শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮ ১০:৪৬:১১ পিএম

ওষুধে গর্ভপাত হয়নি, সন্তান জন্ম দিচ্ছেন ধর্ষণের শিকার রোহিঙ্গা মায়েরা

জাতীয় | মঙ্গলবার, ১ মে ২০১৮ | ১১:৩১:১৫ এএম

আজ পহেলা মে, রোহিঙ্গা ঢল নামার ৯ মাস পার হতে চলছে। গত বছরের আগস্ট থেকে রাখাইন রাজ্যে জাতিগত নিধন অভিযানে যখন বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে, তখন মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পরিকল্পিত ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার শিকার হওয়ার বিবরণ দিয়েছেন রোহিঙ্গা নারীরা।

নারী ও শিশুদের নিয়ে কাজ করা দাতব্য সংস্থাগুলো এ সময়টার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ধরপাকড়ের সময় যৌন সহিংসতার শিকার হয়ে গর্ভবতী হওয়া নারীরা আগামী কয়েক সপ্তাহে তাদের সন্তান জন্ম দেবেন। কারও কারও সন্তান জন্মও নিয়েছে।

আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন বলেছে, আগামী কয়েক মাসে মায়েদের পরিত্যক্ত সন্তানদের সংখ্যা বেড়ে যাবে।

চিকিৎসকদের সংস্থা মেডিসিনস স্যানস ফ্রন্টিয়ার্স(এমএসএফ) কক্সবাজারে বিভিন্ন হাসপাতাল পরিচালনা করছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারাও আক্রান্ত মায়েদের কাউন্সেল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এসব মায়েরা ভাবছেন, তারা নবজাতকদের লালন-পালন করতে পারবেন না কিংবা তাদের লালনা করার উপায় উপকরণ তাদের কাছে নেই।

মেডিসিনস স্যানস ফ্রন্টিয়ার্স বলেছে, এ সব মায়েদের অধিকাংশের বয়স ১৮ বছরের নিচে। অবাঞ্ছিতভাবে সন্তান গর্ভধারণের ক্ষেত্রে সামজিক কলঙ্কের চিন্তা তাদের মানসিক পীড়ন বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু এবারেই প্রথম তারা এভাবে সন্তান জন্ম দিচ্ছে না।

আয়েশা আকতার নামের এক রোহিঙ্গা নারী বলেন, মংডু শহরে সহিংসতার সময় মিয়ানমারের তিন সেনা তাদের ঘরে প্রবেশ করে তার পাঁচ সন্তানকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় ও তাকে ধর্ষণ করে। ২০১৬ সালের নভেম্বর থেকে রাখাইন রাজ্যে এমন ঘটনা অহরহ ঘটে আসছে।

আয়েশার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে ২০১২ সালে। তিনি বলেন, এ নোংরা ঘটনার শিকার হওয়ার পর প্রায়ই তিনি বিচলিত হয়ে পড়েন। তিনি এটা প্রতিবেশীদের কাছ থেকে গোপন রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু শারীরিক পরিবর্তন দেখে তারা বুঝতে পারে।

বালুখালির পাহাড়ের ঢালে স্থাপন করা ত্রিপলের ভেতর বসে এই রোহিঙ্গা নারী বলেন, সেনারা যখন গ্রামে হানা দেয়,তখন তারা নারীদের ধর্ষণ করে এটা সবাই জানে।

মিয়ানমারে গর্ভপাত ছাড়া রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্যসেবা নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। ৩৪ বছর বয়সী আয়েশা বলেন গ্রামের চিকিৎসকের কাছ থেকে তিনি ওষুধ কিনেছিলেন। কিন্তু তা খাওয়ার পরেও তার গর্ভপাত হয়নি। এটাকে কলঙ্কজনক ঘটনা ভেবে লজ্জায় প্রতিবেশীদের কাছ থেকেও তিনি কোনো সাহায্য চাইতে পারেননি।

আয়েশা বলেন, একজন বিধবা হিসেবে আমাদের সমাজে গর্ভপাতের জন্য সাহায্য চাওয়াও অনেক কঠিন। কাজেই গর্ভধারন থেকে মুক্ত হওয়ার অন্য উপায় খোঁজাও আমি বন্ধ করে দেই। আমি সবকিছুই আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছি।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন