শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৫:৪১:০৯ পিএম

জাবি শিক্ষকদের দু-গ্রুপে এ্যাক্ট এর ব্যাখা দুরকম

নুর হাছান নাঈম | শিক্ষাঙ্গন | বৃহস্পতিবার, ৩ মে ২০১৮ | ০৭:৫২:৩৯ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) তে শিক্ষকদের দু-গ্রুপের মধ্যে চলমান কর্মসূচিতে এক পক্ষ অন্য পক্ষকে “ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এ্যাক্ট ১৯৭৩” এর কয়েকটি ধারা ভুলভাবে ব্যাখা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ এর ব্যানারে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবিরের অনুসারী আঃলীগপন্থী শিক্ষকরা পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে 'বিশ্ববিদ্যালয়এ্যাক্ট ১৯৭৩' এর ১২(৬) অনুসরণ না করে অবৈধভাবে ডিন-প্রভোষ্ট অপসারণ ও নিয়োগের প্রতিবাদ, শিক্ষকদের ওপর হামলা, অবিলম্বে উপাচার্য প্যানেল সহ জাকসু নির্বাচনের দাবিতের বৃহষ্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মত উপাচার্য অফিস ঘেরাও করেছেন ।

এ বিষয়ে জানতে চাইেল শরীফপন্থী শিক্ষকদের সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার বলেন, ‘বিধি লঙ্ঘন করে উপাচার্য নয়টি হলে প্রভোস্ট নিয়োগ দিয়েছেন। এটি উপাচার্য করতে পারেন না। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সিন্ডিকেটের। উপাচার্য সিন্ডিকেট বিধি লঙ্ঘন করেছেন। তার এবং তার প্রশাসনের এসব অনিয়মের প্রতিবাদে ধর্মঘট পালন করতে গেলে আমাদের ছয়জন শিক্ষককে তার বাহিনী লাঞ্ছিত ও করেছেন।’

এদিকে বৃহষ্পতিবার বিকেল বেলা ৪ টায় ক্যাফেটেরিয়ায় শিক্ষক লাউন্সে সংবাদ সম্মেলন করেন "বঙ্গবন্ধুর আদর্শের শিক্ষক পরিষদ" এর ব্যানারে ভিসি পন্থি শিক্ষকরা।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, "একটি কুচক্রী মহল অসৎ উদ্দেশ্য এবং ব্যক্তি স্বাথর্কে চরিতার্থ করার জন্য ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন যা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত যুক্তিবাদী শিক্ষা-পরিমন্ডেল গ্রহণীয় হবে না।
কতিপয় সুবিধাবাদিরা বিশ্ববিদ্যালয় এর ভাবমূর্তি নষ্ট করার কাজে লিপ্ত।
কেউ ভুলে যায়নি - কাপনের কাপড় পড়ে যিনি নৈতিকতাহীন উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবিরকে পদ থেকে সরে যেতে বাধ্য করেছেন সেই ড. অজিত কুমার মজুমদারই এখন তার দলের সভাপতি।

আর ও বলা হয় বর্তমান উপাচার্য দু'টি অনুষেদর (সমাজবিজ্ঞান ও আইন অনুষদ) ডিনদের সঙ্গত কারণে পরিবর্তন করেছেন।তারা প্রেষণে চলে আসায় ডিন পদ তাৎক্ষণিকভাবে শুন্য হয়ে যায়। তাই চলমান ভর্তি পরীক্ষা পরিচালনায় কাজের সুবিধার্থে সাময়িক দায়িত্ব দেয়া হয়।ভর্তি পরীক্ষা শেষে তাদের ডিনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার বিষয়টি ছিল অবশ্যম্ভাবী। "

পরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক বশির আহমদ ব্যাখা করে বলেন, "১১(১)ধারা উল্লেখপূর্বক শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশক্রমে অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে মহামান্য রাষ্ট্রপতি উপাচার্য হিসেবে ৪ বছরের জন্য পুনঃনিয়োগ দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি নতুন ডিন-প্রভোষ্ট নিয়োগে ও ১২(৬) ধারা যথাযথ ভাবে অনুসরণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য,গত ১৭ এপ্রিল উপাচার্য ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট-১৯৭৩, স্ট্যাটিউট ও সিন্ডিকেট পরিচালনা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে সর্বাত্মক ধর্মঘটের ডাক দেন শরীফপন্থী শিক্ষকরা। এর অংশ হিসেবে সেদিন ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ডিপোতে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা। খবর পেয়ে ফারজানাপন্থী শিক্ষকরা তালা খুলতে গেলে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন দু’পক্ষের শিক্ষকরা। এরপর থেকে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করছেন উভয়পক্ষের শিক্ষকরা।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন