মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৯:৫০:১৯ পিএম

‘উন্নয়নে তরুণ প্রজন্মকেই হাল ধরতে হবে’

রাজনীতি | সোমবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৮ | ০৩:০৩:৪৯ পিএম

জোবায়দুল হক রাসেল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সদস্য। তিনি পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগেরও সদস্য। বাবা আওয়ামী লীগে যুক্ত থাকায় রাসেলও বেড়ে ওঠেন রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্য দিয়ে।

ছাত্রজীবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন এই তরুণ নেতা। ১৯৯৩ সালে তৎকালীন ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৩২নং ওয়ার্ড (বর্তমানে ৯নং) ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে একনিষ্ঠভাবে কাজ শুরু করেন রাসেল। দলীয় সব ধরনের কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে একনিষ্ঠভাবে কাজ করে চলেছেন তরুণ এই নেতা।

ছোটবেলা থেকেই সমাজের অসহায় মানুষে পাশে দাঁড়াতে পরিবারকে দেখেছেন রাসেল। ফলে বাবার আদর্শ সামনে রেখে তিনিও প্রতিনিয়ত অসহায় মানুষের পাশে থেকে নীরবে কাজ করে চলেছেন। রাখছেন নিজের উদারতার প্রমাণও। এলাকার অসহায় জেলে পরিবারের দুঃখ-দুর্দশায় নিজেকে নিবেদিত রেখেছেন রাসেল। প্রতিনিয়ত বাড়িয়ে দিচ্ছেন সহযোগিতার হাত। এটাকে তিনি দায়িত্ব মনে করেন।

নিজের সংসদীয় আসনের প্রতিটি ইউনিয়ন, ওয়ার্ড; এমনকি গ্রামও তার নখদর্পণে রয়েছে। এলাকার জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন রাসেল। সংসদীয় আসন পটুয়াখালী-২ বাউফল থেকে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন এই তরুণ নেতা।




সংসদীয় নিজ এলাকার উন্নয়ন, জনগণ, দল এবং নেতাকর্মীদের নিয়ে সদূরপ্রসারী স্বপ্ন দেখেন রাসেল। সেই স্বপ্ন নিয়েই কথা বলেন রাসেল।

তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনয়নের প্রত্যাশা নিয়ে জোবায়দুল হক রাসেল বলেন, আমি সব সময় নিজেকে দলের জন্য নিয়োজিত রেখেছি। আগামীতেও এ ধারা অব্যহত থাকবে। আমি দুসময়, দুর্দিনে শেখ হাসিনার পাশে ছিলাম। ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলায় আহত হয়েছি। আপা যখন গ্রেফতার হন, আমিও তার সঙ্গে গ্রেফতার হয়েছি। ২০০১ থেকে ২০০৮ পযন্ত সব সময় আপার সঙ্গে ছিলাম।
সারাদেশ আপার সঙ্গে ঘুরেছি। দলীয় মিছিল, মিটিং, আন্দোলনে সব সময় রাজপথে ছিলাম। আগামীতেও থাকব।

নিজ এলাকার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিজের সম্পর্কে কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুবই ভালো। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলে তৃণমূলের নেতারা আমার জন্য কাজ করবেন। পাশে থাকবেন।

এলাকার উন্নয়ন নিয়ে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরেন রাসেল। তিনি বলেন, বাউফলকে একটি আধুনিক, মাদকমুক্ত এবং বিশেষ করে শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়ন করতে চাই। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে কেউ স্কুল-কলেজের সভাপতি নির্বাচিত হতে পারবেন না। শিক্ষার সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত অর্থাৎ প্রাক্তন শিক্ষকদেরই স্কুল-কলেজের সভাপতি করব। যারা প্রতিষ্ঠান থেকে নেয়ার আশা করবেন না। সব সময় ভালো উদ্যোগ নেবেন। যাতে ছেলেমেয়েরা প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করে।

রাসেল বলেন, দল থেকে নিজের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি পেয়েছি। এখন আর চাওয়ার কিছু নেই। কিন্তু তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে যদি প্রধানমন্ত্রী আমাকে দায়িত্ব দেন, তবে সে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করব। অথবা আমাকে না দিয়ে দল থেকে অন্য কাউকে বা যাকেই মনোনয়ন দেয়া হোক, দলের হয়ে তার জন্যই কাজ করব। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর আর কোনো কথা নেই। তিনি যা বলবেন তাই হবে।


বর্তমান পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজের সঙ্গে সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ছাত্রনেতা জোবায়দুল হক রাসেল বলেন, চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক খুবই ভালো। তিনি শুধু এমপি হওয়ার জন্যই নির্বাচন করেন। আমাদের এলাকায় সব মিলিয়ে ৪০০ কিলোমিটার রাস্তা। কিন্তু ৩৬ বছর ধরে এমপি হয়েও ২০০ কিলোমিটার রাস্তার উন্নয়ন করতে পারেননি তিনি। অথচ আশপাশের সংসদীয় আসনগুলো উন্নত হয়েছে।

নিজ ইচ্ছের কথা জানিয়ে রাসেল বলেন, আমি তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি। কাজ করার গতি আমার আছে। এলাকার উন্নয়নে সব সময় নিজেকে মনোনীত রাখতে পারব। দলীয়ভাবে এলাকার উন্নয়নের রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজের জন্য বরাদ্দ নিতে পারব। বেকারদের কর্মসংস্থান করতে পারব। আমি এলাকার উন্নয়নের জন্য দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে চাইতে পারব। কিন্তু বর্তমান সংসদ সদস্য সিনিয়র মানুষ। তার ইচ্ছা থাকলেও হয়তো চাইতে পারেন না।
 এজন্য তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে।

বাউফলের জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি বাউফলের রাসেল হয়ে থাকতে চাই, বিচারপতির ছেলে হিসেবে নয়। এলাকার ছেলে হিসেবে সব সময় জনগণ আমাকে পাশে পাবেন।

পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে জোবায়েদুল হক রাসেল ছাড়াও আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন- বর্তমান সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, এসএম (জাপান) ফিরোজ, পৌর মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল, কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামসুল হক রেজা।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন