সোমবার, ২৩ জুলাই ২০১৮ ০২:০৫:৩৬ পিএম

খসড়া ভোটার তালিকায় ‘ভারতীয় নাগরিক’

জাতীয় | বৃহস্পতিবার, ৩ মে ২০১৮ | ১১:৩৪:৪২ এএম

৫৪ বছর বয়সী ভারতীয় এক নাগরিকের নাম বাংলাদেশের নতুন খসড়া ভোটার তালিকায় স্থান পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই ব্যক্তি কেন বাংলাদেশের ভোটার হতে চাচ্ছেন, তা নিয়েও এলাকায় প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলার পশ্চিম নওদাবাস ইউনিয়নে।

ভোটার তালিকা থেকে ওই ভারতীয় নাগরিকের নাম বাদ দিতে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। একইসঙ্গে মিথ্যা তথ্য প্রদানের জন্য নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী শাস্তি প্রদানের দাবি করা হয়েছে।

চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক বরাবর এই লিখিত অভিযোগ করেন পশ্চিম নওদাবাস ইউনিয়নের বাসিন্দা পরেশ বর্মণ। তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় ৫৪ বছর বয়সী দীপঙ্কর বর্মণ নামে একজন ভারতীয় নাগরিকের নাম রয়েছে।

অভিযোগে পরেশ বর্মণ লিখেন, ‘দীপঙ্কর বর্মণের বাবা প্রিয়নাথ বর্মণ ও মা মিনতি বর্মণ দেওয়া হয়েছে। তিনি একজন ভারতীয় নাগরিক। ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়ে বছরে কয়েকবার এ দেশে স্মাগলিং, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অন্যের জমি দালালি করে সমাজে বিশৃঙ্খলা, প্রতারণা ও নানাবিধ খারাপ কাজ করে।’

অভিযোগ লেখা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের পাসপোর্ট নেওয়ার ফন্দি-ফিকির করছে যা বাংলাদেশের সামাজিক স্থিতিশীলতার অন্তরায় তথা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। খসড়া ভোটার তালিকায় তার এনআইডি-১৯৬৪৫২১৩৩৫৭০০০০০২, ভোটার সিরিয়াল নম্বর-৮৭১, ভোটার নম্বর-৫২০১৯২০০০২৬২। ঠিকানা দেওয়া আছে লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলার পশ্চিম নওদাবাসের ৯নং ওয়ার্ড। দীপঙ্করের স্ত্রী বুলু বর্মণও ভারতীয় নাগরিক। তার কোনো এনআইডি কার্ড নেই।

দীপঙ্কর বর্মণের শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিক (এসএসসি) পাস দেখানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। সে এ দেশের কোন বোর্ড থেকে এসএসসি পাস করেছে, তার কোনো সার্টিফিকেট দেখাতে পারবে না। তার জন্ম তারিখ দেওয়া ১৪-০৫-১৯৬৪। সে অনুযায়ী তার বয়স প্রায় ৫৪ বছর। স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে, এই ৫৪ বছর বয়সে নতুন ভোটার হওয়ার উদ্দেশ্য কী?’

পরেশ বর্মণ অভিযোগে আরও লিখেছেন, ‘অপরাধ জগতে ওঠা-বসা করে আর্থিক সুবিধা নেওয়া, রাষ্ট্রের সুস্থ সামাজিক পরিবেশ বিনষ্ট করা, ভারতীয় নাগরিক হয়ে এ দেশের পাসপোর্ট নেওয়ার চেষ্টা করা এবং চৌর্যবৃত্তিসহ স্বাধীন-সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্ট করে রাষ্ট্রদ্রোহিতার কাজ করছে।’

এসব কারণ উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী দীপঙ্কর বর্মণের শাস্তি দাবি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে নওদাবাস ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অশ্বিনী কুমার বসুনিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, ‘আমি এটা জানি না। আপনি নির্বাচন অফিসে খবর নেন।’

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন) মো. আব্দুল বাতেন বলেন, ‘এ বিষয়ে জানি না। মহাপরিচালকের (ডিজি) কাছ থেকে জানতে হবে।’

সূত্র : প্রিয়.কম

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন