বুধবার, ২৩ মে ২০১৮ ০৯:১১:১৬ পিএম

কুষ্টিয়া জুড়ে এখন আর দেখা মেলে না গরুর গাড়ির

রোকনুজ্জামান | জেলার খবর | কুষ্টিয়া | শনিবার, ২৮ এপ্রিল ২০১৮ | ১১:১১:৩৬ এএম

আবহমান বাংলার কৃষকের হালের গরুর গাড়ি ছিল চাষাবাদ কাজসহ বিভিন্ন কাজের প্রধান উপকরণ। সে জায়গা এখন দখল করে নিয়েছে আধুনিক যান্ত্রিক প্রযুক্তি। গ্রামবাংলায় গরুর বদলে যন্ত্রের ব্যবহার শুরু হয়েছে। এক সময় কৃষিকাজে গরুর লাঙল-জোয়াল আর গরুর গাড়ির ছাড়া চলতো না কৃষকের।

সে জায়গা সময়ের পরিবর্তনে এখন দখল করে নিয়েছে প্রযুক্তি। গরুর লাঙল এর জায়গায় কলের লাঙল, ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার। কালের বিবর্তনে এখন আর দেখা মেলে না গরুর গাড়িসহ হালের গরুর। আগের কৃষিকাজের প্রধান উপকরণের চিত্র হারিয়ে যাওয়ার পথে, বেড়েছে যন্ত্রের ব্যবহার। প্রতিটি স্তরে যোগ হচ্ছে এক এক প্রযুক্তি। যা দুই দশক আগে কৃষিকাজসহ কৃষকের ছিল স্বপ্ন। মাঠের চাষ আবাদ তৈরিতে গরুর বদলে স্থান করে নিয়েছে ট্রাকটর মেশিন।

হাতে বীজতলা তৈরির আদলে হচ্ছে মেশিনে। পরিবর্তন হয়েছে সেচ পদ্ধতিরও। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি এখন বিলুপ্তির পথে। প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ ঐতিহ্য এই গরুর গাড়ি। দিন দিন নতুন নতুন যন্ত্রের উদ্ভাবনের ফলে মানুষের জীবনযাত্রায় উন্নয়নের ছন্দপতন ঘটছে।

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়ন এলাকার আব্দুল আলীম বলেন, এই তো এক যুগ আগের কথা প্রায় প্রতিটি পরিবারেই হালের গরুর ছিল। আবার গরুর গাড়িও ছিল তাদের, অনেকের পরিবারের আয়ের উৎস ছিল গরুর গাড়ী আর এই গাড়ির উপর নির্ভর করে চলত তাদের সংসার। এখন আর গরুর গাড়ীর দেখা মেলে না। কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার আহাদ মোল্লা বলেন, আমার বাপ-দাদারা গরুর গাড়ি চালিয়ে উপার্জন করে আমাদের সংসার চালিয়েছেন।

এই আধুনিক যুগে গরুর গাড়ি নেই, আছে অটো বা ইঞ্জিনচালিত যানবাহন। তবে এখন দুই একটা গরুর গাড়ি দেখতে পেলে মনের ভেতর আনান্দ অনুভব করি। এ সময় কেনো গরুর গাড়ীর দেখা যায় না এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, সময়ের পরিবর্তন ঘটেছে,আর আগে চলাচলের রাস্তার অবস্থা খুবি খারাপ ছিল তাই গরুর গাড়ীই ছিল এলাকার মানুষের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম তাই গরুর গাড়ির ছিল তখন সুদিন।

আর এখন রাস্তায় চলাচলের ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে। আবার কালের পরিবর্তনে ইঞ্জিনচালিত গাড়ীর পাশে গরুর গাড়ীর টিকে থাকাটা সম্ভব হচ্ছে না বলেই গরুর গাড়ি হারিয়ে যাওয়ার পথে। মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, আমরা এ উপজেলায় যন্ত্রের ব্যবহার করছি, যান্ত্রিকতার কারণের ফলে কৃষিকাজে সাফল্য অজিত হয়েছে। যেমন ধান লাগানোর সময় শ্রমিক সংকট আবার ধান কাটার সময় শ্রমিক সংকট এই দুইটা সময় যদি আমরা যন্ত্রের ব্যবহার করতে পারি ইতিমধ্যে মিরপুরে শুরু হয়েগেছে।

এবার আমরা ৫০ বিঘা জমিতে ধান লাগাবো মেশিনের সাহায্যে। আবার ধান কাটার সময় একেবারেই ধান জমি থেকেই বস্তা বন্দী হয়ে যাবে। এক বিঘা জমিতে শ্রমিকদের দিয়ে ধান কাটালে খরচ হবে দুই থেকে তিন হাজার টাকা। আর যন্ত্রের সাহায্যে কাটলে খরচ হবে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা পযর্ন্ত। কৃষিতে যান্ত্রিকরনে একটা বিরাট সুফল, এই কারনেই কৃষিতে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানো উচিত। কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, বিজ্ঞানের উন্নয়নের ফলে কৃষিকাজে যন্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে।

এর ফলে কৃষি কাজ সহজ হয়েছে। কৃষি উন্নয়নে উল্লেখ্য যোগ্য অবদার রাখছে, জাতি সরাসরি সুবিধা ভোগ করছে। অর্থনীতি উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভার ফেলছে। কিন্তু সাংকৃতির দিক বিবেচনা করলে গরুর গাড়ি লাঙলসহ আগের যে যন্ত্র অংশ গুলো ব্যবহার করা হতো সেটার পরিবর্তে আধুনিক যন্ত্র অংশ ব্যবহার করা হচ্ছে। এটা অবশ্যই বাঙ্গালী সাংকৃতির দিক দিয়ে বাঙ্গালী সাংকৃতি আস্তে আস্তে লোপ পাচ্ছে। আসলে সময়ের পরিবর্তন আমাদের তো আর কিছু করার নেই। তবে এই পরিবর্তনটা আমি ইতিবাচক হিসাবেই দেখি।

আমাদের শিল্পায়নের যুগে এটা রোধ করা কখনোই সম্ভব নয়। ইসলামী বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারি শিক্ষক ড.বাকি বিল্লাহ বিকুল বলেন, মনে করেন এ পাশের গরুর গাড়িটা থেমে গেলো ও পাশে মায়ের আচঁল ধরে মাকে নিয়ে আরেকটা গাড়ীতে উঠলাম, এ যে প্রকৃতির সাথে নিবিড় সম্পর্ক, মায়ের সঙ্গে প্রকৃতির, গরুর গাড়ির সঙ্গে মমতাময়ী বাংলাদেশের। সেই যোগাযোগটা আসলে যন্ত্র চালিত গাড়ীতে পাওয়া যায় না। সেটা কিন্তু বড় বেদনার খুবই কষ্টের।

আবার আমাদের যেমন বেদনা আছে আমাদের তেমন কষ্ট আছে। আবার সময়ের পরিবর্তন আমাদের প্রয়োজনে সেই ঐতিহ্য বাংলার চিরো চেনা রুপ ছেড়ে এসেছি। আমাদের ভিতরে তো একটা কষ্ট কাজ করেই সে বেদনাকে অনুভব করি। কিন্তু আমাদের তো আর কিছু করার নেই কিন্তু কষ্ট হয়। চিরো চেনা গরুর গাড়ি বাংলার ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার জন্য। রোকনুজ্জামান কুষ্টিয়া

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন