শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮ ০৭:১১:২৬ এএম

‘রাষ্ট্র যখন দুষ্টের পালন করে তখনই সমাজে নৈরাজ্য প্রভাব ফেলে’

জাতীয় | শুক্রবার, ৪ মে ২০১৮ | ০৬:০০:০৯ পিএম

রাষ্ট্রের কাজ হচ্ছে, দুষ্টের দমন এবং শিষ্টের পালন। আর রাষ্ট্র যখন শিষ্টের পালন না করে দুষ্টের পালন করে, তখনই পরিবার, সমাজ সব জায়গায় এই নৈরাজ্যের একটা প্রভাব এসে পড়ে বলে মন্তব্য করেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল।

তিনি আরও বলেন, সরকার আসলে কারা? সরকারতো তারাই যারা প্রতিনিয়ত আমাদের সাথে থেকে বলেন যে, আপনাদের জীবনের এবং জীবনযাপনের যে বিষয়গুলো আছে সেগুলোর দেখভাল করবে। আর সেই কাজগুলো আসলে সরকার যখন সঠিকভাবে না করে, তখন কিন্তু মানুষ ভুল কাজের মধ্যে নিজেকে নিয়োজিত করে।

প্রতিনিয়ত সমাজে বাড়ছে নৃ-শংসতা। আর এই হত্যা ও খুনের জন্য দায়ী হচ্ছে খোদ পরিবারের সদস্যরা। বাবা-মায়ের কাছে ছেলে-মেয়ে আজ কেউ নিরাপদ না। আর এরজন্য দায়ী করা হচ্ছে নৈতিক অবক্ষয়কে। এইজন্য অর্থনীতি ও রাজনীতিকে সামনে আনছে সমাজকর্মী এবং তাত্ত্বিকরা।

মা সন্তানকে হত্যা করছে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে। আর বাবা খুন করছে ছেলেকে। বিশ্বাস করা কঠিন হলেও এমন অবিশ্বাস্য নৃশংসতাই এখন বাস্তবতা। আর এটা ঘটে চলেছে একের পর এক। আর যৌথ পরিবার ব্যবস্থা ভেঙে যাওয়া এবং দ্রুত নগরায়ণ, ইন্টারনেট আসক্তি, শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট এসবই অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে আসে হরহামেসা।

তবে সমাজকর্মী এবং গবেষকদের মতে, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্খা ও অনৈতিক প্রতিযোগীতাই এর মূল কারণ।

সমাজতাত্ত্বিক ও গবেষক খন্দকার সাখাওয়াত আলী বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় একটা বড় ধরণের নৈরাজ্য চলছে। অর্থাৎ আধুনিক নাগরিক তৈরির যে প্রকল্প রাষ্ট্রের থাকে সেটা অগোছালো। পুলিশ তার বিগত দিনের যে আইনি ব্যবস্থা সেটা দিয়ে কিন্তু এ ধরণের নতুন সমস্যার মোকাবেলা করতে পারবে না।

তাই বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সামাজিক সংকট সামনে আরও বাড়বে, যদি না এখনই সতর্ক হয় সরকার। তবে শুধু সরকার নয়, সমাজ এবং পরিবার যদি এগিয়ে না আসে তাহলে এসব অপরাধ দূর করা কঠিন হয়ে যাবে।

সূত্র : যমুনা টিভি

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন