শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ ০৬:২১:১৭ এএম

‘শুধু আইন দিয়ে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায় সম্ভব নয়’

বিনোদন | মঙ্গলবার, ১ মে ২০১৮ | ০৫:২৯:৪০ পিএম

১৮৮৬ সালের পয়লা মে, অধিকার আদায়ের সংগ্রামে পুঁজিবাদের প্রাণ কেন্দ্র যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর হে মার্কেটের সামনে জড়ো হয় হাজার হাজার শ্রমিক। মালিক শ্রেণির বিরুদ্ধে একসঙ্গে হাজার হাজার শ্রমিক আন্দোলন করেন। মালিক শ্রেণির আদেশে পুলিশের হামলায় নিহত হয় ১০-১৫ জন শ্রমিক।

এই আন্দোলনে শিকাগো শহরে পুলিশের গুলিতে নিহত শ্রমিকদের স্মরণ করতে প্রতি বছর পয়লা মে পালন করা হয় ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস’। এই আন্দোলনকে ঘিরে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ভাষায় তৈরি হয়েছে অনেক গান। এসব গান শ্রমিকদের প্রেরণা যোগাতে কাজ করেছে।

বাংলাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর। গণসংগীত ও দেশীয় পপ সংগীতে তার ব্যাপক অবদান রয়েছে ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে গণসংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে এক বিশেষ ভূমিকা পালন করেন তিনি। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে একজন শব্দ সৈনিক হিসেবে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে যোগ দেন এই শিল্পী। শ্রমিকদের নিয়ে আন্তর্জাতিকত ধারায় ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রচিত গানগুলোও গেয়েছেন তিনি।

বাংলা ভাষার হেমাঙ্গ বিশ্বাসের গাওয়া ‘নাম তার ছিল জন হেনরি’ গানটিও গেয়ে থাকেন ফকির আলমগীর। শ্রমিকদের আন্দোলনে এই গানটি তুমুল জনপ্রিয়। মুক্তিকামী মানুষের কাছে ‘জন হেনরি’ গানটি দারুণ এক অনুপ্রেরণা। এছাড়া তিনি নিজেও শ্রমিকদের নিয়ে দুটি গানের অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন। মহান মে দিবস উপলক্ষে সঙ্গে কথা বলেন ফকির আলমগীর। এ আলাপচারিতার অংশবিশেষ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

মহান মে দিবসকে ঘিরে আপনার ব্যস্ততা জানতে চাই।
ফকির আলমগীর : মে দিবস এলেই প্রতি বছর আমার ব্যস্ততা আরো বেড়ে যায়। আমি শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের জন্য শ্রমিকদের নিয়ে গান করি। আজ সকাল থেকে কয়েকটি টেলিভিশনে গান ও কথা বলেছি। এছাড়া উন্মুক্ত স্থানে গণসংগীত পরিবেশনা ও আবৃত্তি করেছি।

মে দিবসে আপনার গানগুলো কেমন থাকে?
ফকির আলমগীর : শ্রমিক ভাইদের জন্য আমি সহজ-সরলভাবে গান করি। এসব গানে শ্রমিকদের কথা থাকে। শ্র্র্রমিকরা এই গানগুলো খুব সহজেই বুঝতে পারেন। এছাড়া জন হেনরি’র গানটিসহ আরো কিছু গান পরিবেশনা করছি।

বাংলাদেশের শ্রমিকরা তাদের অধিকার কতটা আদায় করতে পেরেছে বলে মনে করেন?
ফকির আলমগীর : শ্রমিকরা তাদের অধিকার আদায় করতে পারেনি তা বলব না। তারা অনেক ক্ষেত্রেই পেরেছেন। ১০০ ভাগ অধিকার আদায় করতে পারেনি বলেই মাঝে মাঝে খবরের পাতায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা পড়তে হয়। তবে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রদানে মালিকদের আরো আন্তরিক হতে হবে। কারণ শুধু আইন দিয়ে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায় সম্ভব নয়।

স্বাধীনতা যুদ্ধে আপনার অংশগ্রহণ ছিল। আজ দেশ কতটা কলঙ্ক মুক্ত হয়েছে?
ফকির আলমগীর : জাতি কলঙ্ক মুক্ত হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার আসামী, বুদ্ধিজীবী হত্যার আসামীদেরকেও ফাঁসি দিতে হবে। তবেই আমাদের দেশ কলঙ্ক মুক্ত হবে।
স্বাধীনতা ও দেশের ইতিহাস নতুন প্রজন্ম সঠিকভাবে কতটা জানতে পারছে বলে মনে করেন?
ফকির আলমগীর : স্বাধীনতা বিরোধীরা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিল। তখন আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছে। নতুন প্রজন্মের মাঝে ভুল ইতিহাস জানানো হয়েছে। তাদের পরাজিত করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার ক্ষমতায় এসেছে। মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধগুলো আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। অবহেলিত মুক্তিযোদ্ধাদের আবার পূনর্বাসন করা হচ্ছে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের গেজেট প্রকাশ করে তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। এগুলো অত্যন্ত শুভ উদ্যোগ।

নতুন প্রজন্ম স্বাধীনতার চেতনা কতটা লালন করছে বলে আপনি মনে করেন?
ফকির আলমগীর : নতুন প্রজন্মের মধ্যে স্বাধীনতার চেতনা অনেক বেশি। আমি খুবই আশাবাদী। নতুন প্রজন্ম শুধু অপশক্তিকে রুখে দাঁড়ায়নি, শাহবাগে বসন্ত থেকে তেল গ্যাস আন্দোলনেও তারা অনেক ভূমিকা রেখেছে। নতুন প্রজন্ম খুবই প্রযুক্তি নির্ভর। তারা মিথ্যাকে মিথ্যা জানে আবার সত্যকে সত্য জানে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন