শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৭:৫৯:২৯ এএম

মিরপুরে পুলিশের পৃষ্ঠপোষকতায় রমরমা জুয়া ও মাদকের আসর

নগর জীবন | মঙ্গলবার, ১ মে ২০১৮ | ১২:০৫:৫৩ পিএম

মিরপুরের পল্লবীর একটি বাড়িতে প্রতিরাতে বসে জুয়ার জমজমাট আসর। বিভিন্ন প্রভাবশালী পক্ষকে ম্যানেজ করে চলছে এই জুয়ার অবৈধ কারবার। খোদ পল্লবী থানার ওসি দাদন ফকির এই জুয়ার বোর্ড প্রতিমাসে নিলাম তোলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এখান থেকে ওসি নেন মোটা অঙ্কের অর্থ। এ ছাড়া স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতার পকেটে যায় অর্থ। জুয়া খেলার সঙ্গে সমানতালে চলে ইয়াবা বিকিকিনি ও সেবন। পুলিশের একটি গোয়েন্দা ইউনিটের করা গোপন প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে। পরে প্রতিবেদনটির বিষয়ে সরেজমিন ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়।

পল্লবী থানার ১০ নম্বর সেকশনের ‘এ’ ব্লকের ৩ নম্বর লাইনের একটি টিনশেড বাড়ির তিনটি কক্ষ নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে এ জুয়ার আসর। সালাউদ্দিন (৩৫) ও ওবায়দুর ওরফে ওবাইদ (৪২) নামে দুই ব্যক্তি এই জুয়ার বোর্ড পরিচালনা করেন। এ ছাড়া ১৭ নম্বর রোডের ফকিরপট্টিতে কমিউনিটি পুলিশের অফিসের পাশে সাথী ক্লাবেও জুয়ার আসর বসানো হয়। টিনশেড ঘরের তিনটি রুমে আটটি জুয়ার বোর্ড বসানো হয়। প্রতিটি বোর্ডে চারজন করে মোট ৩২ জন জুয়া খেলায় অংশ নেন।

ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত গুটি দিয়ে জুয়া খেলা হয়ে থাকে সেখানে। এ ছাড়া একই স্থানে রাত ৮টা থেকে ভোর পর্যন্ত তাস দিয়ে কাইট ও থ্রি কার্ড নামক পদ্ধতিতে জুয়া খেলা হয়। এসব স্পটে প্রভাবশালী ব্যক্তিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন জুয়া খেলায় অংশ নিয়ে থাকে। ওই স্পট থেকে প্রতিদিন ১২ লাখ টাকা তোলেন বোর্ড পরিচালনাকারীরা। বোর্ডের অন্যতম পরিচালক সালাউদ্দিন নিজে গিয়ে পল্লবী থানার ওসিকে প্রতিসপ্তাহে নির্ধারিত টাকা দিয়ে আসেন। এ ছাড়া রূপনগরের ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহিরুল ইসলাম মানিকসহ অন্যদের মোটা অঙ্কের অর্থ দিয়ে চলছে এই আসর।

গোপন প্রতিবেদনটি হাতে আসার পর সরেজমিন পল্লবী গিয়ে দেখা যায়, এলাকায় স্পটটি জুয়ার আসর হিসেবে সবাই চিনলেও কেউ ভয়ে মুখ খোলেন না। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জানান, চোখের সামনে এমন অপকর্ম চললেও কিছু বলতে পারি না। কারণ পুলিশসহ প্রভাবশালীরাই এর সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে কে কথা বলবে। এলাকার তরুণরা জুয়ার ফাঁদে পড়ে বিপথগামী হচ্ছে বলে জানান তারা। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানান এলাকাবাসী।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পল্লবী থানার ওসি দাদন ফকির বলেন, জুয়ার আসরটি আমরা কিছু দিন আগে বন্ধ করে দিয়েছি। এখন সেটি চলছে কিনা, তা এই প্রতিবেদকের কাছে জানতে চান তিনি। পুলিশের কেউ সেখান থেকে কোনো অর্থ নেন না বলেও দাবি তার।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আহম্মেদ বলেন, এসব বিষয়ে জিরো টলারেন্স দেখানো হয়। বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনি তথ্যগুলো আমাকে দিন, ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহিরুল ইসলাম মানিকের দুটি মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। পরে ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হলেও তাতে সাড়া দেননি তিনি।

-দৈনিক আমাদের সময়।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন