শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮ ০১:৪২:৩৩ পিএম

হোটেলে স্বপ্নের দিন কাটালেন সোনাগাছির মেয়ে

আন্তর্জাতিক | বুধবার, ৯ মে ২০১৮ | ০৫:১৫:১৫ পিএম

সোনাগাছির এঁদো গন্ধমাখা ঘর, রাত বাড়লেই খদ্দেরের আনাগোনা, এভাবেই কাটত দিনের পর দিন। হঠাৎ যেন সোনার কাঠি ছুঁইয়ে দিয়ে গিয়েছে কেউ। জুহু বিচের ধারে মুম্বাইয়ের বিলাসবহুল হোটেলে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে বোধহয় স্বপ্ন নাকি বাস্তব সেটা হজম করতে সময় লাগে মেয়েটির। হয়ত লন্ডনেও যেতে হবে ক’দিন বাদে। না, কোনো সিনেমার স্ক্রিপ্ট নয়। কেয়া শেখের জীবনটাই এভাবে পাল্টে গিয়েছে রূপকথায়। খবর টাইমস অফ ইন্ডিয়া।

‘লাইফ অফ পাই’ ছবির প্রযোজক ডেভিড ওমার্কের ছবি ‘লাভ সোনিয়া’তে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছেন কেয়া। ছবিতে রয়েছে ফ্রিডা পিন্টো, ডেমি মুরের মত অভিনেতা। এদের নাম হয়ত কোনোদিন শোনেন নি কেয়া। বছর দুয়েক আগেই এই সুযোগ আসে তার কাছে। এবার ছবির কাজ শেষ। বাগরি ফাউন্ডেশনের লন্ডন ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের হাত ধরে হবে সেই ছবির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার। সেই অপেক্ষাতেই এখন দিন গুনছেন তিনি।

এখনো পাসপোর্ট হয়নি কেয়ার। তবে খুব তাড়াতাড়িই বানিয়ে ফেলবেন পাসপোর্ট।

ছবিতে লিড রোলে রয়েছেন মনোজ বাজপেয়ীও। সোনিয়া নামে একটি মেয়ের গল্প বলা হয়েছে তাবরেজ নূরানি পরিচালিত ওই ছবিতে। সোনিয়ার চরিত্রে অভিনয় করছেন ম্রুনাল ঠাকুর। এই অফার পাওয়ার আগে কোনোদিন চোখের সামনে প্লেন উড়তে দেখেননি কেয়া। সেই প্লেনে চেপেই মুম্বাই যেতে হয়েছিল কেয়াকে। মেঘের মাঝে উড়ছেন তিনি, যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না তার।

তারপর ফাইভ স্টার হোটেল। সামনে তাকালেই আরব সাগর আর জুহু বিচ। স্বপ্ন বললেও কম বলা হয়। রোজ সকালে ঘুম ভাঙলেই ঘরে পৌঁছে যায় রাজকীয় ব্রেকফাস্ট-টোস্ট, ওমলেট, ফল। যেন সেলেব্রিটি।

সব থেকে বড় কথা, শুটিং চলাকালীন কখনো মনে হয়নি তিনি একজন যৌনকর্মী। আর পাঁচজনের মতোই তার সঙ্গে ব্যবহার করত সবাই। দিনে ৩০০ টাকা করে পকেট মানি দেওয়া হত। এত সম্মান আগে কোনোদিন পেয়েছেন বলে মনে করতে পারেন না কেয়া।

একটি সিনে মালকিন ডেকে পাঠাবে সব মেয়েদের। ঠিক যেমনটা সোনাগাছিতে হয়। সেটাই অভিনয় করে দেখাতে হয়েছে কেয়াকে। মালকিনের ভূমিকায় ছিলেন রিচা চাড্ডা। এমনকি নায়িকা নিজেও মাঝে মধ্যে টিপস নিতেন কেয়ার কাছে।

শুটিং শেষ হলে মুম্বাই ঘুরিয়ে দেখানো হত তাদের। শুধু মেয়েটা কাছে ছিল না, এটাই আফসোস কেয়ার। সোনাগাছির আরো এক যৌনকর্মী পায়েল দেবও একই ছবিতে অভিনয় করেছেন। তার অভিজ্ঞতাই একইরকম। এসি ঘর, এসি গাড়ি। তাদের শরীর থেকে র‍্যাশগুলো উধাও হয়ে গিয়েছিল। ত্বক হয়ে উঠছিল উজ্জ্বল। তবু স্বপ্ন তো স্বপ্নই হয়। আবার তাদের ফিরতে হয়েছে সোনাগাছিতে। সেই এঁদো ঘর, সেই খদ্দেরের ভিড়। আবার গায়ে জন্মেছে র‍্যাশ। তবু স্বপ্নের ক’টা দিন গোপনেই রেখেছেন তারা। ক্লায়েন্টদেরও বলেননি সেসব কথা। সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া, কলকাতা২৪।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন