সোমবার, ২১ মে ২০১৮ ০৮:৪২:৫৪ পিএম

রেলপথ: দ্রুত ইন্টারনেট সেবা বঞ্চিত ৮৫ ভাগ যাত্রী

জাতীয় | রবিবার, ২২ এপ্রিল ২০১৮ | ০৭:০৮:৩৬ পিএম

রেলপথে ইন্টারনেটের গতি পাঁচ এমবিপিএস বা এর বেশি রাখার দাবি জানিয়েছে মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন।

সংগঠনটি বলছে, এক গবেষণা করে দেখা গেছে, রেলপথের ৮৫ ভাগ যাত্রী দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা থেকে বঞ্চিত। রেলপথের দুই হাজার ৮৮৫ কিলোমিটারে টু-জির নেটওয়ার্কও পাওয়া যায় না। তারা ন্যারো গতির ইন্টারনেট পান।

ন্যারো হলো ইন্টারনেটের কম গতি বা পাঁচ এমবিপিএসের কম গতির ইন্টারনেট সার্ভিস। এটি না দিতে গত বছর ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলেছিল, কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো তা মানছে না বলে দাবি মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের।

রোববার দুপুরে মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দীন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রেলপথে ইন্টারনেটে গতি বাড়ানোর দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের যাত্রী সেবার অন্যতম রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রেলপথ। ভ্রমণে যাত্রীদের টেলিকম ও ইন্টারনেট সেবায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। দেশে ইন্টারনেট সেবা প্রদানের মাধ্যম ফাইবার অপটিক্যাল যে ৫টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে-তার মধ্যে অন্যতম প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রেলওয়ে। রেলওয়ের ফাইবার অপটিক্যাল একটি অপারেটরকে লিজ প্রদান করেছিল। ওই অপারেটরটি ব্যবসায়ে লাভবান হলেও রেলওয়ের কি লাভ হচ্ছে তা আমরা অবগত নই। অবাক বিষয় লিজ নেওয়া ওই অপারেটরটিও তাদের নেটওয়ার্ক ব্যবস্থায় আজ অবদি সক্রিয় করার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। রেল ভ্রমণের সময় ফোর জি সেবার প্রশ্নই আসে না বরং টু জি নেটওয়ার্ক পাওয়াই দুষ্কর।

তিনি বলেন, রেলপথের পরিমাণ দুই হাজার ৮৮৫ কিমি। আর স্টেশন ৪৬৫টি। প্রতিদিন রেলপথে যাতায়াতকারী যাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার। প্রতি যাত্রীর গড় ঘণ্টা ভ্রমণ প্রায় আড়াই ঘণ্টা। তার মধ্যে মোট যাত্রীর ৪০ ভাগ এর ভ্রমণ ঘণ্টা ৫-৬ ঘণ্টা। এই দীর্ঘ রেল ভ্রমণের সময় এই যুগে টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট থেকে বঞ্চিত থাকছে প্রায় ৮৫ ভাগ রেলপথ যাত্রী। কেবলমাত্র বিভাগীয় শহর, স্টেশন, জেলা শহর কিংবা বড় শহরকেন্দ্রিক স্টেশনের নেটওয়ার্ক সক্রিয় পাওয় যায়। ইন্টারনেটের গতিও কম। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-দিনাজপুর, ঢাকা-রাজশাহী ও ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ রোডে সংগঠনের কর্মীদের ভ্রমণে তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সরকার দেশকে প্রযুক্তিবান্ধব হিসেবে তৈরি করতে কাজ করে যাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি দ্রুত গতির ইন্টারনেট থ্রি-জি থেকে ফোর-জিতে রূপান্তর করেছে। সারা দেশের প্রত্যন্ত গ্রামঞ্চলেও ইন্টারনেট সেবা পৌঁছানোর কথা। গত বছর ইন্টারনেট সেবা প্রদান প্রতিষ্ঠানসমূহকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছিল যে, ইন্টারনেটের গতি ন্যারো রাখা যাবে না। সর্বনিম্ন গতি হবে পাঁচ এমবিপিএস।



খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন