রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৭:১৩:০০ এএম

অধ্যাপক রেজাউল হত্যা মামলার রায়ে পরিবার ও বিভাগের সন্তোষ প্রকাশ

নুরুজ্জামান খান | শিক্ষাঙ্গন | মঙ্গলবার, ৮ মে ২০১৮ | ০৫:৪০:৪৯ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যা মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার পরিবার, বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। সকলের দাবি দ্রুত রায় কার্যকর এবং ফাঁসির দন্ডাদেশ প্রাপ্ত পলাতক আসামি শরীফুলকে গ্রেফতার করা ।

নিহত অধ্যাপকের কন্যা রিজওয়ানা হাসিন শতভী রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘রায়ে আমরা অত্যন্ত খুশি। আমরা এর দ্রুত কার্যকরের দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি আমাদের আবেদন থাকবে উচ্চ আদালতে যেন অপরাধীদের সাজা কম না হয়।’ এদিকে অধ্যাপক রেজাউল করিমের সহকর্মী ও ইংরেজি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এএফএম মাসউদ আখতার বলেন, ‘আমরা সহকর্মী হিসেবে এ রায়ে অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করছি। সেই সাথে আমাদের চাওয়া উচ্চ আদালতেও যেন এ রায় বহাল থাকে এবং কোনো রকম দীর্ঘসূত্রিতায় মামলার রায়টি আটকে না থাকে।’

বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী সৌমিক ইসলাম ধ্রুব রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আদালতের প্রতি আমাদের যতেষ্ট সম্মান রয়েছে। আমরা বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ রায়ের দ্রুত বাস্তবায়ণ চাই, সেইসাথে পলাতক আসামিদেরও দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাই।’

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শিরিন কবিতা আখতার অধ্যাপক রেজাউল হত্যা মামলায় দুই জনের ফাঁসে এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দেন। মৃত্যুদ-াদেশ প্রাপ্ত আসামিরা হলো, একই বিভাগের শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম ও বগুড়ার মাসকাওয়াত হোসেন সাকিব ওরফে আবদল্লাহ। যাবজ্জীবন প্রাপ্তরা হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রহমতুল্লাহ এবং খুনীদের আশ্রয়দাতা রাজশাহী নগরীর উপকণ্ঠ পবা উপজেলার নারকেলবাড়িয়া পূর্বপাড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তার ও তার কলেজ পড়ুয়া ছেলে রিপন আলী। এদের মধ্যে শরিফুল ইসলাম পলাতক এবং আব্দুস সাত্তার জামিনে রয়েছে।

বাকি তিন আসামি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২৩ এপ্রিল সকালে রাজশাহী মহানগরীর শালবাগান এলাকায় নিজ বাসা থেকে একটু দূরে অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহত অধ্যাপকের ছেলে রিয়াসাত ইমতিয়াজ সৌরভ বাদী হয়ে ওইদিনই রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া থানায় মামলা করেন। এতে ৩২ জনকে আসামি করা হয়। আসামি ৩২ জনের মধ্যে ২৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিচারক শিরিন কবিতা মঙ্গলবার আদালতে রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের মামলাটি পরিচালনা করেন এ্যাডভোকেট এন্তাজুল হক বাবু।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন