বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৬:৩২:০৫ এএম

মালয়েশিয়ায় ভোট শুরু

আন্তর্জাতিক | বুধবার, ৯ মে ২০১৮ | ০১:১৩:০৭ পিএম

বিরানব্বই বছর বয়সী মাহাথির মোহাম্মদের সঙ্গে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিতের মধ্যে মালয়েশিয়ার জনগণ দেশটির সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিচ্ছে।

বুধবার (০৯ মে) স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে এ ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, চলবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।

মধ্যরাতের আগেই বেশিরভাগ আসনের ভোট গণনা শেষ হলেও চূড়ান্ত ফল জানতে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

নির্বাচনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও শেষ পর্যন্ত নাজিবের বারিসান ন্যাশিওনালই (বিএন) জয়ী হবে বলে ধারণা পর্যবেক্ষকদের।

স্বতন্ত্র জরিপ সংস্থা মেরদেকা সেন্টারের শেষ মুহূর্তে করা জনমত জরিপে সমর্থন কমার ইঙ্গিত মিললেও দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা জোটটিই শেষ হাসি হাসবে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

মালয়েশিয়ার নির্বাচনী ব্যবস্থায় সরকার গড়তে হলে কোনো দল বা জোটকে ২২২ আসনের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে হয়।

কয়েক বিলিয়ন ডলারের দুর্নীতির অভিযোগ এবং জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে যাওয়ায় নাজিবের সরকারকে দায়ী করা হলেও নির্বাচনে বিএনই বেশি আসনে জিততে যাচ্ছে বলে মন্তব্য বেশিরভাগ পর্যবেক্ষকের।

‘পূর্ব মালয়েশিয়ায় বেশ জনপ্রিয় হওয়ায় এই নির্বাচনেও বিএন-এর জেতার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি, যদিও (দুই জোটের) যে ব্যবধান নিয়ে কথা বলছি, তা খুব সামান্য,’ বলেন সিঙ্গাপুরের এস রাজারত্নাম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের মালয়েশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ নওয়াব মোহাম্মদ ওসমান।

বিএন জোট অন্তত ১০০টি সংসদীয় আসনে বিজয়ী হতে পারে বলে ধারণা মেরদেকার। অন্যদিকে মাহাথিরের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের ভাগ্যে জুটতে পারে ৮৩টি আসন। ৩৭ আসনে তুমুল লড়াইয়ের সম্ভাবনা থাকায় আসন সংখ্যায় বেশ বড় রকমের হেরফের হতে পারে বলেও মন্তব্য তাদের।

মেরদেকার করা এ জরিপে নাজিবের প্রতি সমর্থন কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সপ্তাহখানেক আগেও তার জোট বিএন-এর প্রতি ৪০ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটারের সমর্থন থাকলেও শেষ মুহূর্তের জরিপে তা নেমে এসেছে ৩৭ দশমিক ৩ শতাংশে।

মাহাথিরের পাকাতান হারাপনের (অ্যালায়েন্স অব হোপ) সমর্থন ছিল ৪৩ দশমিক ৪ শতাংশ, সেটিও খানিকটা নেমে এসেছে।

মালয়েশিয়ার জন্য এটি বড় একটি দিন, এদিন আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করছি। আমার ধারণা, মানুষ অনেক দিন ধরেই আত্মপ্রসাদে ভুগেছে। আমাদের এমন একজনকে দরকার যে দেশ পরিচালনায় সক্ষম। মালয়েশিয়াকে নেতৃত্ব দিতে পারবে এমন একজন দূরদর্শী নেতা দরকার, বলেন মালয়েশিয়ার ৫৭ বছর বয়সী কার্ডিওলজিস্ট ড. হাসরি সামিওন।

২০১৩ সালে নির্বাচনে বিএন সবচেয়ে খারাপ ফল করলেও সংসদের ১৩৩ আসনে বিজয়ী হয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছিল। এবারের নির্বাচনে অবস্থার উন্নতি না হলে জোটে নাজিবের দল ইউনাইটেড মালয়জ ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (ইউএমএনও) কোণঠাসা হয়ে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। এমনটা ঘটলে সামনের নির্বাচনের প্রার্থিতা থেকে নাজিবকে সরে দাঁড়াতেও হতে পারে, বলছেন পর্যবেক্ষকরা।

রয়টার্স বলছে, তরুণ ও মধ্যবয়সী ভোটারদের মধ্যে বিএন এবং ইউএমএনও-র প্রভাব এখনও প্রবল।

‘আমি বিএন ও ইউএমএনও-র অনুরক্ত। দেশ গঠনে তাদের সহযোগিতার কারণেই দেশ আজ এখানে। আমি মাহাথিরকে শ্রদ্ধা করি, উনি যা করেছেন তার জন্য প্রশংসাও করি। কিন্তু তিনি বৃদ্ধ। কেন আমরা এই সরকারকে বদলে ফেলব, যখন তারা আমাদের জন্য অনেক করেছে?’ বলেন সেন্ট্রাল কুয়ালালামপুরে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা গৃহবধূ শ্রী নুরাইনি।

প্রচারণার একেবারে শেষ মুহূর্তে মঙ্গলবার রাতে দেওয়া ভাষণে ৬৪ বছর বয়সী নাজিব ভোটারদের মধ্যে তরুণ ও মালয় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠদের নিরঙ্কুশ সমর্থন চেয়েছেন।

নির্বাচনে বিএন জোট বিজয়ী হলে ২৬ বছর এবং এর নিচের বয়সীদের কর দিতে হবে না বলে প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া রমজান মাসে অতিরিক্ত দুটি সাধারণ ছুটির দিন ঘোষণা করা হবে এবং রোজার ইদের আগে ৫দিন সব সড়ক ও মহাসড়ক টোল ফ্রি করে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

একই সময়ে দেওয়া ভাষণে মাহাথির ভোটারদেরকে ‘ঘুষের’ কাছে মাথানত না করতে আহ্বান জানিয়েছেন।

‘সামান্য টাকার বিনিময়ে দেশকে চিরকালের জন্য বর্গা দেওয়ার সুযোগ করে দেবেন না,’ ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন দুই দশকেরও বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা মাহাথির।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিএন কিংবা পাকাতান হারপানের কেউই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে ‘ঝুলন্ত পার্লামেন্টে’ সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে উঠতে পারে ইসলামপন্থি দল ইসলাম সে-মালয়েশিয়া (পিএএস)।

মেরদেকার জরিপে অবশ্য দলটির ভালো করার সম্ভাবনা একেবারেই নেই বলে জানানো হয়েছে। ২০১৩ সালের নির্বাচনে পিএএস ২১টি আসনে জয়ী হলেও এবার তারা মাত্র দুটি আসন পেতে পারেও বলেও ধারণা জরিপ সংস্থাটির।

তারা বলছে, আদিবাসী মালয়দের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশেরই সমর্থন পেতে পারেন নাজিব। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি বৃদ্ধি ও অবকাঠামো নির্মাণে বিপুল বিনিয়োগের কারণে তরুণদের মধ্যেও বেশ জনপ্রিয়তা আছে তার।

অন্যদিকে মাহাথির টানতে পারেন শহুরে ভোটারদের একাংশ এবং সংখ্যালঘু আদিবাসী চীনা ও ভারতীয় সম্প্রদায়ের ভোট। ১৯৮১ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে মাহাথির বিভিন্ন স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের ওপর আক্রমণ করেছিলেন বলে তার প্রতি সন্দেহও আছে ভোটারদের একাংশের।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন