শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৯:৪৫:৫৪ পিএম

যেকোনো মূল্যে খাদ্যকে নিরাপদ রাখতে হবে

জাতীয় | রবিবার, ২২ এপ্রিল ২০১৮ | ০৬:৩৪:৩৯ পিএম


মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেছেন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং নিরাপদ খাদ্য একে অন্যের পরিপূরক। যেকোনো মূল্যে খাদ্যকে নিরাপদ রাখতে হবে।

রোববার ওয়ার্ল্ড’স পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন (বাংলাদেশ শাখা) আয়োজনে ২১-২২ দুই দিনব্যাপী ঢাকা রিজেন্সি হোটেলে অনুষ্ঠিত হল ‘ফুড অ্যান্ড অ্যানভায়রনমেন্ট সেফটি ইন কমার্শিয়াল পোল্ট্রি প্রোডাকশন’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

সেমিনারে দেশের খ্যাতনামা পোল্ট্রি, পুষ্টি ও নিরাপদ খাদ্য বিশেষজ্ঞ ছাড়াও বেলজিয়াম, জার্মানি এবং ভারতের বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন।

নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, আমাদের দেশে মুরগির মাংসের সিংহভাগ এবং ডিমের প্রায় পুরোটাই আসে পোল্ট্রি থেকে। এ শিল্পের সাথে অসংখ্য খামারি জড়িত তাই তারা যেন টিকে থাকতে পারে সে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে।

কয়েকটি কোম্পানি এন্টিবায়োটিক গ্রোথ প্রোমোটার (এজিপি) আমদানি করছে এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী বলেন, যারাই আইন অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওয়াপসা বাংলাদেশ শাখার সভাপতি শামসুল আরেফিন খালেদ বলেন, প্রতিদিন জনসংখ্যা বাড়ছে অথচ কমছে আবাদি জমি। তাই মানুষের জন্য খাদ্যের সংস্থান করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে শুধু খাদ্যের সংস্থান করাটাই যথেষ্ঠ নয় বরং তারচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা। তবে অত্যন্ত গর্বের বিষয়টি হচ্ছে বর্তমানে বাংলাদেশে এন্টিবায়োটিক গ্রোথ প্রোমোটার (এজিপি) মুক্ত পোল্ট্রি খাদ্য উৎপাদিত হচ্ছে। বিশ্বের সর্বাধিক পোল্ট্রি উৎপাদনকারি দেশ ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্র, চীন এজিপির ব্যবহার বন্ধ করতে না পারলেও বাংলাদেশ সরকার তা পেরেছে।

তিনি বলেন, বর্তমান বাজারে পোল্ট্রিই হচ্ছে সবচেয়ে সস্তার প্রাণিজ আমিষ। এসডিজি তে যে ১৭টি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে তার মধ্যে ১৪টি লক্ষ্য অর্জনে কোনো না কোনোভাবে পোল্ট্রি শিল্পের অবদান রয়েছে।

অর্থনীতিতে পোল্ট্রি শিল্পের অবদান বোঝাতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে চিকেন ইন্ডাষ্ট্রি ১১ লাখ ৯৫ হাজার ৭৪৫ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে, মজুরি হিসেবে প্রদান করে থাকে ৬৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ইউএস ডলার। মোট বার্ষিক ইকোনমিক ইম্প্যাক্ট প্রায় ৩ দশমিক ১৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।

খালেদ বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পোল্ট্রি খাত উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে। বর্তমানে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ২০ লাখ এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মিলিয়ে মোট প্রায় ৬০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। গ্রামীণ পর্যায়ে নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে। গ্রাম থেকে শহরের মাইগ্রেশন কমাতে সহায়ক হয়েছে। তাছাড়া পোল্ট্রি পালন হাউসহোল্ড ইনকাম প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ডা. আইনুল হক বলেন, প্রাণিজ আমিষকে নিরাপদ রাখতে আমরা ফুড সেফটি অথরিটি, ইনস্টিটিউট অব পাললিক হেলথ এবং এফএও এর সাথে যৌথভাবে কাজ করছি। খামারিদের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সচেতনতা এবং দক্ষতাবৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এফএও এর কনসালট্যান্ট শাহ মুনির বলেন, খামারিরা মধ্যসত্ত্বভোগী শ্রেণির হাতে জিম্মি হয়ে আছে, তাই প্রোডাকশন এবং মার্কেটিংয়ের মাঝে লিংকেজ স্থাপন জরুরি।

তিনি বলেন, ঢাকা শহরের ওয়েট মার্কেটগুলোর উন্নয়নের লক্ষ্যে এফএও একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। এটিও নিরাপদ খাদ্য প্রক্রিয়ায় অবদান রাখবে।

সেমিনারে অন্য বক্তারা বলেন, আগামীর পৃথিবীর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মানুষের জন্য খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে শুধু খাদ্যের উৎপাদনই যথেষ্ঠ নয়, সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য এবং সাসটেইনেবল হেলদি ফুড সাপ্লাই নিশ্চিত করাটাও বড় একটি চ্যালেঞ্জ। আশার কথা হচ্ছে বাংলাদেশে ইতিমধ্যেই ‘খাদ্য নিরাপত্তা’ এবং ‘নিরাপদ খাদ্য’ নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে এবং বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্পে নিরাপদ ও মানসম্মত ডিম ও মুরগির মাংসের উৎপাদন শুরু হয়েছে।

সভাপতি ছিলেন বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) এর প্রেসিডেন্ট মসিউর রহমান। সঞ্চালক ছিলেন বিএআরসি এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফুড সেফটির সভাপতি ডা. মো. রফিকুল ইসলাম।

দুই দিনব্যাপি আয়োজনে বাণিজ্যিক পোল্ট্রি উৎপাদন, প্রসেসিং, সংরক্ষণের ঝুঁকি এবং তা মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রথমদিন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক চৌধুরী, অধ্যাপক ড. প্রিয়মোহন দাস, ড. এস.ডি. চৌধুরী এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ সায়েম উদ্দীন আহমেদ টেকনিক্যাল পেপার উপস্থাপন করেন। এছাড়া ভারতের ড. জে. আই. ভেগাদ, বেলজিয়ামের মি. হ্যানস মিয়্যানস্ এবং জার্মানির ড. কাই-জে. কুলম্যান পেপার উপস্থাপন করেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন