বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৭:০০:১৮ এএম

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় যা বললেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা

শিক্ষাঙ্গন | বৃহস্পতিবার, ৩ মে ২০১৮ | ০২:৩৬:২১ পিএম

ছবিঃ সংগৃহীত

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা নিজেদের সরকারি চাকরি নিয়ে উদ্বিগ্ন নয় বলে জানিয়েছেন আন্দোলনের প্লাটফর্ম ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের’যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খান। তিনি আরও বলেন বিষয়টি নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে কোনো ‘আফসোস’ সৃষ্টি হবে না। খবর বিবিসি বাংলার।

বুধবার (২ মে) বিকালে গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, যারা এ আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন, তাদের সব তথ্য ও ছবি সরকারের কাছে রয়েছে। তারা যদি পরে চাকরি না পেয়ে জেলা কোটার জন্য হতাশা প্রকাশ করে তাতে কিছু করার থাকবে না।

এ বিষয়ে রাশেদ খান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ছাত্রসমাজ বিচলিত বা আতঙ্কিত নয়। ছাত্রসমাজ যে আন্দোলন করেছে, তা ছিল যৌক্তিক সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক। ছাত্রসমাজ অন্য কোনো দাবি করেনি। এ কারণে আপনারা দেখে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর ছাত্রসমাজের অধিকাংশ সামাজিকমাধ্যমগুলোতে বলেছে- তাদের সবার তথ্য সংগ্রহ করে রাখা হোক।’ তবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর কিছু ছাত্রছাত্রী তাদের আতঙ্কের বিষয়টি প্রকাশ করেছে বলে উল্লেখ করেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, আন্দোলনের কারণে ‘হয়রানি করা’ হবে কিনা সে বিষয়ে অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘তবে আমরা বলতে চাই- আন্দোলনের কারণে কাউকে হেনস্তা করা হলে ছাত্রসমাজ তা ভালোভাবে নেবে না।’

জেলা কোটা বাতিল হয়ে যাওয়ার বিষয়ে রাশেদ খান বলেন, পিছিয়ে পড়া জেলাগুলো কোটার সুবিধা বাস্তবে পাচ্ছে না। সে কারণে প্রত্যেকটা জেলার ছাত্রছাত্রীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন।’

নিজেদের দাবির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ঢাকা জেলায় কোটার সুবিধা যেটা আছে তা ৮.৩৬ শতাংশ। অন্যদিকে কুড়িগ্রামে ১.৪৪ শতাংশ। কিন্তু বাস্তবতা হওয়ার কথা ছিল ভিন্ন। যেহেতু কুড়িগ্রাম অনেক পিছিয়ে পড়া একটি জেলা অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানে। অন্যদিকে সারা দেশ এগিয়ে। অর্থাৎ জেলা কোটার বাস্তবিক প্রয়োগ এখানে হচ্ছে না।’

উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল থেকে পাঁচ দিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রায় সব পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করেন।

পরে ১২ এপ্রিল জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কোটা পদ্ধতি বাতিল ঘোষণা করে সব চাকরিতে শতভাগ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পর শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করার ঘোষণা দেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন