শুক্রবার, ২৫ মে ২০১৮ ১০:৪৬:৩৯ এএম

ফেসবুক ফ্রেন্ড দ্বারা তাসফিয়ার মৃত্যু, মানতে পারছেন না কেউ

জেলার খবর | চট্টগ্রাম | বৃহস্পতিবার, ৩ মে ২০১৮ | ০১:০৮:৫৩ পিএম

চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় তাসফিয়া নামের এক স্কুলছাত্রীকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে আদনান নামের এক তরুণ। এমনটাই অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফেসবুক থেকে পরিচয় এরপর আদনান তাকে দেখা করতে বলে। এই দেখাই যেন কাল হলো। তাসফিয়ার মৃত্যু নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ হইচই চলছে। মেনে নিতে পারছেন না এমন হত্যাকাণ্ড। আদনানকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচার দাবি করছেন নেটিজেনরা

মঙ্গলবার (০১ মে) সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট। নগরের গোলপাহাড় মোড়ের চায়না গ্রিল রেস্টুরেন্টে তাসফিয়া ও আদনান ঢোকে। ৬টা ৩৭ মিনিটে দুইজন বের হয়। ২২ মিনিট অবস্থান করে তারা।

এসময় তারা ২ পিস কেক ও ২টি আইসক্রিম অর্ডার করে সামনে আনেন আদনান। এ সময় তাদের মধ্যে তেমন হাসি-খুশির ভাব ছিল না। আইসক্রিমগুলো খেলেও কেক না খেয়ে বের হয়ে যান তারা। ‘তাদের আইসক্রিমের দাম এসেছিল ৩০০ টাকা। খেয়ে তাড়াতাড়ি বের হয়ে যান।’ বলেন একজন ওয়েটার। ‘তারা যখন মূল রেস্টুরেন্ট থেকে বের হচ্ছিলেন তখন আদনান আগে বের হয়ে যান। এর কয়েক মিনিট পর বের হন তাসফিয়া।’

বুধবার সকালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত থেকে ওই স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তাসফিয়া কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার ডেইলপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী মো. আমিনের মেয়ে। তারা নগরীর খুলশী থানাধীন ও আর নিজাম রোড এলাকার বসবাস করেন। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তাসফিয়া সবার বড়। সে নগরীর একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের নবম শ্রেণিতে লেখাপড়া করত।

আদনান নামে কোনো এক তরুণের সঙ্গে তাসফিয়ার যে ফেসবুকে সম্পর্ক হয়েছে সে বিষয়টি কিছুদিন আগেই টের পায় পরিবার। তাই সন্দেহবশত ফেসবুক আইডি থেকে নম্বর নিয়ে কৌশলে আদনানকে মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে তাসিফয়াদের বাসায় ডেকে আনা হয়।

এ সময় তাসফিয়ার বাবা-চাচারা আদনানকে চাপ দেয় তাসফিয়া কোথায় তা জানাতে। না হয় আদনানের বাবাকে ডেকে বিচার দেয়া হবে বলেও হুশিয়ার করা হয়। এ সময় আদনান তার পরিচিত বন্ধু-বান্ধবদের জানায় তাকে আটকে রাখার বিষয়টি।

পরে মুরাদপুরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ফিরোজ ও আকরামসহ কয়েকজন তাসফিয়াদের আদনান আর নিজাম আবাসিক এলাকার বাসায় এসে আদনানকে ছেড়ে দেয়ার জন্য চাপ দেয়। একপর্যায়ে আদনান তাকে ছেড়ে দিলে তাসফিয়া আধাঘণ্টার মধ্যেই ফিরে আসবে বলে জানায়।

তাসফিয়ার পরিবার জানায়, আদনানের পরিবার সম্পর্কে বা তার বাড়ি কোথায়, সে কী করে সে বিষয়ে তারা কিছুই জানে না। কেবল ফেসবুক থেকে নম্বর নিয়েই তারা আদনানকে আটক করেছিল।

সূত্র জানায়, এরপর থেকে মঙ্গলবার শবেবরাতের দিন এবাদত ছেড়ে তারা এখানে-সেখানে পাগলের মতো খুঁজে বেড়ায় তাসফিয়াকে। কিন্তু কোথাও তার খোঁজ পাচ্ছিল না।

বুধবার সকালে পতেঙ্গায় অজ্ঞাত তরুণীর লাশ উদ্ধার হওয়ার খবর পাওয়ার পর তাসফিয়ার বাবা-চাচারা পতেঙ্গা থানায় যান। সেখানে গিয়েই তারা দেখতে পান তাসফিয়ার লাশ। নিহত তাসফিয়ার চোখেমুখে আঁচড়ের চিহ্ন ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ ফেলে দেয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পতেঙ্গা থানার এসআই মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, স্থানীয়দের খবরে সকালে অজ্ঞাত এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথমে পরিচয় পাওয়া না গেলেও দুপুরের দিকে ওই তরুণীর পরিবারের লোকজন থানায় এসে মরদেহ শনাক্ত করেছে।কালেরকণ্ঠ।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন