শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮ ০১:৫০:২৫ এএম

ইভিএম ও সেনা নিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা চায় ইসি

জাতীয় | শনিবার, ২৮ এপ্রিল ২০১৮ | ০৮:৪৪:০৬ পিএম

ভোটগ্রহণে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবহার আর নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার প্রত্যাশা করছে নির্বাচন কমিশন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিবন্ধিত দলগুলোর সঙ্গে করা সংলাপে পাওয়া মতামত নিয়ে প্রকাশিত বইয়ে এই বিষয়টি উঠে এসেছে।

কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেয়ার পর আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করার কাজে হাত দেয়। সাতটি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে এ সংলাপ করা হয়।

এতে নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলসহ সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম প্রতিনিধি, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, নির্বাচন পর্যবেক্ষক, নারী নেত্রীনেত্রীদের সঙ্গে সংলাপ করে মতামত নেওয়া হয়। গত বছর ৩১ জুলাই থেকে ২৪ অক্টোবর সময়ে এ সংলাপ চলে।

সংলাপ শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা সাংবাদিকদের জানান, সংলাপে যেসব প্রস্তাব এসেছে তা বই আকারে প্রকাশ করে রাজনৈতিক দল ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোয় পাঠানো হবে। আর ইসির পক্ষে যেগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব সেগুলো করা হবে। আইন সংশোধনের বিষয়গুলো সংসদে পাঠানো হবে। আর যেসব প্রস্তাব বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের বিষয় রয়েছে সেগুলো সরকারের ব্যাপার।

এরই মধ্যে নির্বাচনী সংলাপের সুপারিশসহ প্রতিবেদন সরকারের সব মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ইসির জনসংযোগ শাখার পরিচালক যুগ্মসচিব এস এম আসাদুজ্জামান ঢাকাটাইমসকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া সংলাপে যারা অংশ নিয়েছে তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

সংলাপে সংসদ বহাল রেখে বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন, ভোট গ্রহণে ইভিএম ব্যবহার, নির্বাচনে সেনা মোতায়েন না করা (করলে শুধু স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে রাখা), সংসদীয় আসনগুলোর বিদ্যমান সীমানা বহাল রাখাসহ বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে সংলাপে ইসির কাছে দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

আর বিএনপি বর্তমান সংসদ বিলুপ্ত, নির্বাচনী সহায়ক সরকার, নির্বাচনে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েন, ইভিএম ব্যবহার না করা, সংসদীয় আসনের সীমানা ২০০৮ সালের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়াসহ ২০ দফা দাবি জানায় ইসির কাছে।

সংলাপে যে প্রস্তাব এসেছে সেগুলো সম্পর্কে বলা হয়, ‘কিছু প্রস্তাব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা ছাড়া বাস্তবায়ন সম্ভব নয়, যদিও বিদ্যমান আইন কাঠামোয় রয়েছে। কিছু প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে নির্বাচনব্যবস্থার জন্য বর্তমান আইনি কাঠামের সংস্কার ও পরিবর্তন প্রয়োজন।’

‘কিছু প্রস্তাব বিদ্যমান আইন কাঠামোর মধ্যে বাস্তবয়নযোগ্য হলেও রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া এগুলো নির্বাচন কমিশনের এককভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। কিছু প্রস্তাব রয়েছে যা সাংবিধানিক প্রভিশনের পরিবর্তন বা সংশোধনের পূর্বে বিবেচনা করার কোনো অবকাশ নেই। এগুলো সরকার বিবেচনা করতে পারে।’

সংলাপের প্রস্তাবগুলো প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কিছু প্রস্তাব ও সুপারিশ সংবিধানের সঙ্গে সম্পর্কিত, কিছু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল, কিছু বাস্তবায়ন নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত।

সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন; নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সহায়ক সরকার, দলের প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা করা, সংসদের আসন বৃদ্ধি, সংরক্ষিত নারী আসন বৃদ্ধি ও সরাসরি নির্বাচন; কিছু মন্ত্রণালয়/বিভাগকে নির্বাচনকালীন নির্বাচন কমিশনের আধীনে ন্যস্ত করার বিষযে প্রস্তাবে কমিশনের কিছু করার নেই বলে বইয়ে মন্তব্য করা হয়েছে।

এসব প্রস্তাব সম্পর্কে বলা হয়, এগুলোর সঙ্গে সাংবিধন সংশোধন ও পরিবর্তন জড়িত, তা সরকারের বিবেচনাযোগ্য। এগুলোতে কমিশনের কিছু করার নেই।

নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রধানদের নিয়ে ফোরাম গঠন; স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য এক শতাংশ ভোটের স্বাক্ষরসংবলিত তালিকা জমাদানের বিষয় বাদ দেয়া; ‘না’ ভোটের বিধান পুনরায় চালু করা; ইভিএম ব্যবহার; প্রবাসী নাগরিকদের ভোটাধিকার, সরকারি খরচে প্রার্থীদের প্রচারণা এবং সব প্রার্থীর একক পোস্টার ছাপান, কমিশনের তত্ত্বাবধানে একই মঞ্চে জনসভা; সেনা মোতায়েন; দলগুলোর মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন; বিভিন্ন ধাপে নির্বাচন করে একদিনে ফলাফল প্রকাশ; সীমানা পুনঃনির্ধারণ করার প্রস্তাব এসেছে সংলাপে।

প্রতিবেদনে ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, কমিশনকে সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে কাজ করতে হবে বিধায় রাজনৈতিক সমঝোতার সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রস্তাবগুলো রাজনৈতিক দলগুলোকে রাজনৈতিকভাবে সমাধান করতে হবে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন