বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮ ০৭:৩৩:১৮ এএম

সক্রিয় মুসলিম হওয়ার কার্যকরী উপায়

ধর্ম | বৃহস্পতিবার, ১০ মে ২০১৮ | ০৯:৩৪:২৫ এএম

‘সক্রিয় মুসলিম’ ব্যাপারটা অনেকে নতুন শুনছেন। সক্রিয়তার অনেক সংজ্ঞা আছে। অনেকেই বিভিন্ন উপায়ে এটি ব্যাখ্যা করে থাকেন। মূলত সক্রিয়তা হল- ইতিবাচক ধ্রুবক শক্তি, যা আপনাকে পরবর্তী লক্ষ্য অর্জনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পরিচালিত করে বা উদ্ভুদ্ধ করে।
সক্রিয়তা একটি সহজ পদক্ষেপের নাম। এটি এমন একটি গুণ, যা অর্জন করার পর কোন কাজ সম্পূর্ণ না করা পর্যন্ত আপনার মধ্যে অস্থিরতা চলতে থাকবে। সেক্ষেত্রে সক্রিয় মুসলিমের অর্থ দাঁড়ায়, ইসলামের বিধি-বিধান মেনে সর্বদা সচল থাকা এবং ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখা।
আজকে তুলে ধরা হলো সক্রিয় মুসলিম হত্তয়ার জন্য সেরা ১০টি পন্থা বা উপায়। আপনি এর উপর ভিত্তি করে নিজের জীবন অথবা একটি পারিবারিক বা সামাজিক জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারবেন। ইসলাম পালনে পরিপূর্ণতা অর্জনেও সহায়তা করবে এই বিষয়গুলো।
আন্তরিক ইচ্ছা শক্তি বৃদ্ধি করুন
সক্রিয় মুসলিমের ক্ষেত্রে একটি নীতিমালা রয়েছে। সেই নীতিমালা বলে ‘উদ্দেশ্য দৃঢ় করার পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রম করুন।’ এই নীতিমালা একজন সক্রিয় মুসলিমের জীবনের আদর্শ হতে হবে। ইতিবাচক চিন্তা-ভাবনা থাকার পাশপাশি একজন ব্যস্ত মানুষ হিসাবে পরিবারের যত্ন নেওয়া, অন্য সদস্যদের সঙ্গে সুন্দর ও স্বচ্ছ অভিপ্রায় মনে রেখে আন্তরিকতার সঙ্গে ব্যবহার করা, নমনীয়তার সঙ্গে সব বিষয়ে ছাড় দেওয়া, কোন বিষয়ে বাড়াবাড়ি না করা এবং বাবা-মা, শ্বশুর-শ্বাশুরিকে এক রকম চোখে দেখা। তাহলেই ইসলাম ও মুসলিমদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আল্লাহর সাহায্য আসবে।
সর্বদা সক্রিয় থাকুন
জীবনের প্রতি গভীরভাবে লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে জীবনই আমাদেরকে শেখাবে সক্রিয় হতে। সক্রিয় হওয়ার মানে এই নয় আপনাকে খুব বেশি ব্যস্ত হতে হবে। প্রকৃতপক্ষে ব্যস্ততার মতো কাজে থাকতে হবে। অলস প্রকৃতিটাকে ইসলাম পছন্দ করে না। বিশেষ করে আপনার এলাকায় আপনার সক্রিয় ভূমিকা থাকা উচিত যা আপনার সামগ্রিক জীবনের লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি ব্যক্তিগত ও আধ্যাত্মিক উন্নয়নে নিজেকে ব্যস্ত রাখবেন। লেখালেখির মাধ্যমে বা বক্তৃতা প্রদানের মাধ্যমে জীবনকে উপভোগ করবেন। সক্রিয়ভাবে এ কাজগুলো করলে আত্মার প্রশান্তি আপনার হৃদয়ে বাসা বাধবে। আপনি দিন দিন একজন খাঁটি মুসলিম হয়ে উঠবেন। কর্মঠ ও সক্রিয় হওয়া সফল মুসলিমদের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে একটি।
জ্ঞান অন্বেষণ করুন
প্রায়ই বলা হয় যে যদি আপনি একজন ব্যক্তিকে শিক্ষিত করেন, অথবা একজন নারীকে শিক্ষিত করেন, তাহলে আপনি একটি জাতিকে শিক্ষিত করলেন। তাই নারীদের শিক্ষায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। একজন সক্রিয় মুসলিম হতে হলে পড়ালেখার বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসলামি জ্ঞান আহরণ করতে হবে। নারীদের মাদরাসা বা বিদ্যালয়ে শিক্ষা অর্জন করতে হবে। এছাড়া বিভিন্ন কোর্স সেমিনার ও লাইব্রেরির মাধ্যমে সন্তান ও পরিবারের সকল সদস্যদের ব্যক্তিগতভাবে পড়াশোনার প্রতি উৎসাহী করে তুলতে হবে। এভাবেই ব্যক্তি থেকে পরিবার ও পরিবার থেকে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী শিক্ষিত হয়ে উঠবে।
পরিকল্পনার মাধ্যমে আপনার সময় ব্যয় করুন
সক্রিয়তা একটি রহস্য। এর জন্য সর্বপ্রথম এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করা থেকেও নিজেকে দূরে রাখতে হবে। পড়ালেখা, কাজ, ইবাদত ও পরিবারকে সময় দেয়ার মধ্যে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে হবে। শরীরচর্চা করার জন্যেও সময় নির্ধারণ করতে হবে। সন্তানদের জন্য সময় বের করতে হবে। নিজের জন্য সময় বের করতে হবে, যেন কাজ করতে বিরক্তি না আসে। আপনার সময় কীভাবে কাটালে আপনি ভালো থাকবেন সেটা চিন্তা করে বের করুন। মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর (ইবনে কাইয়িম আল জাউজিয়া) বলেন, ‘যদি আল্লাহ্ তাঁর বান্দার প্রতি মঙ্গল কামনা করেন তবে তিনি তার সময়ে বরকত দান করেন। অল্প সময়ে অনেক কাজ করতে তাকে সাহায্য করেন।’
আত্ম সমালোচনা করতে শিখুন
একজন সক্রিয় মুসলিম হিসাবে আপনি আপনার সময় কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করছেন ও আপনার কাজ কতটা এগিয়েছে সেটা নির্ণয় করা কঠিন হতে পারে। আত্মবিশ্বাস তৈরির জন্য তাই নিয়মিত সময় বের করে সারাদিনের কাজের হিসেব করতে হবে। বিশেষ করে দিন শেষে আপনি আপনার দিনটি কীভাবে কাটালেন, কী পেলেন বা কী অর্জন করতে সক্ষম হলেন এবং কী অর্জন করতে পারেননি। এভাবে নিজের কাজের ব্যক্তিগত কাজের ও অর্জনের হিসেব করলেই একদিন আপনি পরিপূর্ণ একজন সক্রিয় মুসলিম হয়ে উঠতে পারবেন।
গুণার্জন করার আপ্রাণ চেষ্টা করুন
একটি হাদিস আছে, মুসলমান হিসেবে আমরা যে যাই করি না কেনো আমাদের নিয়ত বা ইচ্ছে ঠিক রাখতে হবে। নবী করিম সাঃ কে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা ভালোবাসেন যখন আপনি কোন কিছু করেন, তবে তা শ্রেষ্ঠত্বের সঙ্গে করুন’ (মুসলিম)। মুসলামানদের প্রত্যেকের জন্য আবশ্যক সে যেনো মহানবীর গুণাবলি অর্জনের চেষ্টা করেন। আল্লাহ তায়ালা রাসূলকে ভালোবাসেন। আর রাসূলের আদর্শ যিনি ধারণ করতে পারবেন আল্লাহ তাকেও ভালোবাসবেন। তাই ব্যক্তি জীবনকে তাঁর গুণাবলিতে সাজিয়ে তুললেই সক্রিয় মুসলিম হওয়া সম্ভব।
ইতিবাচক ধারণা পোষণ করুন
আমারা তথ্য ও প্রযুক্তির যুগে বসবাস করছি। বর্তমান প্রজন্মের জন্য অনেক দরকারী প্রতিটি প্রযুক্তি সরঞ্জাম। বই থেকে শুরু করে হাজরো তথ্য আর জ্ঞান ছড়িয়ে আছে ইন্টারনেট নেটওয়ার্কে। এগুলোর প্রতি ইতিবাচক ধারণা রেখে ভালো দিকটা বেছে নিতে পারাটাই হলো স্বার্থকতা। সন্তান থেকে শুরু করে পরিবারের সকল সদস্য ব্যবহার করছে ইন্টারনেট। ইন্টারনেট ব্যবহারে তাদেরকে বাধা দিলে, নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই তাদের সামনে শুরু থেকেই ইন্টারনেটের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরতে হবে, সেটা থেকে জ্ঞান অর্জন অব্যহত রাখার চেষ্টা করতে হবে। না হলে হিতে বিপরিত অবস্থা দেখা দিতে পারে। তাই সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
অন্যদের উপকারের জন্য সংগ্রাম করুন
আধুনিক যুগে মানুষের অনেক কিছু শেখার আছে ইতিহাসের কাছ থেকে। মহা মনীষীগণ আমাদের জন্য অনেক খোরাক রেখে গেছেন। সেগুলো জানতে হবে পড়তে হবে। তাদের সবারই একটি উদ্দেশ্য ছিল অন্যের উপকার করা। নিজের উপর অন্যকে প্রধান্য দেয়া। রাসূল সা. বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি তারাই যারা মানবজাতির উপকার করে।’ (বুখারী) তাই যখনই কোনো কাজ করবেন সব সময় নিজেকে প্রশ্ন করুন, ‘আমার এ কাজ অন্যদের উপকার করবে কি?’ তখনই আপনি সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে পারবেন। চারপাশের লোকদের উপকার করলে আপনার হৃদয়েও প্রশান্তি আসবে।
আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন
অবশেষে বলবো একজন সক্রিয় মুসলিম হতে হলে আপ্রাণ চেষ্টা করার সঙ্গে আল্লাহর উপর সব বিষয়ে ভরসা করতে হবে। সবসময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেকোন অর্জনে সফলতা কেবলমাত্র আল্লাহর কাছ থেকে আসে। কুরআনে আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহর উপর ভরসা কর যদি তোমরা বিশ্বাসী হও।’ (সুরা মায়েদা-২৩) সুতরাং আল্লাহর উপর ভরসা করে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। সমাজে অবদান রাখতে হবে। সব কাজে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর নির্ভর করতে হবে। ইনশাআল্লাহ সফলতা আসবেই।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন