বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৯:২৬:৪৬ পিএম

পাসপোর্ট জমা রেখে ট্রাভেল পারমিট নিয়েছেন তারেক রহমান

রাজনীতি | মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৮ | ০১:৫৬:৩৫ পিএম

যুক্তরাজ্যের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পাসপোর্ট জমা রেখে তাকে ট্রাভেল পারমিট দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, 'এই মুহূর্তে বাংলাদেশের পাসপোর্ট তার (তারেক রহমান) কোন কাজে লাগছে না। যখনই তিনি দেশে ফেরার মতো সুস্থ হবেন তখনই তিনি দেশের অন্যান্য নাগরিকের মতোই পাসপোর্টের জন্য আবেদন জানাতে এবং তা অর্জন করতে পারবেন।'

তারেক রহমানের পাসপোর্ট জমা দেওয়ার কারণ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার ও সরকারি দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বক্তৃব্যে এটা প্রমাণ হচ্ছে যে, দেশে তারেক রহমানের জীবন নিরাপদ নয়। এই অবস্থায় তারেক রহমান সাময়িকভাবে বিদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন এবং সঙ্গত কারণেই তা পেয়েছেন। এই প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই তিনি যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র বিভাগে তার পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন।

'কাজেই জমা রাখার জন্য বৃটিশ স্বরাষ্ট্র বিভাগ থেকে তার (তারেক রহমান) পাসপোর্ট লন্ডন হাইকমিশনে পাঠানোর যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে তার দ্বারাও কোন আইন কিংবা যুক্তিতে প্রমাণ হয় না যে, তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেছেন। এ ধরণের উদ্ভট ধারণাকে তত্ত্ব কিংবা তথ্য হিসেবে সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন কিংবা ফেসবুকে প্রচার রাজনৈতিক মূর্খতা এবং উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার ছাড়া আর কিছু হতে পারে না' বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, জন্মসূত্রে বাংলাদেশি নাগরিক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পাসপোর্ট যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের মাধ্যমে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে জমা দেয়ার একটি নথি দেখিয়ে বিনা ভোটে ক্ষমতা দখলকারী বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তারেক রহমানের নাগরিকত্ব বিষয়ে যে অদ্ভুত, যুক্তিহীন ও বেআইনী মন্তব্য করেছেন-তার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছে বিএনপি।

'কি কি কারণে একজন নাগরিক জন্মসূত্রে প্রাপ্ত নাগরিকত্ব হারাতে পারেন-এটাও যিনি জানেন না-তেমন একজন ব্যক্তির শুধু এ ধরণের অনির্বাচিত সরকারের মন্ত্রী পদে থাকা সম্ভব এবং তা জাতির জন্য লজ্জাজনক' বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'জনগণের কষ্টার্জিত বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে লন্ডন সফরকারী বিশাল বহরের একমাত্র অর্জন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সংগ্রহ করা জনাব তারেক রহমানের ২০০৮ সালে ইস্যু করা পাসপোর্টের ৩টি পাতা এবং বৃটিশ স্বরাষ্ট্র বিভাগের অসংখ্য ভুলে ভরা এক লাইনের রহস্যজনক একটি চিঠির ফটোকপি। কি বিচিত্র এই সরকার ! কি দুর্বল তাদের অপকৌশল !!'

তিনি আরও বলেন, 'আমরা দৃঢ়তার সাথে স্পষ্ট ভাষায় দেশবাসীকে জানাতে চাই যে, জননেতা জনাব তারেক রহমান জন্মসূত্রে বাংলাদেশের একজন গর্বিত নাগরিক। তিনি তার এই প্রিয় দেশের নাগরিক ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন ইনশা'আল্লাহ।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন