শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮ ১০:৪৬:০৩ পিএম

দরপত্র ছাড়াই রাবির আম-লিচুর দখল ছাত্রলীগের

মো: নুরুজ্জামান খান | শিক্ষাঙ্গন | শনিবার, ৫ মে ২০১৮ | ১০:৫৬:৫৩ এএম

দরপত্র ছাড়াই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আম ও লিচু বাগান দখল নিয়েছে ছাত্রলীগের তিন নেতা। সাতটি বাগানের তিনটির দরপত্র গৃহিত হওয়ার আগেই বাগানগুলোতে পাহারা বসিয়েছে তারা।

এমনকি গত বুধবার আম পাড়ার কারণে এক শিক্ষার্থীকে মারধর করেছে ছাত্রলীগের নেতারা এমন অভিযোগ পাওয়া যায়। ওই তিন নেতা হলেন বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সানোয়ার হোসেন সারোয়ার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফ করিম রুপম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সাবরুন জামিল সুস্ময়। এর মধ্যে সারোয়ারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী পেটানোর অভিযোগ উঠেছে।

মারধরের শিকার ওই শিক্ষার্থী দর্শন বিভাগের চতুর্থ বর্ষে পড়েন। বিশ^বিদ্যালয়ের কৃষি প্রকল্প দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বিশ^বিদ্যালয়ের ভিতর ও বাইরে মিলিয়ে মোট সাতটি বাগান রয়েছে। এর মধ্যে শহীদুল্লাহ ও মমতাজ উদ্দিন কলাভবনের সামনে দুইটি এবং রাকসু ভবনের পাশে একটিসহ তিনটি বাগানের দরপত্র এখনও গৃহিত হয়নি। বাকি তিনটি দরপত্র গৃহিত হয়েছে। তবে কার দরপত্র গৃহিত হয়েছে এখনও সে ব্যাপারে কিছু জানা যায়নি। আর এই বাগান তিনটিই দখলে নিয়েছেন ওই তিন নেতা।

কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ক্যাম্পাসের গাছগুলোতে আম বা লিচু পাড়তে দেখলেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বাঁধা দেয় এবং ভয়ভীতি দেখায়।

জানা গেছে, দরপত্র গৃহিত হওয়া চারটি বাগানের তিনটি নিয়েছেন রুহুল আমিন ও ফাহিম নামের দুই ঠিকাদার। এখনো সুলতান নামের একজনকে দরপত্র না হওয়া রাকসু ভবনের বাগানে পাহারা দিতে দেখা গেছে। সুলতান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হলের সারোয়ার তাকে এই বাগান দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়েছে।’ সারোয়ার জানান, ‘রুহুল ভাই আমাকে বাগান দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়েছেন। বাকি তিনটি বাগানের জন্যও তিনি দরপত্র জমা দিয়েছেন। তার কথা মতোই বাগানগুলো দেখাশোনা করছি।’ তবে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি বলেন, ‘কোন মারধরের ঘটনা ঘটেনি। আর কাউকে মারধরও করিনি।’

তবে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহম্মেদ রুনু জানান, ‘এ বছর ছাত্রলীগ কোন বাগান নেয়নি। সারোয়ারের এক বড় ভাই বাগানগুলো নিয়েছেন। তাই সে দেখাশোনা করছে।’ এ বিষয়ে কৃষি প্রকল্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রকৌ. মো. এমরান আলী বলেন, ‘চারটি বাগানের দরপত্র গৃহিত হয়েছে। বাকি তিনটির জন্যও আমরা দরপত্র আহ্বান করেছি। গতকাল পর্যন্ত দুটি দরপত্র জমা পড়েছে।’ তবে ছাত্রলীগের বাগান দখলের ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন এমরান আলী।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন