মঙ্গলবার, ২২ মে ২০১৮ ১১:৫০:৫১ পিএম

ট্রাম্পের ওপর চটেছে ফ্রান্স

আন্তর্জাতিক | রবিবার, ৬ মে ২০১৮ | ০৯:৩০:০৭ এএম

প্যারিসে ২০১৫ সালের হামলা নিয়ে ট্রাম্পের কথায় চটেছে ফ্রান্স। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রীসহ অনেকেই ট্রাম্পের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

শুক্রবার ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশনের (এনআরএ) সঙ্গে এক বৈঠকে ট্রাম্প অস্ত্র অধিকার আইনের পক্ষে কথা বলেন। টেক্সাসের ডালাসের ওই কনফারেন্সে ট্রাম্প বলেন, ‘ফরাসিদের হাতে অস্ত্র থাকলে ২০১৫ সালের প্যারিস হামলা প্রতিহত করা যেত।’

এ সময় ট্রাম্প প্যারিস হামলার বন্দুকধারীর অনুকরণ করে দেখান। তিনি অভিনয় করে দেখান যে, তিনি প্যারিস হামলার বন্দুকধারী এবং হামলার শিকার ব্যক্তিদের একে একে ডাকছেন ও গুলি ছুঁড়ছেন। তিনি এ সময় হাত দিয়ে গুলি ছোঁড়ার অভিনয় করেন এবং মুখ দিয়ে উচ্চারণ করেন, ‘বুম, এখানে এসো।’

তবে সত্যি ঘটনা হলো, প্যারিস হামলার সময় হামলাকারীরা আধা-স্বয়ংক্রিয় বন্দুক ও বোম্ব বেল্ট ব্যবহার করে ১৩০ জনকে হত্যা করেন।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সবসময় ওই হামলায় নিহতদের স্মৃতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে বলে আসছে।

ট্রাম্পের এমন কাণ্ডের পর দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার বলে, ‘প্যারিসে ২০১৫ সালের ১৩ নভেম্বর হামলার ঘটনা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্তব্যকে ফ্রান্স দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে এবং ওই হামলার শিকারদের স্মৃতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করার আহ্বান জানাচ্ছে।’

ওই হামলার সময় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ফ্রাসোয়া ওলাদঁ। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্পের মন্তব্য লজ্জাজনক। এ থেকে বুঝা যায় তিনি ফ্রান্স ও দেশটির মূল্যবোধ সম্পর্কে কীভাবে চিন্তা করেন।’

২০১৫ সালে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী থাকা ম্যানুয়েল ভ্যালস এক টুইটার বার্তায় লেখেন, ‘অশোভন ও অদক্ষ। এর থেকে বেশি আমি আর কী বলতে পারি?’

উল্লেখ্য, ট্রাম্প তার শুক্রবারের বক্তব্যে যুক্তরাজ্য নিয়েও বিতর্কিত মন্তব্য করেন। নাম উল্লেখ না করে লন্ডনের একটি হাসপাতাল সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সম্প্রতি লন্ডন নিয়ে একটি লেখা পড়েছি। লন্ডনের অস্ত্র আইন অবিশ্বাস্য রকমের কঠিন। ওই লেখায় দেখা যায়, লন্ডনের একটি খুবই স্বনামধন্য হাসপাতাল ভয়ানক ছুরিকাঘাতের ঘটনায় যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তাদের বন্দুক নেই। তাদের ছুরি আছে এবং তাতেই হাসপাতালের সব মেঝে রক্তে রঞ্জিত।’

ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের ভাষায়, সামরিক যুদ্ধক্ষেত্রের হাসপাতালের মতোই ওই হাসপাতালটির বাজে অবস্থা। ছুরি, ছুরি, ছুরি আর ছুরি। লন্ডন এ ধরনের ঘটনায় অভ্যস্ত না। তাদেরকে এসবে অভ্যস্ত হতে হচ্ছে। এটি সত্যিই কঠিন ব্যাপার।’

ট্রাম্প বরাবরই অস্ত্র অধিকার আইনের পক্ষে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার সময় হিলারী ক্লিনটন অস্ত্র অধিকার আইন সংশোধনের কথা বললে ট্রাম্প বলেন, ‘যদি কেউ তাকে (হিলারী ক্লিনটন) গুলি করে হত্যা করে তার জন্য কেউ দায়ী হবে না।’

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন