শুক্রবার, ২০ জুলাই ২০১৮ ০৯:০২:১৮ এএম

তুরাগ বাসে নারীকে যৌন হয়রানি: ৩ জনকে ৩ দিনের রিমান্ড

আইন আদালত | মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৮ | ০৭:২৩:১৬ পিএম

ঢাকায় তুরাগ পরিবহনের একটি বাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে যৌন হয়রানির চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার তিনজনের তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গুলশান থানা-পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর হাকিম গোলাম নবী মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।

রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া তিনজন হলেন ওই বাসের চালক রোমান, বাসের ভাড়া আদায়কারী মনির ও বাসচালকের সহকারী নয়ন।

গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাপস কুমার ওঝা তাঁদের আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, বাসের হেলপার নয়ন ও চালক রোমান ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর সঙ্গে অশ্লীল কথা বলার পাশাপাশি যৌন হয়রানি করে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। তবে রোমান ও নয়ন বলেছে, তারা এমন ঘটনায় জড়িত নয়।

আসামির আইনজীবী ইকবাল হোসেন ও হাতেম আলী এই মামলাকে মিথ্যা মামলা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

গতকাল সোমবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে রাজধানীর সায়েদাবাদ থেকে রোমান, মনির ও নয়নকে গ্রেপ্তার করা হয়।

উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী অভিযোগ করেন, তুরাগ পরিবহনের গাড়িচালক ও তার সহকারী তাঁকে যৌন হয়রানির চেষ্টা করলে কৌশলে তিনি তাঁদের খপ্পর থেকে বেরিয়ে আসেন। ওই ঘটনায় ওই ছাত্রীর স্বামী রোববার বিকেলে বাদী হয়ে গুলশান থানায় একটি মামলাও করেন। ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ে জানানোর পরই শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামেন। তাঁরা রোববার যাত্রাবাড়ী থেকে আবদুল্লাহপুরগামী তুরাগ পরিবহনের বাসগুলো উত্তরায় পৌঁছালেই সেগুলো থামিয়ে দেন। বাসের যাত্রীদের অন্য বাসে তুলে দিয়ে চালককে তাঁদের ক্যাম্পাসের কাছে বাস চালিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য করেন এবং বাসের চাবি কেড়ে নেন। সোমবার বিকেলের দিকে উত্তরার কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালের সামনে সারি বেঁধে তুরাগ পরিবহনের বাস দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

চলন্ত বাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির প্রতিবাদে তুরাগ পরিবহনের ৩৫টি বাস আটকে রেখে প্রতিবাদ করেন উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অভিযুক্ত বাস চালক ও তাঁর সহকারীকে গ্রেপ্তারে তাঁরা আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। ব্যর্থ হলে আটকে রাখা বাসের কোনো ক্ষতির দায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা নেবে না বলে ঘোষণাও দেন তাঁরা। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা গ্রেপ্তার হওয়ার পরই সোমবার রাতে বাসগুলো পুলিশকে বুঝিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন