বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৫:৩৬:৩৯ পিএম

অনেকে বউয়ের ভয়ে দুর্নীতি করে না: দুদক চেয়ারম্যান

জাতীয় | রবিবার, ৬ মে ২০১৮ | ০৭:৫২:৩০ পিএম

নারীদের সচেতন করে তুলতে পারলে দুর্নীতি অনেকাংশে কমবে বলে মনে করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। সাবেক এক সহকর্মীর উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, “বহু লোক কিন্তু সমাজে আছে, বউয়ের ভয়ে দুর্নীতি করেন না। নারীরা সচেতন হলে সমাজে দুর্নীতি অনেকাংশে কমে যাবে।” স্ত্রীর বাধার কারণে ওই সহকর্মীর ঘুষের টাকা বেহাত হয়ে গিয়েছিল বলে জানান অবসরপ্রাপ্ত সচিব ইকবাল মাহমুদ।

রোববার এক মতবিনিময় সভায় এই ঘটনাটি তুলে ধরার পাশাপাশি নারী কর্মকর্তাদের অসচেনতার কারণে দুর্নীতির ঘটনায় জড়িয়ে পড়ার কথাও বলেন দুদক চেয়ারম্যান। স্বামীদের দুর্নীতি ঠেকানোর পাশাপাশি নিজেরা যে কোনো কাজ করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য নারীদের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, “দুই বছর কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, একটি মাত্র ক্ষেত্রে নারীটি জানেন তিনি কাজটি (দুর্নীতি) করেছেন। আর আমি কোনো নারীকে বলতে শুনি নাই, আমি জানতাম। “আমরা নারীদেরকে যদি সচেতন করতে পারি যে আপনারা অনাহুতভাবে ভিকটিম হবেন না।”

মাইডাস সেন্টারে এই মতবিনিময় সভায় নারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের ১১৮টি মামলার ক্ষেত্রে ওই পরিস্থিতি বলে জানান দুদক চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, “১১৮টি মামলায় নারীরা ভিকটিম হয়ে যাচ্ছে, তাদের কী করব আমরা। এক্ষেত্রে কোনো বুদ্ধি বের করতে পারব কি-না... আমরা কীভাবে জানব, তিনি জানতেন না।

“এমনও হয়েছে, স্বামী স্বাক্ষর করেছে স্ত্রীর নামে। সেগুলো আমরা এক্সপার্ট দিয়ে বের করেছি। কিন্তু যেগুলো বের করতে পারব না, সেগুলোর কী হবে?”

সংবেদনশীল হওয়ার প্রশ্নে তিনি বলেন, এখানে সংবেদনশীল হওয়ার সুযোগ থাকে না। আদালতে আমাদের প্রমাণ করতেই হবে, এখানে তার স্বাক্ষর আছে।” ইকবাল মাহমুদ বলেন, “নারী সিদ্ধান্ত গ্রহণে পার্টিসিপেইট করবে। এটারই অফশুটের একটি জায়গা হচ্ছে দুর্নীতি।

“আমার একটি অনুরোধ, আপনারা ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে সই করার আগে জিজ্ঞেস করবেন, কীসের সই? কোন কারণে? চেকে সই করার আগে ব্ল্যাংক চেকে সই করবেন না। চেকের সই করার আগে কীসের টাকা? কোথায় টাকাটা যাবে? জানবেন।” নিজের অজান্তে নারীদের জঙ্গিবাদে অর্থায়নের মধ্যে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকির কথাও বলেন তিনি।

‘দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত আয় ও সম্পদের পারিবারিক দায় : নারীর ভূমিকা, ঝুঁকি ও করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভাটি আয়োজন করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

আলোচনায় অংশ নিয়ে মানবাধিকারকর্মী খুশি কবির বলেন, “নারী কতটুকু দুর্নীতি করে আর পুরুষ কতটুকু দুর্নীতি করে, তার আলাদা হিসাব হওয়া উচিৎ। তাহলে আমরা একটা তুলনামূলক ধারণা পাব।”

সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীরা এখনও অনেক পিছিয়ে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ডিভোর্সের ক্ষেত্রে অনেক শিক্ষিত নারীর সঙ্গে আমি কথা বলেছি, তারা চায়- ডিভোর্সটা স্বামীই দিক। তাই, সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের অবস্থান কতটুকু সেটাও ঠিক করতে হবে।”

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “নারীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ তৈরি করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক যে পরিবর্তন দরকার, সেটা নিয়ে চিন্তা করতে হবে।”

মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের আবাসিক পরিচালক ফারাহ কবীর বক্তব্য দেন।

‘হয়ত নাটক করেন’
দুদকে জিজ্ঞাসাবাদের পর অনেকের ‘হাসিমুখে বেরিয়ে যাওয়া’ প্রসঙ্গে অনুষ্ঠানে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তর দেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করি, তারা বেরিয়ে যাওয়ার সময় হাসিমুখে বেরিয়ে যেতে পারেন। তাদের বুকে অনেক সাহস হয়ত। “যারা এভাবে বেরিয়ে যান, তিনি হয়ত নাটক করেন। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদ এত সহজ হয় না। তথ্য প্রমাণ হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদ করি আমরা।” “একজন প্রথম জিজ্ঞাসাবাদে হাসিমুখে বেরিয়ে গেলেও পরেরবার কেঁদে গিয়েছেন,” বলেন দুদক চেয়ারম্যান।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন