বুধবার, ২৩ মে ২০১৮ ০১:১৭:২৪ এএম

‘নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে আগে জানায়নি আদালত’

জাতীয় | সোমবার, ৭ মে ২০১৮ | ০৮:২৭:২০ পিএম

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে আদালত আগে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) কিছু জানায়নি বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম।

তিনি বলেন, এ বিষয় আমরা আগে কিছু জানতাম না। গণমাধ্যম থেকে বিষটি জেনেছি।

সোমবার বিকেলে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কবিতা খানম এ কথা বলেন।

কবিতা খানম বলেন, গণমাধ্যমের খবরে জানতে পেরেছি, হাইকোর্ট গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্থগিত করেছেন। আদালতের নির্দেশনার প্রতি সম্মান রেখে আমরা এ নির্বাচনের সকল কার্যক্রম বন্ধ রেখেছি।

সংবিধানের ১২৫ (গ) ধারা অনুযায়ী, ‘কোনো আদালত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হইয়াছে এইরুপ কোনো নির্বাচনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে যুক্তিসঙ্গত নোটিশ ও শুনানির সুযোগ প্রদান না করিয়া, অন্তর্বর্তী বা অন্য কোনোরুপে কোনো আদেশ বা নির্দেশ প্রদান করিবেন না।’

সংবিধানের এ বিষয়টি কবিতা খানমের সামনে পড়ে শোনান সাংবাদিকরা। প্রশ্ন করেন, আদালত এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আগে জানিয়েছে কি না? এর জবাবে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেন, আমরা এ রিট বিষয়ে হিয়ারিংয়ের আগে জানতাম না। হিয়ারিং হওয়ার পর জেনেছি।

আইনমন্ত্রী অথবা এ্যাটর্নি জেনারেলকে এ বিষটা ইসি জানাবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে কবিতা খানম বলেন, এ বিষয়ে কমিশন বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে। আমি এতটুকু বলতে পারি, আদালতের সিদ্ধান্তকে আমরা অনার করেছি।’

গাজীপুর সিটি নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে কবিতা খানম বলেন, আমরা কোনো আইনজীবী ওখানে নিয়োগ দেইনি। আমাদের আইনজীবী প্যানেল আছে। সে প্যানেলভুক্ত একজন আইনজীবী রিটের একটা কপি পেয়েছে। কপি পাওয়ার পরে উনি হিয়ারিংয়ে ছিলেন। কিন্তু আমরা তাকে অফিসিয়ালি নিয়োগপত্র দেইনি। তাকে ওকালতনামা দেওয়ার মতো সুযোগ ছিল না আমাদের।

তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন স্থগিত হয়ে যাচ্ছে, এতে জনগণের মনে নির্বাচন ও ইসিকে নিয়ে অনেক প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। তারা আশঙ্কা করছেন, সামনে সিটি নির্বাচন আবার স্থগিত হয়ে যায় কি না? বিশেষ করে গতকাল খুলনায় ছিলেন সিইসি। সেখানের সিটি নির্বাচন নিয়ে সিইসি ভোটারদের আশ্বস্ত করেছেন যে, নির্বাচন হবে। এই যে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা ভোটারদের মধ্যে কাজ করছে, অন্য সিটি নির্বাচন কি ঢাকা ও গাজীপুরের মতো স্থগিত হবে? এ বিষয়ে ইসির পক্ষ থেকে কী বলার আছে?

এমন প্রশ্নের জবাবে কবিতা খানম বলেন, কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আদালতের কাছে যেতে পারে। আইন তাকে সে সুযোগ দিয়েছে। আমরা স্থানীয় সরকার থেকে ক্লিয়ারেন্স নেওয়ার পরই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করি। আমরা গাজীপুর সিটি নির্বাচনের ব্যাপারে স্থানীয় সরকার থেকে দুইবার ক্লিয়ারেন্স নিয়েছি। তারা জানিয়েছে, সেখানে কোনো ধরনের জটিলতা নেই। তারা আমাদের নির্বাচন করতে বলেছে।

কবিতা খানম আরো বলেন, তবে অন্য সিটি নির্বাচন নিয়ে অ্যাডভান্স বলা যাবে না। কী কারণে নির্বাচন স্থগিত হয়েছে, বিষয়গুলো যখন ক্লিয়ার হবে তখন জনগণের মনে শঙ্কা থাকবে না। খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন রংপুর ও কুমিল্লা সিটি নির্বাচনের মতোই সমাপ্ত করতে পারব। প্রসঙ্গত, আগামী ১৫ মে খুলনা সিটি নির্বাচন।

কমিশন এখন গাজীপুর সিটি নির্বাচনের ব্যাপারে আপিল করবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে কবিতা খানম বলেন, আমরা এখন অফিসিয়ালি বিষয়টি পায়নি। লিখিত আদেশ পেলে কমিশন বৈঠকে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে- পরবর্তী পদক্ষেপ ইসি কী নিবে। আমরা এখনো রিটের সারমর্ম পাইনি। আশা করি, দ্রুতই লিখিত আদেশ পাব।

গাজীপুর সিটি নিয়ে আবার তফসিল ঘোষণা করা হবে কি না, এ প্রশ্নের জবাবে কবিতা খানম বলেন, মাত্র কয়েক দিন সময় আছে এ সিটি নির্বাচনের। এর মধ্যে কনো সুরাহা না হলে তো আবার তফসিল দিতেই হবে।

মানুষ জানতে চায় সিটি নির্বাচন স্থগিত হচ্ছে, এর দায় কার? নির্বাচন কমিশনের এখানে হাত আছে কি না? এসব প্রশ্নের জবাবে কবিতা খানম বলেন, দায় কার, এটা বলার সুযোগ আমার নেই। তবে আমি বলতে পারি, কমিশনের কোনো গাফিলতি নেই।

ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্থগিত হয়েছে, বিষটি এখন কোন পর্যায়ে আছে? এ প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেন, যতটুকু জানি লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি হওয়ার জন্য হাইকোর্টে পাঠিয়েছে।

প্রসঙ্গত, আগামী ১৫ মে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ভোট হওয়ার কথা ছিল। রোববার একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে গাজীপুর সিটি নির্বাচন তিন মাসের জন্য স্থগিত করে হাইকোর্ট।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন