রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ ১০:৩৯:৩৯ এএম

আজও বজ্রপাতে প্রাণ গেল ৭ জনের

জাতীয় | বুধবার, ২ মে ২০১৮ | ০৭:৪১:৪১ পিএম

দেশের ছয় জেলায় বজ্রপাতে চারজন মারা গেছেন। বুধবারের (২ মে) বিভিন্ন সময় রাজশাহী, কিশোরগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও হবিগঞ্জে এসব বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।

রাজশাহীতে মোজাফফর হোসেন ওরফে মুশা (৬০) নামে এক বৃদ্ধের বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে। তিনি জেলার পবা উপজেলার দামকুড়া গ্রামের বাসিন্দা। বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম জানান, দুপুরে তুমুল ঝড়বৃষ্টির মাঝে বাড়িতেই ছিলেন আরএমপির দামকুড়া থানা এলাকার বাসিন্দা মোজাফফর। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঘোষণা করেন। এ নিয়ে দামকুড়া থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

কিশোরগঞ্জের নিকলীতে বজ্রপাতে আলী আকবর (৩৫) নামে এক ধানকাটা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হয় টিটু (১২) নামে এক শিশু ও সাইফুল ইসলাম (৪০) নামে দুই ধানকাটা শ্রমিক। আহতদের সংকটাপন্ন অবস্থায় নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হঠাৎ ঝড়বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতের সময় উপজেলার বলদা ও নবীনগর হাওরে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

নিহত আলী আকবর নিকলী উপজেলার নবীনগর গ্রামের মৃত মিলু মিয়ার ছেলে। আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি টিটু উপজেলার কারপাশা ইউনিয়নের গৌরীপুর গ্রামের বকুল মিয়ার ছেলে এবং সাইফুল ইসলাম একই গ্রামের মনু মিয়ার ছেলে বলে নিকলী থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের চাঁনভাসা এলাকায় বুধবার সকালে বজ্রপাতে সোনাদ্দি (৪০) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত সোনাদ্দি একই ইউনিয়নের শুকনাপাড়া গ্রামের এরফান আলীর ছেলে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ওসি মঞ্জুর রহমান জানান, সোনাদ্দি তার শ্বশুরবাড়ি চাঁনভাসা এলাকায় জমিতে ধান কাটছিল। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বজ্রপাতে তিনি ঘটনাস্থলে মারা যান।

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার পল্লীতে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতের কবলে পড়ে আবদুল জব্বার (৪০) নামে এক কৃষক মারা গেছেন। বুধবার দুপুরে উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের রুকনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ওই গ্রামের মৃত আশ্বব আলীর ছেলে কৃষক আবদুল জব্বার জমিতে ধান কাটতে যান। পরে টানা ঝড়বৃষ্টির মধ্যে বজ্রপাতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

বানিয়াচংয়ে হাওরে ধান কাটতে গিয়ে পৃথক স্থানে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও এক শ্রমিক। বুধবার সকালের দিকে বজ্রপাত হলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, বড় ইউরি পুরদিকার হাওরে ধানকাটার সময় শাহীন মিয়া (২৬) নামে এক শ্রমিক নিহত হন। শাহীন বড় উরি গ্রামের তাহির মিয়ার ছেলে। এ সময় আহত হন একই গ্রামের নূর হুসেনের ছেলে জাহের মিয়া (৩৫)। তাকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল মজিদ চৌধুরী বজ্রপাতে নিহত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে মকার হাওরে ধান কাটতে গিয়ে নিহত হয়েছেন বানিয়াচং সদরের বাসিয়াপাড়ার আজিম উল্লাহ (৪০)। তিনি ছইদ উল্লাহর ছেলে। ইউপি চেয়ারম্যান রেখাছ মিয়া জানান, হালকা ঝড়ের সঙ্গে বজ্রপাত পড়লে আজিম ঘটনাস্থলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার চরাঞ্চলে ধানকাটার সময় বজ্রপাতের আঘাতে সানোয়ার হোসেন(৩০) নামে এক কৃষক নিহত ও রফিকুল ইসলাম (৪৫) নামে আরেক কৃষক আহত হয়েছেন।

বুধবার সকালে উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের ছিন্নারচর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

সানোয়ার ওই গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে ও আহত রফিকুল একই গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে।

মনসুরনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সোহেল আলম জানান, সকালে বৃষ্টির মধ্যে সানোয়ার ও রফিকুল বাড়ির পাশে মাঠে ধান কাটতে যান। এ সময় বজ্রপাতের আঘাতে তাদের শরীর ঝলসে যায়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সানোয়ারকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত রফিকুল বর্তমানে চিকিৎসাধীন।

নওগাঁর মান্দায় বজ্রপাতে নাজমুল হক মণ্ডল (২৫) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুরে উপজেলার মহানগর গ্রামের মাঠ বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।

নাজমুল উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের মহানগর নিচপাড়া গ্রামের সাইফুদ্দিন মন্ডলের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নাজমুল হক তার বাড়ির পাশের মাঠে ধান কাটার কাজ করছিলেন। দুপুরের দিকে আকাশ হঠাৎ কালো মেঘে ঢেকে যায়। নাজমুল ধান কাটা কাজ রেখেই বাড়ির দিকে আসছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাত হলে মাঠের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।

মান্দা থানার ওসি আনিছুর রহমান বজ্রপাতে নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন