শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ ০১:২৪:৫০ পিএম

ও আমাদের ফ্যামিলির এত কিছু কোত্থেকে জানল?: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় | শনিবার, ১২ মে ২০১৮ | ১২:৫৪:২৮ পিএম

‘আলো আঁধারের যাত্রী’ ইতিহাস আশ্রয়ী আনিসুল হকের নতুন উপন্যাস। সম্প্রতি বইটি নিয়ে তিনি বেশ প্রশংসিত হয়েছেন। আর এবার এই বইটি পড়ে প্রশংসা করলেন স্বয়ং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একটু আগে আনিসুল হক নিজেই জানিয়েছেন সে কথা।

তিনি এই বিষয়ে বলতে গিয়ে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে লিখেছেন, ‘শহীদ আজাদের খালাত/ চাচাত ভাই জায়েদ ভাই একবার আমাকে বললেন, আপনার জন্ম কত সালে? কেন? আপনারো কান বড়, আজাদ ভাইয়েরো কান বড়। আপনি কি ১৯৭১-এর পরে জন্মাইছেন ?’

আমি বললাম, জি না। কেন আপনার এ রকম মনে হচ্ছে? জায়েদ ভাই বললেন, আমি আপনাকে যে ঘটনা বলি নাই, মা বইয়ে সেটাও আপনি লিখছেন, এটা আপনি কেমনে পারলেন। আপনি লিখেছেন, আজাদ ভাই করাচি যাওয়ার সময় আমাকে ঘড়ি দিয়ে গেছল। কথা সত্য। এই যে সেই ঘড়ির রিসিট।’

‘এটা আপনি কেমনে জানলেন? আমি বললাম, এটা খুব সহজ। ছুটি গল্পে ফটিক যখন কলকাতা যায়, মাখনকে ঘুড়ি নাটাই দিয়ে যায়। আজাদ ভাই যাওয়ার সময় আপনাকে ঘড়ি দিয়ে যাবেন, ষাটের দশকে সেটাই সম্ভব ছিল। আমি কল্পনা করে নিয়েছি।’

‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এত ব্যস্ততার মধ্যেও সময় করে ‌‘আলো-আঁধারের যাত্রী’ পড়েছেন। তিনি অনেকের কাছেই বইটার প্রশংসা করে বলেছেন, আচ্ছা, ও আমাদের ফ্যামিলির এত কিছু কোত্থেকে জানল?।
আজকে শামসুজ্জামান খান স্যার বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের এক অনুষ্ঠানে এই খবর পাবলিক করে দিয়েছেন।’

‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন আমার সবচেয়ে বড় উৎসাহদাতা আর প্রেরণা, ছোট আপা, শেখ রেহানা। তিনি বলেছেন, লিখতে হলে তো অনেক রিসার্চ করতেই হয়। আমি ‌’আলো-আঁধারের যাত্রী’র পরের অংশ লিখতে শুরু করেছি, প্রধানত ঈদসংখ্যার জন্য।’

‘‘এ প্রেরণাও পেয়েছি ছোট আপার কাছ থেকে, বঙ্গবন্ধুর ওপরে নতুন বই বেরুচ্ছে শুনে আমি বললাম, তাহলে কি আপা আমি পরের অংশ পরে লিখব, বইটা বেরিয়ে যাক, আপা বললেন, ‘না-না, আপনার লেখা আপনি থামাবেন না। লিখে যান।’’

‘আমার ঘরের অবস্থা দেখুন। এই ঘরে কারো প্রবেশ নিষেধ। সবগুলো বই হয় বঙ্গবন্ধুর ওপরে, নয়তো পঞ্চাশ ষাট সত্তরের দশকের স্মৃতিকথা, ইতিহাস। পড়াটা সমস্যা না, মনে রাখাও সমস্যা না, সমস্যা হলো বই খুঁজে না পাওয়া।’

‘অগত্যা একই বই আবার কিনে আনি, জোগাড় করি, তারপর সেটা রাখতে গিয়ে দেখি, আগের বইটা ওই জায়গাতেই আছে। উফফ। বার বার অনুশোচনা হয়, যদি সিস্টেমেটিকালি গবেষণা করার পদ্ধতিটা শেখা থাকত! শোয়াইব জিবরান বোধ হয় আমাকে এই কোর্সটা করাতে পারেন। গবেষণার সময় বই কীভাবে সামলাতে হয়।’

‘তবে কল্পনাও কাজ করে। ‘আলো-আঁধারের যাত্রী বইয়ে আমি লিখেছি, যখন মওলানা ভাসানী আর অলি আহাদ আওয়ামী লীগ ছেড়ে ন্যাপ করছেন, তখন বঙ্গবন্ধু একা একা আবৃত্তি করছেন, যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে। এটা আমি কল্পনা করেছি।’

‘বঙ্গবন্ধু যে রবীন্দ্রনাথের কবিতা নজরুলের কবিতা মুখস্থ বলতে পারেন, সেটা অসমাপ্ত আত্মজীবনীতেই আছে। আর এই রকম সন্ধিক্ষণে তিনি যে `একলা চলো রে’ আবৃত্তি করবেন, তাও স্বাভাবিক। এবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় বললেন, বঙ্গবন্ধু এই রকম সময়ে রবীন্দ্রনাথের এই কবিতা স্মরণ করতেন। এখানেই কল্পনার জয়।এইজন্যই তো আইনস্টাইন বলেছেন, জ্ঞানের চেয়ে কল্পনা মূল্যবান।’

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন