বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ ০১:১১:৫৭ পিএম

‘তারেকের পাসপোর্ট নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য মূর্খতা’

রাজনীতি | মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৮ | ০২:৫২:১৮ পিএম

লন্ডনে স্বরাষ্ট্র দপ্তরে তারেক রহমানের বাংলাদেশি পাসপোর্ট জমা দেওয়া নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শহারিয়ার আলমের বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক মূর্খতা ও অপপ্রচার’ বলছে বিএনপি।

দলটির দাবি, তারেক রহমানের নাগরিকত্ব বিষয়ে মন্ত্রী অদ্ভুত, যুক্তিহীন ও বেআইনি মন্তব্য করেছেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘জন্মসূত্রে বাংলাদেশি নাগরিক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পাসপোর্ট যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের মাধ্যমে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে জমা দেওয়ার একটি নথি দেখিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। কি কি কারণে একজন নাগরিক জন্মসুত্রে প্রাপ্ত নাগরিকত্ব হারাতে পারেন-এটাও যিনি জানেন না! তেমন একজন ব্যক্তির শুধু এ ধরনের অনির্বাচিত সরকারের মন্ত্রী পদে থাকা সম্ভব এবং তা জাতির জন্য লজ্জাজনক।’

‘আমরা দৃঢ়তার সাথে স্পষ্ট ভাষায় দেশবাসীকে জানাতে চাই যে, তারেক রহমান জন্মসূত্রে বাংলাদেশের একজন গর্বিত নাগরিক। তিনি তার এই প্রিয় দেশের নাগরিক ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন’, বলেন মির্জা ফখরুল।

তারেক রহমানের বিদেশে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘সরকার ও সরকারি দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বক্তৃতা-বিবৃতিতে এটা স্পষ্টতই প্রমাণিত যে, দেশে জনাব তারেক রহমানের জীবন নিরাপদ নয়। এমতাবস্থায় তারেক রহমান বিশ্বের অসংখ্য বরেণ্য রাজনীতিবিদ, সরকারবিরোধী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মতই সাময়িকভাবে বিদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন এবং সঙ্গত কারণেই তা পেয়েছেন। এই প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই তিনি যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র বিভাগে তার পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। সে দেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার পাসপোর্ট জমা রেখে তাকে ট্রাভেল পারমিট দেওয়া হয়েছে।’

‘কাজেই এই মূহুর্তে বাংলাদেশের পাসপোর্ট তার কোনো কাজে লাগছে না। যখনই তিনি দেশে ফেরার মতো সুস্থ হবেন তখনই তিনি দেশের অন্য নাগরিকের মতই পাসপোর্টের জন্য আবেদন জানাতে এবং তা অর্জন করতে পারবেন’, জানান তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘স্রেফ জমা রাখার জন্য বৃটিশ স্বরাষ্ট্র বিভাগ থেকে তার পাসপোর্ট লন্ডন হাইকমিশনে পাঠানোর যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে তার দ্বারাও কোনো আইন কিংবা যুক্তিতে প্রমাণ হয় না যে, তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেছেন। এ ধরনের উদ্ভট ধারণাকে তত্ত্ব কিংবা তথ্য হিসেবে সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন কিংবা ফেসবুকে প্রচার রাজনৈতিক মুর্খতা এবং উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার ছাড়া আর কিছু হতে পারে না।’

তারেক রহমানের নাগরিকত্ব নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে যে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে-দেশের জনগণ তার জবাব জানার জন্য অপেক্ষা করছে বলেও জানান বিএনপির মহাসচিব।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন