ্যরাতে তিন ছাত্রীকে বের করে দেয়ার অভিযোগ ওঠার পর সুফিয়া হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলছেন, ফেসবুকে উস্কানিমূলক পোস্ট দেয়ার কারণে ওই ছাত্রীদের আপাতত হল থেকে সরিয়ে তাদের অভিভাবকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

হল থেকে ছাত্রীদের বের করে দেওয়ার পরে হলের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। অনেকের অভিযোগ, কোটা বিরোধী বিক্ষোভের সময় এক ছাত্রলীগ নেত্রীর হেনস্থা হওয়ার ঘটনার জন্য প্রশাসনের রেষানলে পড়েছে অনেক শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, রাতে সুফিয়া কামাল হলের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে হল থেকে বের করে দেওয়ার পর হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সুফিয়া হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা জানান, যারা কোটা বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছে তাদেরকে হল থেকে বের করে দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে দুই হাজার শিক্ষার্থীকে বের করে দেওয়ার জন্য তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

বের করে দেওয়ার আগে ঢাবি কর্তৃপক্ষ প্রায় ২০ ছাত্রীর কাছ থেকে তাদের মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। পরে তাদেরকে স্থানীয় অভিবাবকদের ডেকে নিয়ে আসতে বলা হয়। এর কারণ একটাই, কোটাবিরোধী আন্দোলনে যোগ দেওয়া- বলেছেন সুফিয়া হলের বেশ কিছু শিক্ষার্থী।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হলটি আলোচনায় রয়েছে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় এই হলে ছাত্রলীগের সভাপতি ইফফাত জাহান এশাকে ঘিরে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। সেসময় কোটা-বিরোধী আন্দোলনকারীকে রোষের মুখে পড়েছিলেন ছাত্রলীগের এই নেত্রী।

তত্ত্বাবধারক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল বলেন, রাতে ছাত্রীদের বের করে দেওয়ার ঘটনায় আমি স্তম্ভিত। আমি অবাক হয়েছি এই ভেবে যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কি করে এমন কাজ করতে পারল!

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিয়ম ভেঙ্গে অগ্রহণযোগ্য কাজ করেছে। মনে হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মত কোন কোন প্রতিষ্ঠানে লেখা নেই যে, রাত ১২ টার পর কোন ছাত্রীকে স্থানীয় অভিভাবকের কাছে তুলে দেওয়া যায়। এটা অত্যন্ত খারাপ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

অপরদিকে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের এক নেতা বলেন, কোন শিক্ষার্থী যদি অপরাধ করে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার বিচার করবে। কিন্তু কেন রাত ১২টার পর অভিভাবক ঢেকে হল থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে?

উলেখ্য, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি হল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে সুফিয়া কামাল হলে ছাত্রীর রগ কেটে দেওয়ার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে মধ্যরাতে তিন ছাত্রীকে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়। তারা হলেন, গণিত বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শারমিন শুভ, পারভীন ও থিয়েটার এন্ড অ্যান্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার লিজা।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন