বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮ ০২:২২:৫৮ এএম

বাজেট বাস্তবায়নে পিছিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়

অর্থনীতি | বুধবার, ২ মে ২০১৮ | ০৯:৪৩:১৬ পিএম

চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৯১৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে গত মর্চ পর্যন্ত অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে অর্থ ছাড় করা হয় ৫২০ কোটি ৬৬ লাখ ২৬ হাজার টাকা। আর এ সময়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় অর্থ খরচ করতে পেরেছে ৪২২ কোটি ১৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।

অর্থৎ গত নয় মাসে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বাজেট বাস্তবায়নের হার হলো ৪৬ দশমিক ১৬ শতাংশ। বাকি ৫৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ বাস্তবায়নের জন্য সময় রয়েছে মাত্র তিন মাস, যা বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জাতীয় সংসদ ভবনে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে চলতি অর্থবছরে এই মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন বাজেটের অনুকূলে বরাদ্দ অর্থ হতে গত মার্চ মাস পর্যন্ত অর্থ ছাড় এবং ব্যয়ের অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) জন্য চলতি বছর বরাদ্দ রাখা হয় ৪১৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থ ৩০৫ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সাহায্য ১১০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।

গত ৯ মাসে সরকারের নিজস্ব বরাদ্দ থেকে অর্থ ছাড় করা হয় ১৬৭ কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আর বৈদেশিক প্রকল্প সহায়তা এসেছে ৬৪ কোটি ৫৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে দেশীয় অর্থ ব্যয় হয়েছে ১১১ কোটি ৮৭ লাখ ২৮ হাজার টাকা। এ ক্ষেত্রে বাজেট বাস্তবায়নের হার ৩৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। আর বৈদেশিক সহায়তার অর্থ ব্যয় হয়েছে ৬০ কোটি ৫২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। এ ক্ষেত্রে বাস্তবায়নের হার ৫৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এডিপিবহির্ভূত খাতে ররাদ্দ রাখা হয় ২৭৫ কোটি টাকা, যার পুরোটাই সরকারের নিজস্ব অর্থ। গত নয় মাসে এ খাতে অর্থ ছাড় করা হয় ১৯৪ কোটি ১ লাখ টাকা। এর মধ্যে অর্থ ব্যয় হয়েছে ১৫৪ কোটি ৭৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ ক্ষেত্রে বাজেট বাস্তবায়নের হার ৫৬ দশমিক ২৭ শতাংশ।

এডিপির বাস্তবায়ন ৪৫ দশমিক ৬৫ ভাগ

এদিকে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) সার্বিকভাবে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ৪৫ দশমিক ৬৫ ভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৪৫ দশমিক ১৫ ভাগ। সম্প্রতি শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ তথ্য প্রকাশ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরের নয় মাসে প্রায় ৭২ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো। আগের অর্থবছর করেছিল ৫৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।

এডিপি বাস্তবায়নে গুণগত মান ভালো হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, আমরা চাইছি সড়কের গুণগত মান বাড়াতে। এ জন্য বিটুমিনের পরিবর্তে কংক্রিটের সড়ক করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সড়ক সংস্কারে প্রস্তাবনা তৈরির জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি কমিটি করা হয়েছে। এই কমিটির সুপারিশ প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন