সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮ ০১:০৯:১৯ পিএম

বাঁচার আকুতি সেই আবু ভাইয়ের

নুরুজ্জামান খান | শিক্ষাঙ্গন | মঙ্গলবার, ১ মে ২০১৮ | ০৯:৫০:২৮ এএম

আবু আহমেদ ডাক নাম আবু ভাই। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছোট খাবার দোকান ‘আবুর ক্যান্টিন’র মালিক কিন্তু শিক্ষার্থীদের নিকট ভালোবাসার এক নাম। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন আন্দোলন, সংগ্রামের সাথেও জড়িয়ে আছে আছেন তিনি।

কেননা অধিকাংশ আন্দোলনের পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন সবকিছুর আলোচনা ও সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলো তার ক্যান্টিন। এক সময় তার ক্যান্টিনে অনেক মানুষ ও শিক্ষার্থী বাকি খাবার খেতেন। অনেকে আবু ভাইয়ের সহায়তা নিয়ে চলতে।

সে আবু আজ একটু সহায়তার অভাবে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। অন্যকে বাকিতে খাওয়ানো আবু ভাই আজ না খেয়ে দিনাতিপাত করছেন। নানা রোগ বাসা বেধেছে তার শরীরে। ৭৫ বছর বয়সী আবু নিজে উপার্জন করার শক্তিটুকুও হারিয়েছেন। ডায়াবেটিস ও হার্টের সমস্যার পাশাপাশি দুইটি কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে তার।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চার বছর আগে পায়ের অপারেশন করান আবু আহমেদ। এরপর থেকেই শরীরে বাসা বাঁধতে থাকে নানা রোগ। বর্তমানে ডায়াবেটিস ও হার্টের সমস্যার পাশাপাশি তার দুইটি কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে। টানা ২০ দিন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কাটিয়ে গত ২০ এপ্রিল বাসায় ফিরেছেন। তবে সুস্থ হবার লক্ষণ তেমন নেই। শুধু বিছানায় পড়ে আছেন। আর দিন গুণছেন মৃত্যুর! তিন ছেলের সবাই আলাদা থাকেন। দুই মেয়েরও বিয়ে হয়ে গেছে। প্রতিদিন প্রায় ৫০০ টাকার ঔষধ প্রয়োজন হয় আবু আহমেদের।

যা পরিবারের পক্ষে বহন করা কঠিন। সেজন্য সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহযোগীতা চেয়েছেন তার পরিবার। আবু আহমেদ জন্য সহযোগীতা পাঠানো যাবে ব্যক্তিগত বিকাশ নাম্বার ০১৭২৩১৫৩৪৬০ এ। আবু আহমেদের ক্যাম্পাসের দিনগুলোকে বর্ণনা করে সাবেক শিক্ষার্থীরা বলেন, আবু ভাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিকট ভালোবাসার এবং পরিচিত এক নাম। যিনি ছাত্রদের নিকট বাবার মতো আচরণ করতেন। টাকার অভাবে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী না খেয়ে থাকবে তা তিনি মেনে নিতেন না। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদে বাকি খাবার খাওয়াতেন। সেই আবু ভাই আজ না খেয়ে আছে যা ভাবতেই কষ্ট লাগে। তিনি স্বাধীনতার পর ১৯৭৭ সালে তিনি দোকানটি পুণরায় স্থাপন করেন বর্তমান শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার টিএসসিসির পূর্ব পাশে। এরপর থেকে তার দোকানের জনপ্রিয়তা ক্রমেই বেড়েছে। দীর্ঘদিন চালানোর পর শারিরীক অসুস্থতার কারণে ২০০৭ সালের দিকে বন্ধ করে দেন দোকান।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ২০১৫ সালে বর্তমান ১ম ও ৪র্থ বিজ্ঞান ভবনের মাঝখানের জায়গাতে আবারো ক্যান্টিন খোলেন আবু আহমেদ। তবে অসুস্থতার কারণে এক বছর আগে আবারো বন্ধ হয়ে যায় তার ক্যান্টিন। এখনো বন্ধই রয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে তার আয়ের রাস্তা। কথা তেমন বলতে পারেন না। শুধু চেয়ে থাকেন অপলক। যেন একটু বেঁচে থাকার আশ্রয় খুঁজে ফিরছেন। কিছু খেতে পারছেন না, ঠিকমতো প্রসাব হয়না, চলাফেরাও করতে পারেন না। আবু আহমেদের সেই আকুতি কি পুরণ হবে?

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন