মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৮:৫৬:৩৭ পিএম

শরীরে ঢুকে পড়ছে ক্ষতিকর প্লাস্টিক কণা

জাতীয় | শনিবার, ২৮ এপ্রিল ২০১৮ | ১১:৩২:১৩ এএম

আমরা প্রতিদিনই প্লাস্টিক কণা খাচ্ছি। ভাত, পানি, সবজি, মাছ সবকিছুর সাথে আমাদের শরীরে ঢুকে পড়ছে ক্ষতিকর প্লাস্টিক কণা। এর ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি প্রতিদিনই বাড়ছে। শুধু মানুষ নয় বিভিন্ন প্রকার পশু পাখিও এই প্লাস্টিক দূষণের শিকার। সারাবিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও প্লাস্টিকের ব্যবহার বাড়ছে। এর সাথে সাথে বিভিন্ন প্রকার রোগ ব্যাধিও বাড়ছে। বিভিন্ন গবেষণায় এই বিষয়ে উদ্বেগজনক তথ্য ফুটে উঠেছে।

ইউনিসেফের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্লাস্টিক দূষণ থেকে হাজার হাজার শিশুর মস্তিষ্ক বিকল হতে পারে। এছাড়া প্লাস্টিকের মধ্যে যেসব রাসায়নিক রয়েছে তার অনেকগুলোই আমাদের শরীরের কোষ ধ্বংস করে দিতে পারে।

বাংলাদেশের প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ে বেসরকারি স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জামান একটি গবেষণা করেছেন। তাতে তিনি বলেন, এতদিন পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্যের উপর প্লাস্টিকের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও এখন তা স্বাস্থ্যের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, ১৯৯০ সালে যেখানে দিনে ৬ হাজার ৫০০ টন প্লাস্টিক ব্যবহূত হত সেখানে ২০১৪ সালে তা দাঁড়ায় ২৭ হাজার টন। এর হার চলতে থাকলে ২০২৫ সালে বাংলাদেশে প্লাস্টিকের ব্যবহার দাঁড়াবে প্রতিদিন ৫০ হাজার টন।

এটি খুবই বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাজারের ব্যাগের পাশাপাশি আসবাবপত্র, গৃহস্থালি এবং বাণিজ্যিক কাজে বল্গাহীনভাবে বাড়ছে প্লাস্টিকের ব্যবহার। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্লাস্টিকের ক্ষুদ্রকণা দেদারসে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রসাধন সামগ্রীতে। পানির সাথে মিশে তা জলাভূমিতে গিয়ে পড়ায় মাছ তা খাচ্ছে। এরপর মাছের মাধ্যমে তা মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে।

বিশিষ্ট গাইনি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপিকা রাশিদা বেগম বলেন, প্লাস্টিকের গুঁড়া অনেক সময় শরীর থেকে বের হয়ে যেতে পারে। কিন্তু এতে যে কেমিক্যাল ব্যবহার হয় সেগুলো শরীরের মারাত্মক ক্ষতি করবে। যেমন গর্ভবতী মা এবং গর্ভের সন্তানের ক্যান্সারের ঝুঁকি থেকে যায়। অকাল গর্ভপাতসহ অটিজম বাচ্চার জন্ম হতে পারে। এছাড়া প্লাস্টিকের কেমিক্যালের কারণে ডায়াবেটিসসহ অকালে চুল পেকে যেতে পারে।

ক্যান্সার রোগের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আকরাম হোসাইন বলেন, প্লাস্টিকে যেসব কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় সেগুলোর কারণে ক্যান্সার হতে পারে। বাংলাদেশে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার এটা অন্যতম কারণ।

এদিকে সংবাদমাধ্যম সিএনএন রিপোর্ট করেছে গত কয়েক বছর ধরে বিজ্ঞানীরা আমাদের মাটি, ট্যাপের পানি, বোতলজাত পানি এবং বাতাসে প্লাস্টিকের ক্ষুদ্রকণার অস্তিত্ব নিরূপণ করে চলেছেন। এরফলে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। মহাসাগরেও প্লাস্টিক কণার পরিমাণ বাড়তে থাকায় সেখানকার মাছসহ অন্যান্য প্রাণীকুলের অস্তিত্ব বিপন্ন হচ্ছে। বর্তমানে সারাবিশ্বে প্রতিবছর ৩৩ কোটি টন প্লাস্টিক উত্পন্ন হচ্ছে।

লন্ডনের কিংস কলেজের এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ গ্রুপের পরিচালক প্রফেসর ফ্রাঙ্ক কেলি বাতাসে প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি বলেন, কেউ যদি মনে করে থাকেন বাড়ির ভেতর বসে থাকলে তিনি প্লাস্টিক কণা মুক্ত তাহলে তিনি ভুল করছেন। কারণ আমরা বাতাসে এইসব প্লাস্টিক কণার অস্তিত্ব পেয়েছি। বদ্ধ ঘরে থাকলেও আপনি বাতাস নিচ্ছেন। ঘরে ব্যবহার করা আসবাবপত্র থেকেও প্লাস্টিক কণা আসতে পারে। বর্তমানে আধুনিক বাড়িঘরে প্লাস্টিকের উত্স সবচেয়ে বেশি বলে তিনি প্রমাণ পেয়েছেন। বিশেষ করে প্লাস্টিকের ব্যবহার্য বিভিন্ন তৈজসপত্র, সিনথেটিক কার্পেট এবং আসবাবপত্র থেকে প্লাস্টিক আসছে বেশি।

দৈনিক ইত্তেফাক

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন