বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮ ০৩:৫৩:১০ পিএম

আজ আয়ারল্যান্ডের স্বপ্ন পূরণের দিন

খেলাধুলা | শুক্রবার, ১১ মে ২০১৮ | ০৫:০৩:৪৫ পিএম

আর কয়েক ঘণ্টা পরেই ইতিহাসের পাতায় নাম লিখতে যাচ্ছে আয়ারল্যান্ডের পুরুষ ক্রিকেট দল। ডাবলিনের ম্যালাহাইডের দ্য ভিলেজে আজ ১১তম দল হিসেবে টেস্টে অভিষেক হচ্ছে তাদের। শুক্রবার বিকাল ৪টায় আইরিশদের লাল বলের ক্রিকেটীয় অধ্যায় শুরু হচ্ছে পাকিস্তানের বিপক্ষে।

এটা আয়ারল্যান্ডের অভিষেক টেস্ট নয়- আইরিশ নারী ক্রিকেটাররা ২০০০ সালে তাদের একমাত্র টেস্ট ম্যাচে পাকিস্তানকে ইনিংস ও ৫৪ রানে হারিয়েছিল। কিন্তু ১১ মে স্মরণীয় হয়ে থাকবে পুরুষ ক্রিকেটারদের একটি প্রজন্মের অধ্যাবসায়ের ফসল হিসেবে।

এই ঐতিহাসিক দিনের দেখা পেতে কয়েক জনের অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই আইরিশ ক্রিকেট ভক্তদের। এড জয়েস, একাদশে জায়গা পেলেই সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হিসেবে টেস্টে অভিষেক হবে ৩৯ বছর বয়সীর। তিনি ছাড়াও ও’ব্রায়ান ভ্রাতৃদ্বয় কেভিন ও নিয়ালের সঙ্গে দলপতি উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড গত এক দশক ধরে দেশের ক্রিকেটের বিকাশে ভূমিকা রেখেছেন। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ‘জায়ান্ট কিলার’ খ্যাতি পাওয়া আয়ারল্যান্ড গত বছরের জুনে আফগানিস্তানের সঙ্গে পেয়েছে পূর্ণ টেস্ট সদস্যের স্বীকৃতি।

প্রথম টেস্টের নেতৃত্ব দিতে যাওয়া পোর্টারফিল্ডের রোমাঞ্চ অন্যরকম, ‘যেই ১১ খেলোয়াড় মাঠে নামবে তাদের ও তাদের পরিবারের জন্য চমৎকার উপলক্ষ হবে এটা। কিন্তু আইরিশ ক্রিকেটের এই পর্যায়ে আমাদের নিয়ে আসতে গত কয়েক বছরে যা ঘটেছে সেগুলো মনে রাখতে হবে।’

১১তম টেস্ট দলের অধিনায়ক আরও বলেছেন, ‘অতীতে আমাদের অনেক খেলোয়াড় ছিল- তাদের কয়েক জন আমাদের সঙ্গে এখানে আছে, আবার কয়েক জন নেই। কিন্তু এই পর্যায়ে দেশের ক্রিকেটকে নিয়ে আসায় তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দিতেই হবে। কারণ তাদের ছাড়া এটা সম্ভব হতো না। তারা যা করেছে, সেটা ছাড়া এই শুক্রবার আমাদের দেখার সৌভাগ্য হতো না।’

প্রথম ম্যাচেই আয়ারল্যান্ডের প্রতিপক্ষ টেস্ট র‌্যাংকিংয়ের ৭ নম্বরে থাকা পাকিস্তান। এই দলকেই ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে হারিয়ে বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছিল আইরিশরা। অতীতের এই সুখস্মৃতি তাই প্রথম পদক্ষেপেই গভীর ছাপ ফেলার আত্মবিশ্বাস তৈরি করছে পোর্টারফিল্ড বাহিনীর মনে।

প্রতিপক্ষ অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদের কাছ থেকে শুভ কামনা পেয়েছে আয়ারল্যান্ড, ‘এই ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচের অংশীদার হতে পেরে দারুণ লাগছে। আমাদের সবাই খেলতে উন্মুখ হয়ে আছি। ক্রিকেটে দারুণ ঐতিহ্য রয়েছে আয়ারল্যান্ডের। তারা খেলছে ঘরের মাঠে এবং এই বড় মুহূর্তে আমি তাদের শুভ কামনা জানাই।’

আয়ারল্যান্ডের এই ঐতিহাসিক উপলক্ষের দিনে পাকিস্তান নিয়ে গেছে তরুণ দল, পাঁচ খেলোয়াড় টেস্ট অভিষেকের অপেক্ষায়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গৌরবোজ্জ্বল পারফরম্যান্স করতে চায় আইরিশরা। প্রথম শ্রেণির অভিজ্ঞতা ঢেলে দিতে চায় তারা।

তবে ইতিহাস কিন্তু আয়ারল্যান্ডের পক্ষে নেই। কারণ টেস্ট যাত্রার শুরুতে খুব বেশি দল সফল হতে পারেনি। আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তানের আগে ২০০০ সালে সবশেষ টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়া বাংলাদেশ তাদের প্রথম জয় পেয়েছে ৩৩ ম্যাচ পর।

তারপরও জয় দিয়ে শুরুটা রূপকথার মতো হলেও র‌্যাংকিং টেবিলে উঠে আসবে না আয়ারল্যান্ড। এজন্য তাদের খেলতে ৮টি টেস্ট। অবশ্য পয়েন্ট পাবে তারা- জয়ের জন্য ৯০, আর ৪০ পয়েন্ট ড্র করলে। অন্যদিকে পাকিস্তান একমাত্র টেস্ট জিতলে কেবল একটি পয়েন্ট পাবে। অন্য কিছু হলে হারাবে পয়েন্ট।

তবে সব কিছু তো আর নম্বর, পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার করা যায় না। এটা একটা উপলক্ষ এবং আয়ারল্যান্ড চায় উদযাপন করতে, ফলাফল যা-ই হোক না কেন। আইসিসি, ক্রিকইনফো

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন