শুক্রবার, ২০ অক্টোবর ২০১৭ ১২:১৬:৪৩ এএম

ফিরতে চায় বেলাল বাবার মা কাছে

জেলার খবর | ঝালকাঠি | রবিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | ০৯:২১:৫৪ এএম

বাড়ির পাশে খেলা করার সময় অপহৃত হয় সে। বয়স তখন ৫ বছর। এরপর বাংলাদেশের পাচারকারীরা ভারতীয় সীমান্তের পাচারকারীদের কাছে তাকে বিক্রি করে দেয়।

ভারতে নিয়ে আসামের গোহাটিতে পাহাড়ি এলাকায় এক মদের কারখানায় দীর্ঘ ১২ বছর বন্দী করে কাজ করায়। কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে ফেনীর পশুরাম সীমান্ত দিয়ে দালালদের মাধ্যমে তিনশ টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশে আসে শিশু থেকে বেড়ে ওঠা ১৭ বছর বয়সী কিশোর। আর এ কিশোর হলো ঝালকাঠির রাজাপুরের বাইপাস এলাকার বেলাল হোসেন।

বেলাল ঝালকাঠির রাজাপুরের বাইপাস এলাকার জসিম উদ্দিন ও সেলিনা খাতুনের সন্তান। এইটুকু ছাড়া তার অন্য কিছুই মনে নেই। সেই সূত্র ধরেই ফেনী থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে শুক্রবার রাতে ঝালকাঠির রাজাপুরের বাইপাস এলাকায় আসে বেলাল। স্থানীয় খসরু নামে এক সবজি বিক্রেতা তাকে আশ্রয় দিয়ে বাবা মাকে খোঁজার চেষ্টা করেন।

এখন থানা পুলিশের সহযোগিতায় স্থানীয় সাংবাদিকরা বিভিন্নভাবে তার পরিবারকে খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিয়েছেন। বেলাল বাংলা ভাষা বুঝলেও কথা বলতে পারেন না বাংলায়। শুধু হিন্দিতেই কথা বলেন।

বেলাল জানান, তার বাবা খুব সকালে বাড়ি থেকে কাজে বের হতেন। ফিরতেন গভীর রাতে। তবে কি কাজ করতেন তা মনে নেই। কাঁচা রাস্তার পাশে টিনের ঘরে মা সব সময় তাকে আগলে রাখতেন।

এরপর সবার অজান্তে শিশু পাচারকারীর কবলে পড়ে হারিয়ে যায় তার জীবন থেকে ১২টি বছর। এই সময় বহু অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে তাকে। তবুও মাটির টান বাবা-মায়ের টান ভুলতে পারেননি। সেই এক যুগ ধরেই তার লড়াই আর আপ্রাণ চেষ্টা ছিল মায়ের কাছে ফিরে আসার। এরপর ভারতের আসামের গোহাটি পাহাড়ের মদের কারখানার দারোয়ানের কাছে কাকুতি মিনতি করে বের হন বেলাল।

এরপর বাংলাদেশের ফেনী থেকে স্থানীয় রানা নামে এক ব্যবসায়ীর সহযোগিতায় ট্রেনে লক্ষ্মীপুর আসেন। সেখান থেকে লঞ্চযোগে ভোলা ও বরিশাল হয়ে ঝালকাঠির রাজাপুর বাইপাস এলাকায় আসেন। তবে এর অধিকাংশ সময়ই তাকে খেয়ে না খেয়ে কাটাতে হয়েছে।

বেলাল বলেন, ‘আমি অনেক কষ্ট করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এদেশে এসেছি শুধু বাবা-মাকে ফিরে পেতে। আমি বাবা-মাকে ছাড়া আর কারো কাছে কিছুই চাই না।’

রাজাপুর থানার পরিদর্শক (ওসি) শেখ মুনীর উল গিয়াস জানান, ‘বিষয়টি অত্যন্ত নির্মম। ইতোমধ্যে বিষয়টি ঝালকাঠি পুলিশ সুপারকে অবহিত করেছি। বেলালের পরিবারকে খুঁজে বের করতে থানা পুলিশ সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে।’

ইউএনও শাহ মো. রফিকুল ইসলাম জানান, বেল্লাল হোসেনের পরিবারের সদস্যদের পেলে উপযুক্ত প্রমাণ দিয়ে তাকে নিতে হবে। অন্যথায় সমাজসেবা অধিদফতরের মাধ্যমে সেভহোমে পাঠানো হবে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন