মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৫:১৪:০২ এএম

‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’ স্বপ্ন দুয়ার খুলেছে বাংলাদেশ

জাতীয় | বুধবার, ৯ মে ২০১৮ | ০৮:৫৫:০৩ পিএম

আর মাত্র একদিন পরেই কাল যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিড স্থানীয় সময় বিকাল ৪টা ১০মিনিটে উৎক্ষেপণ করা হবে বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’। আর এর মাধ্যমে বাংলাদেশের আরেকটি স্বপ্নের দুয়ার খুলছে। এ অর্জন বাংলাদেশকে আরো একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বিশেষ করে স্বাধীনতা অর্জনের পর যে বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলেছিলেন তখনকার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকেই শুরু হচ্ছে মহাকাশ যাত্রা।

গাজীপুরের গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফ্লোরিডায় উৎক্ষেপণ কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত হবেন। আর ক্যাপ ক্যানাভেরালে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল।
আন্তর্জাতিক বিশ্ব বলছে, খুব কম দেশেই স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর আগেই আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে এতো এতো উন্নয়নের উদাহরণ আছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ যখন তার স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালনের তিন বছর আগে মহাকাশ যাত্রার মাইলফলক অর্জন করতে যাচ্ছে ঠিক এর ৬১ বছর আগে মহাকাশে প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন। ১৯৫৭ সালে উৎক্ষেপিত সেই কৃত্রিম উপগ্রহটির নাম ছিল স্পুটনিক-১।

সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর বলেছেন, আশ্চর্যজনক হলেও মহাকাশে ইতিহাস তৈরি করা সেই নামটির সাথেই আছে বাংলাদেশ। কেননা ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ উৎক্ষেপণ এবং তা কক্ষপথে রাখার জন্য যে উপগ্রহ কোম্পানি সাথে চুক্তি হয়েছে; সেই কোম্পানির নামও স্পুটনিক। তাদের কাছ থেকেই প্রায় ২১৯ কোটি টাকায় ১৫ বছরের জন্য কক্ষপথ (অরবিটাল স্লট) কেনা হয়েছে।

মার্কিন প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স জানিয়েছে, গত ৫ মে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব টুইটার পেজে জানায়, উৎক্ষেপণের আগে সবচেয়ে বড় ধাপ পেরিয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’। একে বহনকারী ফ্যালকন ৯ রকেটের ‘স্ট্যাটিক ফায়ার টেস্ট’ সফলভাবে সম্পন্ন হয়। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট খরচ হচ্ছে ২ হাজার ৯০২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে দেয়া হচ্ছে ১ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা। আর ঋণ হিসেবে এইচএসবিসি ব্যাংক বাকি ১ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা দিচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে। এর মধ্যে ২০টি ট্রান্সপন্ডার বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে। বাকি ২০টি ট্রান্সপন্ডার বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির জন্য রাখা হবে।

৪ মে স্যাটেলাইটটির পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সফল হওয়ার কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। অরল্যান্ডোর কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্যাটেলাইটটির পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৫ ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ নির্মাণ চুক্তির পর কথা ছিলো ২০১৭ সালেই সেটি মহাকাশে পৌঁছে যাবে। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সেবছরও উৎক্ষেপণের নির্ধারিত দিনও পার হয়ে যায়। এরপর ছয়বার উৎক্ষেপণের তারিখ পরিবর্তন করে অবশেষে আগামী ১০ মে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মহাকাশ যাত্রা শুরুর বিষয়ে আশাবাদী বাংলাদেশ এবং উৎক্ষেপণের দায়িত্ব পাওয়া মার্কিন প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স।

সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল লঞ্চ প্যাড থেকে ১০ মে স্থানীয় সময় বিকেল চারটায় (বাংলাদেশ সময় ১১ মে, রাত ৩টা) বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটকে মহাকাশে পৌঁছে দিতে উড়াল দেবে স্পেসএক্সের ‘ফ্যালকন নাইন’ রকেটের একটি নতুন সংস্করণ।-আমাদের সময়।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন