বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ ০১:২৮:০৯ পিএম

আড়াই লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবায় ২ চিকিৎসক

জেলার খবর | বরিশাল | শনিবার, ৫ মে ২০১৮ | ১১:৫৭:০৯ পিএম

বরিশালের মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়ার বদলে কমে গেছে। উপজেলাবাসীর স্বাস্থ্যসেবায় মুলাদী হাসপাতালে চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র দুইজন।

মুলাদী উপজেলার মানুষ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জের কাজিরহাটের বিশাল একাংশের মানুষ মুলাদী হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসলেও তারা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ২৮ জন ডাক্তারের মধ্যে ২৪টি পদ শূন্য থাকায় ভেঙে পড়েছে চিকিৎসাসেবা।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা তার দাফতরিক কাজে ব্যস্ত থাকায় এবং আরেকজন চিকিৎসক অনিয়মিত থাকায় দুইজন চিকিৎসক রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন।

হাসপাতালে ২৪ জন নার্সের স্থলে রয়েছেন ১৩ জন। তারা রোগীদের নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। এছাড়া হাসপাতালে স্টোরকিপার, পরিসংখ্যানবিদ, এক্সরে টেকনেশিয়ান, ল্যাব টেকনেশিয়ান, সিকিউরিটি গার্ড, বাবুর্চিসহ বেশ কয়েকটি পদে লোক না থাকায় হাসপাতালে বিভিন্ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে প্যাথলজি ল্যাবসহ সব প্রকার ডায়াগনস্টিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। রোগীরা বাধ্য হয়েই বাইরে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাচ্ছেন।

হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, ২০০৬ সাল থেকে শুরু হওয়া মুলাদী হাসপাতালটি ২০১৬ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের ভবন নির্মাণ ও অন্যান্য কার্যক্রম শেষ হয়।

কিন্তু ৫০ শয্যা হাসপাতালের ২৮ জন চিকিৎসকের স্থলে কাগজ-কলমে ছয়জন থাকলেও বাস্তবে চিকিৎসা দিচ্ছেন দুইজন চিকিৎসক। কাগজ-কলমে ছয়জন চিকিৎসকের মধ্যে ডা. প্রসিনজিৎ সাহা শুভ প্রায় ৩ মাস আগে ছুটি গিয়ে আর হাসপাতালে যোগ দেননি।

তিনি কোথায় আছেন তা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানে না। প্রায় সাড়ে ৩ বছর আগে ডা. আফজাল করিম বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ডেপুটেশনে যান। তার ডেপুটেশন শেষ না হওয়ায় মুলাদী হাসপাতালে যোগদান করছেন না। গত ৫ মে সকালে ডা. শাকিল খান যোগদান করলেও তিনি কতদিন থাকবেন তা নিয়ে রোগীরা সংশয় প্রকাশ করেছেন। শুধুমাত্র ডা. মেহেদী হাসান খান এবং কনসালট্যান্ট ডা. সুব্রত সাহা নিয়মিত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. মো. সাইয়েদুর রহমান জানান, দুইজন চিকিৎসক দিয়ে মুলাদী, হিজলা ও কাজিরহাট এলাকার প্রায় আড়াই লাখ মানুষের চিকিৎসা দেয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কমপক্ষে ১৫-১৬ জন চিকিৎসক থাকলে মানুষকে কিছুটা সেবা দেয়া যায়।

অপরদিকে উপজেলার ২টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসক না থাকায় স্বাস্থ্য সহকারীদের দিয়ে কোনোমতে চলছে ওসব কেন্দ্রের চিকিৎসাসেবা। সেখানেও স্বাস্থ্য সহকারীরা বেশিরভাগ সময় অনুপস্থিত থাকেন বলে রোগীরা অভিযোগ করেছেন।

সরকার স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করলেও সেখানে মিলছে না চিকিৎসাসেবা। কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রোভাইডাররা কোনদিন আসবেন তা জানে না কেউ। এসব কমিউনিটি ক্লিনিকের ওষুধ কোথায় যায়? এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন থাকলেও উত্তর মিলছে না। চিকিৎসাসেবার জন্য হাসপাতালে চিকিৎসক বৃদ্ধি এবং উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো সচল করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন