রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ ০৬:৫৬:৩৬ পিএম

দীর্ঘশ্বাসটা আরও বেড়ে গেছে অন্য দলগুলোর, যে বিষয়টি কাউকে বুঝতে দেননি গেইল

খেলাধুলা | রবিবার, ২২ এপ্রিল ২০১৮ | ১০:৫৮:৫৩ এএম

একবার না দু-দু’বার নিলামে অবিক্রীত থেকে যান ক্রিস গেইল। শেষ পর্যন্ত তৃতীয়বারে ক্যারিবীয় সুপারস্টারকে দলে টানেন কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের পরিচালক বিরেন্দর শেবাগ। তাও নূ্যনতম দামে। বিশ্বের অন্যতম সেরা মারকুটে ব্যাটসম্যানকে নিয়ে অবজ্ঞা করলে কী হয়, এখন সেটা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন ফ্র্যাঞ্চাইজির হর্তা-কর্তারা। গত বৃহস্পতিবার মোহালিতে গেইল-তাণ্ডব দেখার পর বোধ হয় দীর্ঘশ্বাসটা আরও বেড়ে গেছে অন্য দলগুলোর। নিলামে অপমানিত হলেও এতদিন কাউকে বুঝতে দেননি গেইল। শেষমেশ চলমান আইপিএলে নিজের বিধ্বংসী রূপটা দেখানোর পর মনের মাঝে পুষে রাখা ক্ষোভগুলো ঝারলেন তিনি।

সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে ব্যাট হাতে ৬৩ বলে ১০৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলার পর সংবাদ সম্মেলনে খানিকটা হুমকিই দিয়ে রাখলেন ক্রিস, ‘নামটা ভুলে যাবেন না। একটু সম্মান দেখান। সব কোচকেও বলছি, একটু শ্রদ্ধা রাখুন।’ সঙ্গে ঠুকে দেন শেবাগ গেইলকে কিনে আইপিএলকে বাঁচিয়েছে, ‘আমি সব সময়ই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। অনেকেই বলতে পারেন, গেইলের প্রমাণ করার আছে অনেক কিছু। কারণ তাকে আগের ম্যাচে নেওয়া হয়নি কিংবা নিলামের শুরুতে তালিকায় ছিল না। আমি বলব বিরেন্দর শেবাগ তুমি আমাকে নিয়ে আইপিএলকে বাঁচিয়েছ।’ ম্যাচের পর গেইলের এ কথার জবাবও দিয়েছেন শেবাগ। এক টুইট বার্তায় পাঞ্জাবের পরিচালকও স্বীকার করে নেন, ‘গেইলকে কিনে আমি আইপিএলকে বাঁচিয়েছি।’ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শেবাগ বলেছিলেন, গেইল যদি দুটি ম্যাচ তাদের জেতাতে পারে তাহলেই পাঞ্জাবের টাকা উঠে যাবে কথাটি আরও একবার স্মরণ করিয়ে দিলেন গেইল, ‘দারুণ একটা সূচনা হলো। পরপর দুই ম্যাচই ম্যাচসেরা হলাম। তবে কয়েকদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে শেবাগ বলেছিল, গেইল যদি আমাদের দুটি ম্যাচ জেতাতে পারে তাহলেই আমদের টাকা উসুল হয়ে যাবে।

এবার আমি শেবাগের সঙ্গে কথা বলতে চাই।’ টানা দুই ম্যাচে ঝড়ো ইনিংস খেলেছেন গেইল। নিজের প্রথম ম্যাচে চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে করেন ৩৩ বলে ৬৩ রান। ভালো করার ক্রেডিটটা শেবাগকেও দিচ্ছেন উইন্ডিজ তারকা, ‘প্রথম ম্যাচ থেকেই শেবাগ আমাকে বলেছিল, যাও এবং নিজেকে মেলে ধরো। সত্যি কথা বলতে এই দলের হয়ে খেলতে ভালো লাগছে। আমি তিনটা জিনিস এরই মধ্যে পেয়েছি- বিনোদন, স্বাধীনতা ও সবাই বেশ দায়িত্ববান। আমার মনে হয়, দলের সবাই খুবই দায়িত্ব নিয়ে খেলে। প্রথম ম্যাচে রাহুল দুর্দান্ত খেলেছে। আইপিএলে দ্রুততম একটা অর্ধশতক হাঁকিয়েছে।’ বয়স ৩৯ ছুঁই ছুঁই। তাতে অনেকেই ভাবেন, গেইল বুড়ো হয়ে গেছে। আর কাজ হবে না। তিনি কী-বা প্রমাণ করবেন। এমনটা মানতে নারাজ গেইল, ‘অনেকে মনে করে আমি বুড়ো হয়ে গেছি। এই ইনিংসের পর আমার নতুন করে কিছু প্রমাণের নেই।

আসলে সময় কারও জন্য বসে থাকে না। আমিও এখানে কিছু প্রমাণ করতে আসিনি। আমি এসব আগেই দেখেছি। সবকিছু করা শেষ আমার। আমি যখন যে দলের হয়ে খেলি সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি। সেঞ্চুরি করতে পেরে ভালো লাগছে। যতদিন সম্ভব ক্রিকেট উপভোগ করতে চাই।’ এদিকে গেইলের বীরত্ব দেখে বাহ্বা দিচ্ছেন তার স্বদেশি খেলোয়াড় থেকে শুরু করে প্রতিপক্ষ দলনেতাও। ম্যাচ শেষে কেন উইলিয়ামসন ক্রিসকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘আমরা জানতাম সে কী করতে পারে। আর সেটাই করে দেখাল। স্ট্রোক খেলার জন্য এই পিচ কিন্তু খুব সহজ ছিল না।’

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন