বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮ ০৭:৩৯:৫৬ পিএম

‘দুর্ঘটনায় সুখের সংসার তছনছ হয়ে গেল’

জাতীয় | শনিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৮ | ১১:১৭:২৪ পিএম

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপতালের চতুর্থ তলায় আইসিইউ’র বাইরে চেয়ারে বিষন্ন হয়ে বসেছিলেন আনুমানিক ২৮/২৯ বছরের এক যুবক।

মোবাইল ফোনে নিচুস্বরে কাউকে বলছিলেন, ‘অবস্থা তেমন ভালো না। গত আটদিন যাবত আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। চিকিৎসায় জলের মতো খরচ হচ্ছে। সকালেও ইনজেকশনসহ তিন হাজার ৩শ’ টাকার ওষুধ কিনে দিয়েছি। জানেন তো গার্মেন্টেসে চাকরি কইরা আর কয়টা টাকা মাইনে পাই, ক্ষুদ্র সঞ্চয় যা ছিল সব তো শেষ। কীভাবে সংসার আর চাকরি সামলামু। তবুও যদি ভাইটা বাঁচে আর কি এই আশাতেই কষ্ট করে চিকিৎসা চালাচ্ছি। শত অভাবেও সুখের সংসারে অভাব অনটন থাকলেও সুখ ছিল। দুর্ঘটনায় সুখের সংসারটা তছনছ হয়ে গেল।’

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে হাফিজউল্লাহ নামে ওই যুবক জানান, তিনি ও তার ভাই অলিউল্লাহ (বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন) নারায়ণগঞ্জে ওয়াইজডন নামক একটি গার্মেন্টেসে অপারেটরের চাকরি করেন। ওভারটাইমসহ সব মিলিয়ে সাড়ে ৯ হাজার টাকার মতো বেতন পান। তার ছোট ভাইও এমন টাকাই বেতন পান। দুজনই বিবাহিত।

হাফিজউল্লাহ জানান, গত ১৩ জানুয়ারি (শুক্রবার) ছুটির দিন তার ভাই নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরের হাইমচর থানার চরডাঙ্গায় গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। বাস থেকে নেমে ভাড়ায়চালিত সিএনজি অটোরিকশা চড়ে যাওয়ার পথে বাড়ি থেকে তিন কিলোমিটার আগে বড় রাস্তায় বিপরীত দিকের একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে পড়ে যান। এ সময় সিএনজি তার বুক ও পেটে উঠে যায়। তার খাদ্যনালী ছিঁড়ে যায়। প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল ও পরে ডাক্তারের পরামর্শে ঢামেক হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।

তিনি আরও জানান, মাত্র এক বছর আগেই বিয়ে করেছে ওলিউল্লাহ। অভাব-অনটনেও সুখেই কাটছিল দিন। কিন্তু একটি দুর্ঘটনায় সংসারটা তছনছ হয়ে গেছে।

গত এক সপ্তাহ যাবত আইসিইউতে ছোট ভাই চিকিৎসাধীন থাকলেও তিনি ভাইটির পাশে থাকতে পারেননি। জীবিকার তাগিদে গার্মেন্টেসের চাকরিতে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। এ কয়েকদিন ভাইয়ের স্ত্রী হাসপাতালে ছিলেন। আজ ও আগামীকাল ছুটি নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভাইয়ের কাছে থাকতে এসেছেন। গত কয়েকদিন হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করে ভাইয়ের স্ত্রী প্রায় অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

তিনি জানান, ভাইটি মৃত্যুশয্যায় থাকলেও জীবিকার তাগিদে সবসময় পাশে থাকতে পারছেন না। একটি দুর্ঘটনায় গোটা পরিবারটির সুখ নষ্ট হয়ে গেছে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন