বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ ১০:৪৬:৫৩ পিএম

রানা প্লাজা ধসের পর সর্বোচ্চ সংখ্যক শ্রমিক নিহত হয়েছে ২০১৭ সালে: ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের জরিপ

জাতীয় | মঙ্গলবার, ১ মে ২০১৮ | ১২:০৫:৫২ পিএম

রানা প্লাজা ধসের পর দেশে কর্মক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শ্রমিক নিহতের ঘটনা ছিল ২০১৭ সালে। এ বছর কর্মক্ষেত্রে নিহত হয়েছে ৭৮৪ জন শ্রমিক। আহত হয়েছে ৫১৭ জন। শ্রমিক নিরাপত্তায় গঠিত এ্যাকোর্ডের সনদ দেওয়া নিরাপদ কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে শ্রমিক নিহতের পুনরাবৃত্তি ঘটে এ বছর। রানা প্লাজা ধসের বছর ২০১৩ সালে শ্রমিক নিহত হয়েছিল ১ হাজার ৭০৬জন। ওই বছর কর্মক্ষেত্রে আহত শ্রমিকের সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৮২৫ জন।

সোমবার এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ। ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পঁচ বছর সারা দেশের শ্রম খাতের পরিচালিত জরিপের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করে।

প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, রানা প্লাজা ধসের পর ভবন ধসে বা আগুনে পুড়ে বেশি সংখ্যক শ্রমিক নিহতের ঘটনা না ঘটলেও শ্রমিক নিহতের ঘটনা অব্যাহত আছে। প্রতিবছরই কর্মক্ষেত্রে কম-বেশি শ্রমিক নিহতের ঘটনা ঘটেছে। রানা প্লাজা ধসের পরের বছর ২০১৪ সালে কর্মক্ষেত্রে শ্রমিক নিহতের ঘটনা ঘটেছে ৬০৩ জন; আহত হয়েছে ৬৮৫ জন। ২০১৫ সালে কর্মক্ষেত্রে নিহত হয়েছে ৩৬৩ জন; আহত হয়েছে ৩৮২ জন। ২০১৬ সালে নিহত হয়েছে ৬৯৯ জন; আহত হয়েছে ৭০৬।

২০১৭ সালে একক খাত হিসাবে সর্বোচ্চ শ্রমিক নিহতের ঘটনা ঘটেছে পরিবহন খাতে। এরপরেই রয়েছে নির্মাণ খাতে। এ বছর পরিবহন খাতে নিহত হয়েছে ৩০৭ জন শ্রমিক। নির্মাণ খাতে নিহত হয়েছেন ১৩৪ জন শ্রমিক। এর মধ্যে ১৩১ পুরুষ, আর নারী শ্রমিক ছিলেন ৩ জন। এর বাইরে আরও ৯২ শ্রমিকের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে এ খাতে। এরপর সংগঠিত খাত হিসাবে কর্মস্থলে শ্রমিক নিহতের ঘটনা ঘটেছে চালকলে। চালকলে দুর্ঘটনায় উল্লেখযোগ্য হারে নিহত হয়েছেন নারী শ্রমিক। এ খাতে ২৫ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন এর মধ্যে নারী শ্রমিক নিহত হয়েছেন ৫ জন। অর্থাৎ ওই খাত মোট নিহত শ্রমিকের মধ্যে ২০ ভাগই নারী শ্রমিক।

২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের পর তৈরি পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের পেশাগত নিরাপত্তার উদ্যোগ নেয় উত্তর আমেরিকার ক্রেতাদের প্রতিষ্ঠান এ্যালায়েন্স এবং ইউরোপের ক্রেতাদের প্রতিষ্ঠান এ্যাকোর্ড। ২০১৭ সালের ৩ জুলাই গাজীপুরের মাল্টিফ্যাব নামে একটি কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে ১৩ জন শ্রমিক নিহত হয়। ত্রুটিপূর্ণ ভবন নির্মাণ, শ্রমিকদের জবরদস্তি করে কাজ করানো ও বয়লারের সঠিক ব্যবহার না করার কারণে রানা প্লাজা ধসে সহশ্রাধিক শ্রমিক নিহত হয়। এ কারণ চিহ্নিত করে সমাধান করার জন্য গঠিত হয় এ্যাকোর্ড-এ্যালায়েন্স। গাজীপুরের বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় এ্যাকোর্ড-এলায়েন্সের অসারতার বিষয়টি উঠে আসে। কারণ ওই কারখানাটি ছিল এ্যাকোর্ড এর সনদ দেওয়া কারখানা। প্রশ্ন উঠে তাহলে এ্যাকোর্ডের কাজের কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা আছে।

এ বিষয়ে গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু বলেন, বহুজাতিক এ প্রতিষ্ঠানগুলো শ্রমিকদের নিরাপত্তায় কোন কাজ করেনি। তাদের পুঁজির সুরক্ষা করতে যতটা কাজ করার দরকার তাই করেছে। তারই প্রমান করে গাজীপুরের মাল্টিফ্যাব কারখানা বয়লার বিস্ফোরণ।-আমাদের সময়

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন